ক্রেতাসন্তুষ্টিতে ব্যবসা সফল

অত্যন্ত স্বাধীনচেতা তিনি! সারা দিন আড্ডা, ক্লাবের ছেলেদের নিয়ে দরিদ্র মানুষের সেবা, সমাজের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেই কাটত সময়। একপর্যায়ে বাবার অসুস্থতায় নিজের মধ্যে পরিবর্তন টের পান। তখন থেকেই উদ্যোগী হন কিছু একটা করার, যার একমাত্র পন্থা ব্যবসা। বদলে যাওয়ার এমন মানসিকতায় স্বল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন একজন সফল ব্যবসায়ী। নতুন বাঁধঘাট, টাউন কালিকাপুর, পটুয়াখালীর ‘মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী এ ব্যবসায়ীর নাম মো. রফিকুল ইসলাম হিরণ। বন্ধন-এর নিয়মিত আয়োজন ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’ পর্বে এবার জানাব সফল এ মানুষটির সাফল্য-রহস্য। সহযোগিতায় ছিলেন আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার মো. সাইফুল ইসলাম ও সিনিয়র টেরিটরি অফিসার শাহেদ মোর্শেদ।

ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম হিরণের জন্ম ১৯৭৮ সালের ১ জানুয়ারি, কালিকাপুর, পটুয়াখালীতে। বাবা মরহুম মো. নুরুল ইসলাম হাওলাদার ও মা মোছা. কুলসুম বেগম। তিনি ১৯৯৬ সালে লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৯৮ সালে করিম মৃধা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর শখের বশে জড়িয়ে পড়েন স্যাটেলাইট কেব্্ল অপারেটর ব্যবসায়। বাবা ছিলেন স্থানীয় পৌরসভার চাকুরে। পাশাপাশি ব্রিক ফিল্ড, ফার্নিচার ও মাছের ঘের ব্যবসার সঙ্গেও ছিল তাঁর সম্পৃক্ততা। বাবার মৃত্যুর পর সব ব্যবসার হাল ধরেন হিরণ। কিন্তু এসব ব্যবসার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারেননি বিধায় পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে শুরু করেন নির্মাণপণ্য ব্যবসা। বর্তমানে তিনি আকিজ সিমেন্ট, পটুয়াখালী টেরিটরির একজন এক্সক্লুসিভ ডিলার।

ব্যবসায়ী হিরণ যখন টাউন কালিকাপুরে নির্মাণপণ্য ব্যবসা শুরু করেন তখন আশপাশে সমধর্মী প্রায় ২০-২৫টি নির্মাণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান; প্রচুর প্রতিযোগিতা। এত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টিকে থাকতে পারবেন কি না তা নিয়ে ছিল তাঁর বেশ সংশয়। প্রতিযোগিতায় টিকতে শুরু থেকেই হন অত্যন্ত কৌশলী। প্রাধান্য দেন গুণগত মানের পণ্য বিক্রিতে ও ক্রেতার সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে। অন্যান্য সিমেন্ট ব্র্যান্ডের পাশাপাশি যুক্ত করেন আকিজ সিমেন্ট। গুণগতমানের এ পণ্যটি স্বল্প সময়ে তাঁকে এনে দেয় অনন্য ব্যবসায়িক সাফল্য। তিনি হয়ে ওঠেন পটুয়াখালীর অন্যতম সেরা একজন বিক্রেতা। খুচরা বিক্রির একপর্যায়ে ২০১৯ সালে গ্রহণ করেন আকিজ সিমেন্ট ডিলারশিপ; বিরত হন অন্যান্য সিমেন্ট ব্র্যান্ড বিক্রি থেকে।

সিমেন্ট ব্যবসার সাফল্যে ব্যবসায়ী হিরণকে বেশ আত্মবিশ^াসী করে তোলে। এ জন্য পর্যায়ক্রমে তিনি ব্যবসায়িক পণ্যে অন্তর্ভুক্ত করেন রড, ইট, খোয়া, বালু, পিভিসি ডোর, বাথরুম ফিটিংস ও স্যানিটারিসামগ্রী। সব ধরনের নির্মাণপণ্য রাখায় বিক্রিও হয় ভালো। গাজী পাইপ, এওয়ান পাইপ, আরএফএল ডোর, এন মোহাম্মদ ডোর ছাড়াও বেশ কিছু পণ্যের ডিলারশিপও রয়েছে তাঁর। অভূতপূর্ব বিক্রয় সাফল্যে তিনি কোম্পানির পক্ষ থেকে পেয়েছেন স্মার্ট টিভি, ফ্রিজ, মাইক্রোওভেন, মোবাইল ফোন, ডিনার সেট, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা প্রভৃতি। এ ছাড়া প্রতিবছর কোম্পানির দেওয়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় পেয়েছেন দুবাই, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের অফার। বর্তমানে তিনটি শোরুম ছাড়াও তাঁর রয়েছে দুটি গোডাউন। পণ্য পরিবহনে রয়েছে ট্রাক ও ট্রলি। এসব ব্যবসায় জড়িত ২০ জন শ্রমিক-কর্মচারী।

ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম হিরণ বিয়ে করেন ২০০৭ সালে। স্ত্রী শারমিন নাহার সাথী। এ দম্পতির দুই মেয়ে। বড় মেয়ে নাজিফা ইসলাম সানজারা পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ছোট মেয়ে আরজা, বয়স আড়াই বছর। ব্যবসার পাশাপাশি হিরণ ব্যবসায়িক ও সামাজিক অঙ্গনেও সমানভাবে সক্রিয়। তিনি পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স ও বন্ধুজন সমিতির অন্যতম সদস্য। এ ছাড়া স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজে রয়েছে তাঁর সরব উপস্থিতি।

ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম হিরণ-এর সাফল্যের অন্যতম কারণ তাঁর সততা ও ক্রেতাদের সঙ্গে আন্তরিকতা। প্রতিটি ক্রেতাকেই তিনি সম্মান করেন, চেষ্টা করেন আপ্যায়ন করতে। তিনি তাঁদের সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিতে সদা সচেতন। ব্যবসাবান্ধব এমন কর্মকাণ্ডে তিনি অব্যাহত রেখেছেন তাঁর অগ্রযাত্রা। নির্মাণপণ্যের এ ব্যবসাটি তাঁর জীবনকে নতুনভাবে চালিত করেছে; এনে দিয়েছে ব্যবসায়িক সাফল্য। এ জন্য এ ব্যবসাটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে করতে চান তিনি। যেসব পণ্য এখন অনুপস্থিত, সেগুলোও চান নিজ ব্যবসায় অন্তর্ভুক্ত করতে।

একনজরে

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম: মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ

অবস্থান: নতুন বাঁধঘাট, টাউন কালিকাপুর, পটুয়াখালী

ব্যবসা শুরু: ২০১০ সালে

নির্মাণপণ্য: সিমেন্ট, রড, ইট, খোয়া, বালু, পিভিসি ডোর, বাথরুম ফিটিংস ও স্যানিটারিসামগ্রী।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ১৩২তম সংখ্যা, আগস্ট ২০২১।

মাহফুজ ফারুক
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top