কুমারখালী, কুষ্টিয়ার ছোট্ট বাজার ‘যদুবয়রা’। বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বিখ্যাত গড়াই নদ। আর এ বাজারেই ব্যবসার পসরা সাজিয়েছেন সফল নির্মাণপণ্য ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান অপু। ‘জাহিদ অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর স্বত্বাধিকারী তিনি। বাজার যেমন ছোট তেমনি তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও আহামরি বড় নয়। অথচ অভিজ্ঞ ও সফল ব্যবসায়ী হওয়ায় বড় বড় নির্মাণপণ্য ব্যবসায়ীও তাঁর কাছে আসেন; পরামর্শ চান কীভাবে ব্যবসায় সফলতা আনা যায়।
নিজেকে তিনি বড় না ভাবলেও সাধারণত যে কয়েকটি কথা বলেন ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তা হচ্ছে- ‘ক্রেতার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখলে পণ্য বিক্রি এমনিই বেড়ে যায়; যত দিন ক্রেতা-ভোক্তাদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক থাকবে, তত দিন ব্যবসায় ক্ষতির কোনো সুযোগ নেই; ক্রেতাদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হলেই ব্যবসায় দেখা দেবে মন্দা, এমনকি ব্যবসায়ী দেওলিয়াও হতে পারেন।’ বন্ধন-এর নিয়মিত আয়োজন ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’ পর্বে এবার জানাব সফল এ ব্যবসায়ীর নানা কথা। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির আঞ্চলিক বিপণন ব্যবস্থাপক জগৎময় কুমার রায়।
ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান ১৯৬৮ সালের ৩ আগস্ট কুমারখালী, কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মরহুম আলতাব হোসেন ও মা ছকিনা বেগম। সংসারে পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বাবা ছিলেন স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক। চরম অমনোযোগী হওয়ায় পেরোনো হয়নি বিদ্যালয়ের গণ্ডি। বাল্যকাল থেকেই ঝোঁক ছিল ব্যবসার প্রতি। ১৯৯৪ সালে সারের ব্যবসার মাধ্যমে শুরু কর্মজীবন। বছর দুয়েক পর জড়িয়ে পড়েন সিমেন্ট ব্যবসায়। কয়েক বছর হলো বিক্রি করছেন আকিজ সিমেন্ট। গুণগতমানের এ পণ্যটি তাঁর ব্যবসায়িক সাফল্যে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। তিনি আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির কুষ্টিয়া-২ টেরিটরির অন্যতম সেরা বিক্রেতা। বর্তমানে তিনি এই নির্মাণপণ্যটির একজন এক্সক্লুসিভ রিটেইলার ও সাব-ডিলার।
ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান ব্যবসায়িক জীবনের শুরু থেকেই সফলভাবে ব্যবসা করছেন। প্রতিনিয়তই বাড়ছে তাঁর ব্যবসায়িক পরিসর। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে তাঁর দুটি শোরুম ও পাঁচটি গোডাউন। গত বছর তিনি কুষ্টিয়া-২ টেরিটরির আকিজ সিমেন্টের সর্বোচ্চ বিক্রেতা হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করেন। এর আগের বছরগুলোতেও তাঁর সাফল্য ছিল নজরকাড়া। এমন অভূতপূর্ব ব্যবসায়িক সাফল্যে তিনি কোম্পানির পক্ষ থেকে পেয়েছেন মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টেলিভিশন, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, ডিজিটাল ক্যামেরা, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ পুরস্কার ও সম্মাননা। এ ছাড়া প্রতিবছর কোম্পানির দেওয়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় পেয়েছেন চীন, মালয়েশিয়া, ভারত ভ্রমণসহ ওমরাহ হজের অফার।
যদুবয়রার মতো ছোট্ট একটি বাজারে ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান অনেকটা নিভৃতেই ব্যবসা করছেন। তা সত্ত্বেও তাঁর বিক্রয়-সাফল্য নজরকাড়া। কিন্তু সহজেই আসেনি এ সাফল্য। শুরু থেকেই প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে। টিকে থাকতে হয়েছে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায়। বিক্রি বাড়াতে ক্রেতা ছাড়াও বাজারের অপরাপর ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও গড়েছেন সখ্য। কোম্পানির কাছ থেকে পণ্য নিয়ে অন্যান্য ব্যবসায়ীর কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করেছেন। তা ছাড়া আকিজ সিমেন্টের ব্র্যান্ড ইমেজ তাঁর ব্যবসার পরিসর বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। তদুপরি এলাকায় নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতা থাকায় নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বিক্রির ক্ষেত্রে তিনি যা সিদ্ধান্ত দেন তা সবাই একবাক্যে মেনে নেন। ব্যবসায়িক জীবনের শুরু থেকেই তিনি নগদ টাকায় পণ্য কিনতেন, কখনোই বাকিতে নয়। এ জন্য বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যবসায়ীর কাছে রয়েছে তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা।
ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান বিয়ে করেন ২০০৩ সালে। স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। এ দম্পতির এক ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে সাব্বির হোসেন ফরিদপুর পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে পাওয়ার বিষয়ে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। ছোট মেয়ে ফাতেমা খাতুন যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। সিমেন্ট ব্যবসার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কাজেও জড়িত। বর্তমানে তিনি যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ যদুবয়রা জামে মসজিদের সদস্য এবং ছাতিয়ান গোরস্তানের সহসভাপতি। তাঁর বড় ভাই শিহাব উদ্দিনও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত রয়েছেন একই ব্যবসায়। দুজনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়ই বাড়ছে এ ব্যবসার পরিসর।
একনজরে
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম: জাহিদ অ্যান্ড ব্রাদার্স
অবস্থান: যদুবয়রা, কুমারখালী, কুষ্টিয়া
ব্যবসা শুরু: ১৯৯৪
পণ্য: সিমেন্ট
সাফল্যসূত্র
কোম্পানির কাছ থেকে পণ্য নিয়ে অন্যান্য ব্যবসায়ীর কাছে পাইকারি বিক্রি করতেন। তদুপরি আকিজ সিমেন্টের ব্র্যান্ড ইমেজ তাঁর ব্যবসার পরিসর বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। তা ছাড়া এলাকায় নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতা থাকায় নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বিক্রির ক্ষেত্রে তিনি যা সিদ্ধান্ত দেন তা সবাই একবাক্যে মেনে নেন। ব্যবসায়িক জীবনের শুরু থেকেই নগদ টাকায় পণ্য কিনতেন, কখনোই বাকিতে নয়। এ জন্য বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যবসায়ীর কাছে রয়েছে এ ব্যবসায়ীর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ১১৯তম সংখ্যা, মার্চ ২০২০।