শ্রমে আনে ব্যবসায়িক সাফল্য

ঐতিহাসিক গঙ্গার নবরূপই আসলে নবগঙ্গা। অনুমান করা হয় নদীটির নামকরণটাও হয়েছে এভাবেই। চুয়াডাঙ্গা থেকে পূর্বে প্রবাহিত হয়ে মাগুরার কুমার নদের সঙ্গে মিশেছে নদীটি। ময়ূরের আঁখির মতো স্বচ্ছ জলের এ নদীটি এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে আলোকদিয়া বাজারের কোল ঘেষে। এ জনপদের একজন সফল তরুণ নির্মাণপণ্য ব্যবসায়ী কাজী জাকির হোসেন। আলোকদিয়া বাজার, মাগুরার ‘কাজী ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী তিনি। বন্ধন-এর নিয়মিত আয়োজন ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’ পর্বে এবার জানাব তরুণের ব্যবসায়িক সাফল্য রহস্য। সঙ্গে ছিলেন আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক বিপণন কর্মকর্তা আক্তার হোসেন রিপন।

ব্যবসায়ী কাজী জাকির হোসেন ১৯৮৪ সালের ৩ মার্চ পুখুরিয়া, মাগুরায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা কাজী আবুল খায়ের ও মা মোছা. হাসিনা বেগম। তিনি আলোকদিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে মাধ্যমিক এবং আলোকদিয়া কলেজ থেকে ১৯৯৭ সালে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর বছর কয়েক ঘুরে-ফিরেই অতিবাহিত হয়। একপর্যায়ে কর্মজীবন শুরু করার তাগিদ অনুভব করেন। তাঁর বাবা ছিলেন তার ব্যবসায়িক সাফল্যের আদর্শ। এ জন্য ইচ্ছে ছিল একজন ব্যবসায়ী হওয়ার। তাঁর সেই আকাক্সক্ষা পূর্ণ হয় ২০০৬ সালে। শুরু করেন সিমেন্ট ও ঢেউটিন নিয়ে নির্মাণপণ্য ব্যবসা। বর্তমানে তিনি আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির মাগুরা টেরিটরির একজন এক্সক্লুসিভ রিটেইলার; একই সঙ্গে অন্যতম সেরা বিক্রেতা।

ব্যবসায়ী কাজী জাকির হোসেন ব্যবসা শুরুর স্বল্প সময়ের মধ্যেই পান অভাবনীয় ব্যবসায়িক সাফল্য। এতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে আকিজ সিমেন্ট। গুণগতমানের এ পণ্যটি তাঁকে এনে দিয়েছে অনন্য ব্যবসায়িক সাফল্য।     ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাগুরা টেরিটরির সর্বোচ্চ আকিজ সিমেন্ট বিক্রেতার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। তার আগের বছরে ছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিক্রেতা এবং বিগত বছরগুলোতে সেরা পাঁচজন ব্যবসায়ীর অন্যতম। এভাবে ক্রমেই তিনি পণ্যটি বিক্রিতে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর এমন অভূতপূর্ব বিক্রয় সাফল্যে তিনি আকিজ সিমেন্ট ও অন্যান্য কোম্পানির পক্ষ থেকে পেয়েছেন ফ্রিজ, স্মার্ট টিভি, ল্যাপটপ, ভিডিও ক্যামেরা, মাইক্রোওভেন, স্মার্টফোন, ডিনার সেট, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা প্রভৃতি। এ ছাড়া প্রতিবছর কোম্পানির দেওয়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় পেয়েছেন ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের অফার।

ব্যবসায়ী কাজী জাকির হোসেন হয়তো অনেক কম সময়ে নির্মাণপণ্যে ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করেছেন কিন্তু তা মোটেও সহজ ছিল না। কারণ বাজারে আরও অনেক প্রতিযোগী নির্মাণপণ্য ব্যবসায়ী বিদ্যমান। তবে এলাকায় নিজের পরিচিতি ও ব্যবসায়িক সাফল্যের পেছনে রয়েছে কৌশল, পরিশ্রম, ক্রেতা সংযোগ ইত্যাদি পদক্ষেপের কারণে দিন দিন ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকে। মুনাফাকে প্রাধান্য না দিয়ে তিনি মনোযোগী হন কীভাবে বিক্রি বাড়ানো যায় সেদিকে। ক্রেতাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন; চেষ্টা করেন সুসম্পর্ক রাখার। কারও বাকিতে পণ্য নেওয়ার প্রয়োজন হলে তাঁকে নিরাশ করেন না। ক্রেতাদের দোরগোড়ায় যান বিক্রি বাড়াতে। এভাবেই তিনি এগিয়ে চলেছেন তাঁর কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে।

ব্যবসায়ী কাজী জাকির হোসেন বিয়ে করেছেন ২০১০ সালে। তাঁর সহধর্মিণী নীলা। তাঁদের এক মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ে পারিশা পুখুরিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে। ছোট ছেলে কাজী আইদ জাবের, বয়স ৩ বছর। যৌথ পরিবারে বাস এ ব্যবসায়ীর। বড় ভাই কাজী হুমায়ন কবির শামিম, তাঁর অবর্তমানে ব্যবসাতে সময় দেন; নানাভাবে সহযোগিতা করেন। পাশর্^বর্তী বাজারে তাঁর ছোট ভাই কাজী নজরুল ইসলামেরও নির্মাণপণ্যের ব্যবসা রয়েছে। আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির প্রতিনিধিরাও তাঁর ব্যবসা উন্নয়নে রাখছেন যথেষ্ট অবদান। বিশেষ করে স্থানীয় বিপণন কর্মকর্তা আক্তার হোসেন রিপনের কথা না বললেই নয়। ব্যবসায় সফল জাকির হোসেন তাঁর প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও অবসর কাটে টিভি দেখে। খেতে পছন্দ করেন ইলিশ মাছ।

আলোকদিয়া বাজার; মাগুরার ছোট্ট একটি বাজার। মফস্বলের এ বাজারে সিমেন্ট ব্যবসা করে একটি জেলার বেস্ট সেলার হওয়া সহজ ব্যাপার নয়, যেখানে শহরজুড়ে রয়েছে অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী। কিন্তু তিনি ব্যবসাকে ভালোবাসেন বিধায় শ্রেষ্ঠ হতে পেরেছেন। ব্যবসা স্বাধীন পেশা হলেও নিজের ব্যবসার জন্য সব কিছু করা যায়। ব্যবসাতে যত সময় ও শ্রম দেওয়া যায়, ততই উন্নতি আসে ব্যবসায়। আর এই নীতি মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন সফল ব্যবসায়ী কাজী জাকির হোসেন।

একনজরে

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম: কাজী ট্রেডার্স

অবস্থান: আলোকদিয়া বাজার, মাগুরা

পণ্য: সিমেন্ট

সাফল্যসূত্র

নিজস্ব পরিচিতি, ব্যবসায়িক কৌশল, পরিশ্রম, ক্রেতা সংযোগের কারণে দিন দিন ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। মুনাফাকে প্রাধান্য না দিয়ে তিনি মনোযোগী কীভাবে বিক্রি বাড়ানো যায় সেদিকে। ক্রেতাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন; চেষ্টা করেন সুসম্পর্ক রাখতে। কারও বাকিতে পণ্য নেওয়ার প্রয়োজন হলে তাঁকে নিরাশ করেন না কখনো।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ১১৮তম সংখ্যা, ফেব্রুয়ারি ২০২০।

মাহফুজ ফারুক
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top