এগিয়ে যাও লক্ষ্য পূরণে 

শুধু স্বপ্নই দেখো না বরং লক্ষ্য তৈরি করো এবং সেই লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাও! এতে যেমন স্বপ্ন হবে সত্যি, তেমনি জীবনেও আসবে সফলতা। বিশে^র খ্যাতনামা সফল উদ্যোক্তারা নিজেদের উন্নতির চরম শিখরে ওঠার মূলমন্ত্র হিসেবে এই চিরন্তন বাণীগুলোকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন, তেমনি অন্যদের পরামর্শ দেন সাফল্য লাভে। দিকনির্দেশনামূলক এমন উপদেশ যদি মেনে চলেন, আমি নিশ্চিত আপনিও সফল হবেন।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন উদীয়মান তরুণ নির্মাণপণ্য ব্যবসায়ী প্রকৌশলী মো. আলী হোসেন। রাজধানীর সাইনবোর্ড, কদমতলীতে অবস্থিত ‘মেসার্স নির্মাণ ট্রেডিং করপোরেশন’-এর স্বত্বাধিকারী তিনি। বন্ধন-এর ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’র এবারের পর্বে জানাব তাঁরই সফলতার গল্প। সহযোগী ছিলেন আকিজ সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. ফজলুর রহমান।

প্রকৌশলী মো. আলী হোসেনের জন্ম ২ মার্চ ১৯৭৯ খুলনার খালিশপুরে। বাবা মো. আবদুুল খালেক আর মা জাহানারা খালেক। তিন ভাই ও দুই বোনের সবার ছোট। প্লাটিনাম উচ্চবিদ্যালয়, খালিশপুর, খুলনা থেকে ১৯৯৪ সালে মাধ্যমিক এবং খুলনা পলিটেকনিক সরকারী কলেজ থেকে ১৯৯৭ সালে ডিপ্লোমা-ইন-সিভিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এআইইউবি) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন ২০০১ সালে। কর্মজীবনের শুরুতে প্রথমে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এবং পরে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রকল্পে সাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বছর কয়েক চাকরি করেন। একপর্যায়ে শারীরিক অসুস্থতার জন্য চাকরি ছেড়ে দেন। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বিডি বিল্ডার্স নামে একটি কনস্ট্রাকশন কনসালটেন্সি ফার্ম। এরপর ২০১৪ সালে শুরু করেন নির্মাণপণ্য ব্যবসা। বর্তমানে তিনি আকিজ সিমেন্টের শ্যামপুরের একজন এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর। 

প্রকৌশলী আলী হোসেন নির্মাণপণ্য ব্যবসা শুরু করেছেন বছর কয়েক হল। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন নেহাত সহজ নয়। কিন্তু তিনি এ অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন। যদিও তাঁর ছিল না নির্মাণপণ্য ব্যবসার কোনো ধরনের পূর্বঅভিজ্ঞতা। তবে একজন পুরকৌশলী হওয়ায় এ ব্যবসাটি হয়েছে তাঁর জন্যে শাপেবর। নির্মাণকাজের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকায় জানতেন গুণগতমানের নির্মাণপণ্য সম্পর্কে। জানতেন উন্নয়নের এ যুগে ব্যবসাটির সম্ভাবনা সম্পর্কে। আর তাই ব্যবসার শুরুতেই বেছে নেন গুণগতমানের আকিজ সিমেন্ট। প্রথমে ব্র্যান্ডটির এসিআরডি রিটেইলার, এরপর নিজ ব্যবসায়িক দক্ষতার কারণে প্রাইম সেলার আর ঠিক পরের বছরেই হন এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর। এ ছাড়া ব্যবসায়িক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ কোম্পানির পক্ষ থেকে পেয়েছেন মূল্যবান উপহারসামগ্রীসহ অর্জন করেছেন সুইজারল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভুটান ভ্রমণে কোম্পানি অফার। 

সফল ব্যবসায়ী কাম প্রকৌশলী আলী হোসেন বিয়ে করেছেন ২০০৩ সালে। স্ত্রী মারিয়া হোসেন। সুখী এ দম্পতির দুই ছেলে। বড় ছেলে সামিন সাদমান খান আলফ্রেড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভার্সন এইটে এবং ছোট ছেলে তাসিন তেহামি খান স্ট্যান্ডার্ড টুতে পড়ছে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ব্যবসায়িক কর্মব্যস্ততা থাকলেও চেষ্টা করেন পরিবারকে সময় দিতে; তাদের নিয়ে ঘুরতে। নির্মাণপণ্য ব্যবসা ছাড়াও প্রতিনিয়তই ব্যস্ত রয়েছেন কনসালটেন্সিতে। স্থাপনার ডিজাইন, ড্রয়িং ও নির্মাণ কাজেও তাঁকে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়। এখন পর্যন্ত তিনি সহ¯্রাধিক ভবন ও ৫১ টি মসজিদের ডিজাইন ও নির্মাণকাজ করেছেন। যখন ডিজাইন করেন চেষ্টা করেন নিজের মতো করে করতে; কাউকে অনুকরণ না করতে। বর্তমানে তাঁর রড-সিমেন্টের দুইটি শোরুম এবং কনসালটেন্সি ফার্মের দুটি শাখা অফিস রয়েছে। তাঁর এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন প্রায় ২২ জন কর্মচারী।

ব্যবসায়ী আলী হোসেন একজন পুরকৌশলী হিসেবে অনুধাবন করেছেন সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্মাণ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণার কত অভাব! ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে তাঁরা রাজমিস্ত্রি বা নির্মাণপণ্য বিক্রেতার সিদ্ধান্তের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে ভালো মানের পণ্য ব্যবহার থেকে তাঁরা অনেকাংশে বঞ্চিত। এ জন্য কনসালটেন্সির পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেন নির্মাণপণ্য ব্যবসার। তা ছাড়া প্রকৌশলী বলে বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কমিশন অফার করত তাঁকে। কিন্তু সেটা গ্রহণ করাকে কখনোই ন্যায্য মনে করেননি। এ জন্য ব্যবসার মাধ্যমে গুণগতমানের পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেন। এতে ক্রেতা ও গ্রাহকেরা একদিকে যেমন গুণগত মানের নির্মাণপণ্য পান, অন্যদিকে পান ভবন নির্মাণ সম্পর্কিত মূল্যবান পরামর্শ। নির্মাণপণ্যের মতো বিশেষায়িত ব্যবসায় কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন পেশাজীবীরা এলে তা যেমন নির্মাণপণ্য ব্যবসার জন্য মঙ্গল, তেমনি আবাসন নির্মাতা তথা ক্রেতাদের জন্যও সমান কল্যাণকর। 

প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১০৭তম সংখ্যা, মার্চ ২০১৯

মাহফুজ ফারুক
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top