আখাউড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া তথা দেশের প্রসিদ্ধ এক স্থান। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলার একবারেই সীমানাঘেঁষা জনপদ এটি। আগে অঞ্চলটি ছিল হরিকেল জনপদের অংশ। কালক্রমে তা ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে আখাউড়া বাংলাদেশের অন্যতম স্থলবন্দর ও বৃহৎ রেলওয়ে জংশন। দেশীয় রপ্তানি উন্নয়নে যা সৃষ্টি করেছে অভাবনীয় এক বিপ্লব। সমৃৃদ্ধ এ জনপদের একজন সফল নির্মাণপণ্য ব্যবসায়ী মো. ফারুক আহমেদ। গাজীর বাজার, আখাউড়া, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার ‘মেসার্স উর্মি ট্রেডার্স’-এর কর্ণধার যিনি। বন্ধন-এর ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’ পর্বের এ সংখ্যার সফলমুখ তিনিই। আকিজ সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের টেরিটরি ম্যানেজার মো. মশিউর রহমানের সহযোগিতায় জানাব তাঁরই সাফল্য-কাহিনি।
ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদের জন্ম ১৯৮২ সালের ১ ডিসেম্বর দ্বিজয়পুর, আখাউড়া, ব্রাক্ষণবাড়িয়ায়। পিতা হাজি মো. আব্দুল লতিফ ও মা মোছা. নেহেরা খাতুন। তিনি ১৯৯৮ সালে হিরাপুর শহীদ নোয়াব মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ২০০০ সালে শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ, আখাউড়া থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে জড়িয়ে পড়েন পেশাজীবনে, হয়ে ওঠেন পুরোদস্তুর নির্মাণপণ্য ব্যবসায়ী। বর্তমানে তাঁর ব্যবসাসম্ভারে রয়েছে সিমেন্ট, রড, টিন, সেনেটারি ও হার্ডওয়্যারসামগ্রী। এককথায় গৃহনির্মাণের যাবতীয় উপকরণ পাওয়া যায় তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে।
ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান ফারুক আহমেদ। সংসারে তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট। বাবা প্রথমজীবনে ধান, চাল, সার, কীটনাশক অতঃপর রড, সিমেন্ট ও টিনের ব্যবসায় যুক্ত হন। মূলত সে সূত্র ধরেই এ ব্যবসায় আসা। বাল্যকাল থেকেই ব্যবসাটির সঙ্গে পরিচিতি তাঁর। পড়ালেখার পাশাপাশি অবসরে পারিবারিক ব্যবসায় সময় দেন। নির্মাণপণ্যের এ ব্যবসাটি পরিচালনা করতেন তাঁর বড় ভাই হাজি মো. আবুল খায়ের। পরে তিনি এ প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব ফারুক আহমেদের ওপর ছেড়ে দিয়ে আখাউড়া শহরে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে নির্মাণপণ্য ব্যবসাটির হাল ধরেন। এ ছাড়া এ ব্যবসায় সার্বিক সহযোগিতা ও দেখভাল করেন তাঁর মেজো ভাই হাজি মো. ইসহাক মিয়া।
ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ উত্তরাধিকার সূত্রে নির্মাণপণ্যের এ ব্যবসাটির অধিকারী হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবসাটি ছিল সীমিত পরিসরে। তিনি তাঁর মেধা, পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ক্রমেই এর পরিসর বাড়াতে থাকেন। যদিও আগে থেকেই ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে এলাকায় যথেষ্ট সুনাম রযেছে তাঁদের, তা সত্ত্বেও ব্যবসা উন্নয়নে এই সুনামের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব কৌশল, সততা, নিষ্ঠা, প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা এবং ন্যায্য দামে গুণগতমানের পণ্য বিক্রির মাধ্যমে নিজেকে নিয়ে যান প্রতিষ্ঠিত ও সফল ব্যবসায়ীর কাতারে। শুরু থেকেই বিক্রি করছেন আকিজ সিমেন্ট। সফলতার সঙ্গেই বিক্রি করছেন পণ্যটি। বিগত পাঁচ বছর স্থানীয় পর্যায়ে তিনি আকিজ সিমেন্টের একজন এক্সক্লুসিভ রিটেইলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির বি.বাড়িয়া টেরিটরিতে নির্বাচিত হন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিক্রেতা। এ ছাড়া সব সময় ছিলেন সেরা বিক্রেতার তালিকায়। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পণ্য বিক্রি আর কোম্পানি প্রদত্ত বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে পেয়েছেন মোটরসাইকেল, এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ট্যাব, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ নানা উপহারসামগ্রী। এ ছাড়া অফার পেয়েছেন মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভুটান, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের।
ব্যবসায়ী মো. ফারুক আহমেদ বিয়ে করেন ২০১০ সালে। সহধর্মিণী মোছা. নয়ন তারা। এ দম্পতির এক ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে আব্দুর রহিম, আনন্দপুর নাসিরুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। ছোট মেয়ে ইকরা, বয়স চার বছর। এ ব্যবসার পাশাপাশি তিনি আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ভারতের সঙ্গে তাঁর রয়েছে পাথর, পিভিসি ডোর ও হাউস হোল্ডসামগ্রীর রপ্তানি ব্যবসা।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ৯৯তম সংখ্যা, জুলাই ২০১৮।