শীতের উষ্ণতায় রুম হিটার

সময়টা শীতের। ঘন কুয়াশা আর কনকনে হিমেল হাওয়া দখল করে নিয়েছে প্রকৃতিকে। চারদিকে বিরাজ করছে ঠান্ডা আবহাওয়া। হীম শীতের উষ্ণতায় গ্রামের মানুষেরা কাঠ-খড় পুড়িয়ে আগুনের উত্তাপ উপভোগ করলেও শহরে তা সম্ভব নয়। যদিও একটা সময় ছিল যখন অভিজাত শ্রেণির মানুষের বাসায় থাকত ফায়ার প্লেসের ব্যবস্থা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞানের উদ্ভাবন প্রক্রিয়ায় এসেছে অভূতপূর্ব পরিবর্তন। শীতের প্রখরতাকে সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনতে এখন আর বাড়তি কোনো ঝামেলা করতে হয় না। বরং খুব সহজেই ঘরের তাপমাত্রাকে উষ্ণ ও আরামদায়ক করে তোলে রুম হিটার নামক বৈদ্যুতিক যন্ত্রটি। রুম হিটারকে বিজ্ঞানের একটি বিস্ময়কর আবিষ্কারও বলা যেতে পারে। বিদ্যুতের সাহায্যে তাপ উৎপাদনের মাধ্যমে ঠান্ডা দূরীভূত করে নিমেষেই রুমের তাপমাত্রাকে আরামদায়ক করে তোলে দরকারি এ অনুষঙ্গটি।

আমাদের দেশে রুম হিটারের প্রচলন শুরু হয় ১৫-১৬ বছর আগে। তবে বর্তমানে রুম হিটার একটি বহুল প্রচলিত বৈদ্যুতিক যন্ত্র। যাঁদের ঠান্ডাজনিত রোগ যেমন- হাঁপানি, অ্যাজমা, কোল্ড অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য শীতকালে প্রয়োজন একটু বাড়তি উষ্ণতার। ঘরে নবজাতক, ছোট শিশু কিংবা মুরব্বি থাকলেও দরকার হয় কিছুটা বাড়তি উত্তাপের। তাই এই ঠান্ডার মৌসুমে প্রায় অনেক পরিবারেই রুম হিটার জায়গা করে নেয় একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হিসেবে। ছোট, মাঝারি, বড় এই তিন আকারের রুম হিটার পাওয়া যায় বাজারে।

সেক্ষেত্রে রুমের আয়তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচন করুন দরকারি রুম হিটারটি। এ যন্ত্রটি সাধারণত ১০০০ ওয়াট থেকে ২৫০০ ওয়াট পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে আপনি আপনার সুবিধামতো তাপমাত্রা বাড়িয়ে বা কমিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন উষ্ণতার মাত্রাকে। গঠনগত দিক থেকে শীত নিবারণ যন্ত্র প্রধানত তিন রকমের হয়ে থাকে। ব্লেয়ার বা পাখাযুক্ত। ফ্ল্যাশ বা তামার তার জড়ানো রডযুক্ত এবং কোয়াচ বা হ্যালোজেন-জাতীয় আলোযুক্ত। গোলাকার টেবিল ফ্যান আকৃতির ও এসি আকৃতির রুম হিটারই বেশি চলছে বর্তমানে। ক্রেতাকে তাঁর সাধ্য ও পছন্দ অনুযায়ী বেছে নিতে হবে প্রয়োজনীয় শীত নিবারণ যন্ত্রটিকে। প্রায় সব ধরনের রুম হিটারের সঙ্গে ফ্যান লাগানো থাকে। এতে করে শুধু শীতকালেই নয়, গরমকালেও সেবা পাওয়া যাবে এই অনুষঙ্গটি থেকে। প্রায় সারা বছর কমবেশি ব্যবহৃত হওয়ায় বাড়বে পণ্যটির আয়ুও। ব্র্যান্ডের প্রায় সব রুম হিটারের সঙ্গে পাওয়া যাবে এক বছরের বিক্রয়োত্তর সেবাও। ফলে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেও মেরামত করে ব্যবহার করা যাবে বৈদ্যুতিক এ যন্ত্রটিকে।

অনেকেই মনে করেন, রুম হিটার ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসবে ফলে গুনতে হবে বাড়তি টাকা। এ ক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো দুই হাজার ওয়াটের রুম হিটার আধা ঘণ্টা চালালে খরচ হয় এক ইউনিট বিদ্যুৎ। মাত্র তিন-চার ঘণ্টা চালিয়ে রাখলেই ঘর অনেকক্ষণ পর্যন্ত গরম তথা উষ্ণ থাকে। ফলে সব সময় চালিয়ে রাখার প্রয়োজন পড়ে না এই যন্ত্রটিকে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় অনেকাংশে। উষ্ণতার এই যন্ত্রটিকে কক্ষের এমন স্থানে রাখা উচিত যেখান থেকে সবখানে সমানভাবে উত্তাপ পৌঁছাতে পারে। তবে রুম হিটার ব্যবহার করতে হলে কিছু বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। রুম হিটার ব্যবহারের ফলে কক্ষের তাপমাত্রা অধিক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেক্ষেত্রে কক্ষের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষার্থে একটি পানিভর্তি পাত্র রেখে দিন কর্নারে। ফলে সামঞ্জস্য থাকবে কক্ষের আর্দ্রতায়।

যেহেতু রুম হিটার কাঠের জন্য ক্ষতিকর, তাই এমন রুমে যন্ত্রটি ব্যবহার করা উচিত, যেখানে কাঠের আসবাব নেই। যন্ত্রটি বিদ্যুৎ চালিত হওয়ায় শিশুদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। তাই ঘরের এমন জায়গায় যন্ত্রটি রাখুন, যা শিশুদের হাতের নাগালের বাইরে থাকবে। যেহেতু রুম হিটার বেশি ওয়াটের হয়ে থাকে, সেহেতু আলাদা বৈদ্যুতিক বোর্ড ব্যবহার করুন।

ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্র্যান্ড উভয় ধরনের রুম হিটার পাওয়া যায় বাজারে। তবে ব্র্যান্ডের রুম হিটার কেনার প্রবণতাই তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ করা যায় ক্রেতাদের মধ্যে। নোভা, সিমাকো, ডিলঙ্গি, কমেট, নোভেনা, রোওয়া, ইয়ামদা, সনি, সিমেন্স, ওশান, সাচি, সনিক, সিঙ্গার, ভেনা, হিটাচি প্রভৃতি ব্র্যান্ডের রুম হিটারগুলোই রয়েছে ক্রেতা চাহিদার শীর্ষে। রিমোট কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রিত রুম হিটারগুলো পাবেন ওয়াট, আকার ও কোম্পানিভেদে চার হাজার থেকে চৌদ্দ হাজার টাকার মধ্যে। সাধারণ রুম হিটার মিলবে আড়াই হাজার টাকা থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে। যেকোনো ইলেকট্রনিকস শোরুমে পাওয়া যাবে উষ্ণতার সঙ্গী এ যন্ত্রটি। এ ছাড়া রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মার্কেট, নিউ মার্কেট, নূরজাহান মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, গুলশান ডিসিসি মার্কেট, মিরপুর, ফার্মগেট, শ্যামলীসহ দেশের শহরগুলোর প্রায় সকল ইলেকট্রনিকসের দোকানে মিলবে ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড দুই রকমের শীত নিবারণ যন্ত্রই।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৯৩তম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০১৮।

শ্রাবন্তী সোমা
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top