মেশ মিডিয়া ফ্যাসাদ
ভবনের গায়ে আলোর ঝলকানি

ভবনের বহির্দেয়াল বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড হিসেবে অনেক আগ থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষত শহরাঞ্চলের বহুতল বাণিজ্যিক ভবন যেন এ রকম বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়। নিজস্ব বিজ্ঞাপন প্রচারণা ছাড়াও এসব ভবনের দেয়াল অন্যদেরও ভাড়া দেওয়া হয়। দেয়াল তাই প্রচারের আরেকটা মাধ্যম হিসেবে ক্রমেই আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। আর প্রচারের এই মাধ্যমটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে দেয়ালের গায়ে আলগা পর্দা আর কৃত্রিম আলোকবাতির ব্যবহার। এলইডি (Light Emitting Diode-LED) বাতির আবিষ্কার আর ব্যবহারের বৈচিত্র্য বিজ্ঞাপনে এনেছে অনন্য এক মাত্রা। রাতের অন্ধকারে রাস্তার দুপাশে ঝলমলে আলোর বিজ্ঞাপনী পর্দা যেন উৎসবের আবহ সৃষ্টি করে। শুধু ভবনের দেয়ালের গায়েই নয়, এখন এলইডি পর্দার রাজত্ব প্রায় সব ধরনের বিলবোর্ডে। একঘেয়ে স্থির বিজ্ঞাপনী চিত্রকে পেছনে ফেলে এই মুহূর্তে ছবির প্যাটার্ন বদলে যাচ্ছে। মনোযোগ আকর্ষণ কিংবা বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজটি এলইডি মিডিয়ার পর্দা করছে সুচারুভাবে। এ ছাড়া ব্রেকিং নিউজ, খেলার স্কোর কিংবা কোনো সতর্কবাণী জানাতেও এ ধরনের মিডিয়ার পর্দার ব্যবহার নেহাত কম নয়।

নানামাত্রিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এলইডি পর্দার বিকল্প খোঁজা হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। এলইডি পর্দার হাজারটা সুবিধা থাকার পরেও বড় একটা অসুবিধা হচ্ছে দিনের আলোয় এর অকার্যকারিতা। আরেকটি বিষয় এ ধরনের মিডিয়া স্ক্রিন উন্মুক্তভাবে ব্যবহার করা যায় না। এই অসুবিধাগুলো দূর করার উদ্দেশ্যে নতুন এক প্রযুক্তির উদ্ভাবন জরুরি হয়ে পড়ে। আর এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে আসে জিকেডি- (GKD-Gebr. Kufferath AG) এবং এজি এইট মিডিয়া ফ্যাসাদ জিএমবিএইচ (AG4 Media Facade GmbH) নামের দুটি কোম্পানি। নতুন এই প্রযুক্তির প্যাটেন্টটি মূলত জিকেডির নামে। প্রতিষ্ঠান দুইটি জয়েন্ট ভেনচার হিসেবে দিনের আলোয়ও সমান কার্যকর ও স্বচ্ছ মিডিয়ালাইজেশনের সমন্বিত এলইডি প্রোফাইল উদ্ভাবনে সক্ষম। তাই মিডিয়া স্ক্রিন হিসেবে পাওয়া যায় সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক মাধ্যম, সঙ্গে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি।

জিকেডি আমেরিকার ওভেন মেটালিক আর্কিটেকচারাল ও ডিজাইনিং ফেব্রিক তৈরির জন্য পৃথিবীর অন্যতম প্রধান কোম্পানি। ভিশনারি আর্কিটেকচারাল স্ট্রাকচার তৈরিতে এদের ভূমিকা পৃথিবীজুড়ে সমাদৃত। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে জিকেডি ভারী শিল্পের গণ্ডির বাইরে মিডিয়ার জন্যও তাদের পণ্য তৈরি শুরু করে, যেমন বহিরাবরণের জন্য ডিসপ্লে বা পর্দা। মেশ ফ্যাসাদ (Mesh Facade) হচ্ছে তারের বুননের তৈরি আচ্ছাদনের মতো পর্দাবিশেষ, যেটিতে এলইডি আলোকবাতির সাহায্যে বিভিন্ন ছবি বা দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়। জিকেডি এই মেশ ফ্যাসাদ তৈরিতে নতুন মাত্রা এনেছে স্টিল ব্যবহারের মাধ্যমে। স্টিলের মেশ বা তারের জালিকা ব্যবহারের পেছনে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে, সেটি শুধু স্থাপত্যশিল্পে এর ব্যবহার উপযোগিতা বা বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং স্টিলের ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতাকে কাজে লাগিয়ে স্টিল দিয়ে শুধু যে সূক্ষ্ম জালিকা তৈরি সম্ভব হয় তা-ই নয়, দেখিয়েছে এটি দিয়ে যতটুকু ইচ্ছা ততটুকু দৈর্ঘ্যরে তার বানানো সম্ভব। এ ছাড়া এর টেক্সটাইলের মতো গঠন একে মজবুত, যেকোনো আবহাওয়ায় সমান ব্যবহার উপযোগিতা আর নিরাপদ করেছে। এটা তাই স্বচ্ছ বা অস্বচ্ছ, হালকা বা ভারী, প্রতিফলক যা-ই হোক না কেন, সব সময়ই নিরাপদ আর সহজেই এর রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব। বৃষ্টিতে ধুয়ে যাবে না, রোদে পুড়বে না বা বাতাসে ক্ষয়ে যাবে না, বিনষ্ট হবে না আগুনেও।

ডিজেন

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে আরেকটি কোম্পানি আর্কিটেক্টার ও মিডিয়া বিশেষজ্ঞ এজি এইট মিডিয়া ফ্যাসাদ জিএমবিএইচ মিডিয়াটেকচার নামে নতুন একটি শাখার উদ্ভাবন করে। এর পেছনের আইডিয়া ছিল পুরোপুরি শহুরে আদলে নতুন ধরনের কমিউনিকেটিভ মিডিয়া ফ্যাসাদ তৈরি করা, যেটি স্থাপত্য শিল্পের সঙ্গে মানিয়ে যাবে সহজেই। এর জন্য একটি উপযোগী বৈদ্যুতিক সমাধানেরও প্রয়োজন ছিল। তাই এজি৪ একধরনের স্বচ্ছ মিডিয়া ফ্যাসাদ তৈরিতে মনোযোগী হয়, যাতে এলইডি বাতিকে একটি স্বচ্ছ ক্যারিয়ার সিস্টেমের সঙ্গে বসানো যায়।

জিকেডি আর এজি৪-এর এই অনন্য মেলবন্ধন কমিউনিকেটিভ মিডিয়া ফ্যাসাদ তৈরির ক্ষেত্রে নতুন এক সম্ভাবনা এনে দিল। জিকেডির স্টিল মেশের টেক্সটাইলের মতো ব্যবহার উপযোগিতা মেশ ফ্যাসাদকে যেকোনো আকারের তৈরি করার স্বাধীনতা দিল আর এজি৪-এর প্রযুক্তি একে স্বচ্ছ, দিনের আলোয় ব্যবহারের উপযোগী টেকসই ও নিরাপদ একটি মিডিয়া ফ্যাসাদের রূপ দিতে সক্ষম হলো। এ ধরনের মিডিয়া ফ্যাসাদে ৪০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

এ ধরনের পর্দার দৃশ্যায়নের রেজল্যুশন-নির্ভর করে মূলত এর পেছনে আপনি কেমন খরচ করতে চাইছেন আর কেমন রেজল্যুশন চাইছেন সেটার ওপর। অর্থাৎ এটিতে চাহিদামতো কাস্টমাইজ করার সুবিধা রয়েছে। যেমন-হাই রেজল্যুশনের ভিডিও বা ছবির জন্য পিক্সেলগুলোর ঘনত্ব বেশি হতে হয়। পিক্সেলগুলো সাধারণত আনুভূমিকভাবে পাশাপাশি এক বা একাধিক (সর্বোচ্চ আটটির গ্রুপ) পিক্সেলের গ্রুপ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন তারের সঙ্গে মেশের কিনারায় সংযুক্ত থাকে। একটি কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে প্রোগ্রাম অনুযায়ী পিক্সেলগুলো নির্দিষ্ট ছবি বা প্যাটার্ন পর্দায় ফুটিয়ে তোলে।

বর্তমানে দুই ধরনের মিডিয়া ফ্যাসাদ আছে। একটা হচ্ছে মিডিয়া মেশ আরেকটা হচ্ছে ইল্যুমে। মিডিয়া মেশের ক্ষেত্রে স্টিলের তারের বুনন প্রক্রিয়া শেষে একটি নির্দিষ্ট বিরতিতে এর গায়ে এলইডি বসানো হয়, ফলে সেটি সরাসরি দর্শকের সামনে আলোর প্রতিফলন করে ছবি বা প্যাটার্ন প্রদর্শন করে। আর ইল্যুমেশের ক্ষেত্রে এলইডি তারের বুননের ফাঁকে উলম্বভাবে বসানো হয়, ফলে এটি মেশের প্যানেলের সামনে প্রতিবিম্বের সৃষ্টি করে। সামনের দর্শক তাই মেশ প্যানেলের ওপরে পড়া উল্টো প্রতিবিম্বের প্রতিফলিত ছবি বা প্যাটার্ন দেখতে পায়, অনেকটা আয়নার মতো।

এলইডি প্রায় ১৬ মিলিয়ন ভিন্ন ভিন্ন রং প্রদর্শনে সক্ষম। এর সঙ্গে কম্পিউটারভিত্তিক উন্নত প্রোগ্রামিং, ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্তি একে যে ধরনের সুবিধা দিয়েছে, তাতে যেকোনো প্রকল্পের নির্দিষ্ট চাহিদাকে পরিপূর্ণরূপে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে মিডিয়া মেশ আর ইল্যুমেশ অতুলনীয়। বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে যেকোনো ধরনের ছবি, খবর এমনকি সরাসরি সম্প্রচার পর্যন্ত করা সম্ভব।

বৃহৎ আকারের ফ্যাসাদ মিডিয়ালাইজেশন আর রাত্রিকালীন উজ্জ্বল আলোর জন্য ইল্যুমেশ সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত। ইল্যুমেশের ক্ষেত্রে যে বিশেষভাবে এলইডি প্রোফাইল স্টিল মেশের গায়ে বসানো হয়, তাতে মেশের বিপরীতের এলইডির প্রতিফলনের পাশাপাশি স্টিলের গায়ে আলোর যে বর্ণচ্ছটা পড়ে তাতে একধরনের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের অবতারণা হয়। মেশের ওপরে ফুটে ওঠা ছবি যেন জাদুকরী ও জীবন্ত হয়ে ওঠে। রাতের আবহের সঙ্গে ইল্যুমেশের এই প্রতিফলনের খেলা জমে ওঠে দারুণভাবে। তবে শুধু বৃহদাকার ফ্যাসাদেই যে এমন দৃশ্যের অবতারণা হয় তা কিন্তু নয়। ইল্যুমেশ বরাবরের মতোই আপনার চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টোমাইজ করতে পারে। ইল্যুমেশের পারফরম্যান্স তাতে মোটেই কমবে না। এলইডি প্রোফাইল যে নির্দিষ্ট বিরতিতে উলম্ব আর আনুভূমিক পজিশনে বসানো হয় ছবির রেজল্যুশন ও উজ্জ্বলতা সেটার উপর নির্ভর করে, ফ্যাসাদের আকারের ওপরে নয়। তাই ইল্যুমেশের উজ্জ্বলতা বা কার্যকরিতা এর আকারের সঙ্গে তেমন সম্পর্কযুক্ত নয়।

ইল্যুমেশের আরেকটা সুবিধা হচ্ছে এটি বাজারের অন্যান্য প্রচলিত ব্যবস্থার থেকে বেশি উন্নত গ্রাফিক্স ইমেজ প্রদর্শনে সক্ষম, তাও আবার কোনো জটিলতা ছাড়াই। ইল্যুমেশের সিস্টেমটাই এ রকম যে এটি সব ধরনের আবহাওয়ায় মানানসই, প্রখর রোদ বা বৃষ্টিতে এর কোনো ক্ষতি হয় না, অগ্নিরোধক আর আকর্ষণীয় স্বচ্ছতার অধিকারী। তাই এর ব্যবহারের সীমাটাও শুধু বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডের মধ্যে থেমে নেই। আরও অনেক কারণেই ইল্যুমেশ এখন ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

পিন্টারেস্ট

আর মিডিয়া মেশের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বৈচিত্র্য আরও বেশি। এটি রাত ও দিনে সব সময়ই সমান উজ্জ্বল। মিডিয়া মেশ যে স্থাপনার গায়ে বসানো হয় সেটিকে আড়াল পর্যন্ত করে না। এর স্বচ্ছতা তাই অনস্বীকার্য। উজ্জ্বল এলইডি প্রোফাইল স্টেইনলেস স্টিলের তারের ফাঁকে প্রয়োজন অনুযায়ী বসানো যায়। এর প্রতিটা পিক্সেলে আলাদা করে সংযোগ দেওয়া সম্ভব। তাই প্রচলিত অন্যান্য এলইডি বোর্ডের মতো এটি কোনো ইমেজ বা ছবিকে একবারে ফুটিয়ে তোলে না, বরং প্রতি পিক্সেল আলাদা আলাদাভাবে জ্বলে উঠে ছবিটিকে জীবন্ত করে তোলে আর দিনের আলোতেও সেটি ঠিকভাবে দৃষ্টিগোচর হয়। আর এটি যেহেতু পেছনের দৃশ্যকে আড়াল করে না, তাই ভবন বা অন্যান্য স্থাপনার দেয়ালে স্থায়ীভাবে বসালেও কোনো সমস্যা হয় না। কেবল তা-ই নয়, যখন এটি বন্ধ থাকে মানে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া থাকে না তখনো এর নিজস্ব সৌন্দর্য বিল্ডিংয়ের ডেকোরেশন হিসেবে কাজ করে।

মিডিয়ামেশ যেকোনো ধরনের ডিসপ্লে এর জন্য উপযোগী, উচ্চ রেজল্যুশনের স্থির চিত্র, ভিডিও কিংবা সরাসরি সম্প্রচার। আর এর ডিসপ্লে বা পর্দাকে কোনো নির্দিষ্ট ডাইমেনশনের যেমন ৪:৩ কিংবা ১৬:৯ আকারের হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী এর আকার কাস্টোমাইজ করা যায়, তাতে গ্রাফিক্সের মানের কোনো পরিবর্তন হয় না। আর যেহেতু এটা স্বচ্ছ, স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি, তাই যেকোনো আবহাওয়ায় সহজেই মানানসই, রক্ষণাবেক্ষণের খরচও তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

এ ছাড়া এর পেছনের ব্যয়, স্থায়িত্ব, কার্যকরিতা সবকিছু মিলিয়ে ইল্যুমেশ আর মিডিয়ামেশের কম্বিনেশনে এ ধরনের ডিসপ্লের সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়া সম্ভব। যদি পুরো ভবনের বহির্দেয়ালজুড়ে এমন ডিসপ্লে বসাতে চান সেটিও সম্ভব, এমনকি চাইলে পুরো পর্দাকে আলাদা আলাদা জোনে ভাগ করে কাস্টোমাইজ ডিসপ্লেও করা যায়। যেমন কোথাও কম রেজল্যুশনের ছবি, টেক্সট বা লোগোর প্রদর্শনী, কোথাও উচ্চ রেজল্যুশনের ভিডিও বা কোথাও শুধু ডিসপ্লে বন্ধ রেখে ফ্যাসাদের স্বাভাবিক রিফ্লেকশন। ইল্যুমেশ আর মিডিয়া মেশের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে দিন বা রাত যেকোনো সময়েই জটিল থেকে জটিলতর ভিডিও, ছবি বা লাইভ টেলিকাস্ট করা সম্ভব এবং অবশ্যই প্রচলিত যেকোনো সিস্টেমের থেকে খরচ অনেক কম।

স্বচ্ছ মিডিয়া ফ্যাসাদ-বৃত্তান্ত

  • এটির সাহায্যে যেকোনো ভবনকে ডাইনামিক কমিউনিকেশন মিডিয়ামে পরিণত করা যায়, এটি সহজেই সব ধরনের স্থাপনা, যেকোনো আকৃতির হোক না কেন তাতে স্থাপন করা যায়
  • যেকোনো আবহাওয়ায় সমান উপযোগী, খরা, বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় কোনো কিছুতেই এটি তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, অগ্নি, বায়ু ও তাপরোধক
  • পরিষ্কার ছবির প্রদর্শনে সক্ষম
  • স্টেইনস্টিলের তার দিয়ে তৈরি এই ফ্যাসাদের পুরুত্ব বানানো সম্ভব ১ সেন্টিমিটারেরও কম
  • ভবনের ভেতরে স্বাভাবিক আলো-বাতাস প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে না
  • কাস্টমাইজড ডিজাইনের সুবিধাসংবলিত। রেজল্যুশন, লাইটেনিং, ভিউয়িং এঙ্গেলÑসবকিছুই কাস্টোমাইজ করা যায়
  • সর্বাধুনিক ইলেকট্রনিক ও এলইডি প্রযুক্তিসংবলিত
  • ১৬ মিলিয়নের বেশি রঙের সম্মিলনে অসাধারণ ছবির নিশ্চয়তা দেয়
  • ভার্টিক্যাল রেজল্যুশনে পিক্সেল ১০ মিমি থেকে ৪০ মিমি পর্যন্ত দূরত্ব কম বেশি করা যায়
  • হরিজেন্টাল রেজল্যুশনের ক্ষেত্রে পিক্সেল ৫০ মিমি দূরত্বে এর স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করা হয়
  • গ্রাফিক্স, অ্যানিমেশন, ভিডিও ক্লিপ বা সরাসরি সম্প্রচারের ক্ষেত্রে ডাকট্রনিকস (Daktronics) প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা রয়েছে
  • ডাকট্রনিকস ফটোসেলের সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাইরের আলোর সঙ্গে ডিসপ্লের উজ্জ্বলতার সমন্বয় করা হয়
  • অন্যান্য এলইডি বোর্ডের থেকে ৮০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ খরচ করে
  • নষ্ট বা জীবনকাল শেষ হলে শুধু এলইডি বদলে নিলেই হয়, স্টিলের ফ্যাসাদটি বদলানোর প্রয়োজন পড়ে না
  • মিডিয়া ফ্যাসাদের জন্য আসলে তেমন কোনো রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন পড়ে না। সাধারণত প্রাকৃতিক দূষণ আর এলইডির উজ্জ্বলতা রক্ষার জন্য মাঝে মাঝে মেকানিক্যাল ওয়াশিংয়ের প্রয়োজন হয়। এছাড়া উচ্চ তাপ, কতক্ষণ এটা চলবে সেটার ওপর ফ্যাসাদের জীবনীকাল কিছুটা প্রভাবিত হলেও এলইডির ওপর এটার তেমন কোনো প্রভাব নেই। এলইডির জীবনীকাল প্রায় ১০ বছর বা ৯০ হাজার ঘণ্টা পর্যন্ত ধরা হয়।

নির্মাণকৌশল

দৃশ্যকোণ তৈরিতে জিকেডি এর প্রযুক্তি অনুযায়ী এলইডি বাতিকে ০-২০০ পর্যন্ত ওপর-নিচ বা পাশে ঘোরানো সম্ভব, যাতে করে সব থেকে ভালো দৃশ্যকোণ তৈরি করা সম্ভব। জিকেডি টিম ডেকট্রনিকসের সহায়তায় ফ্যাসাদে উল্টো থেকে সোজা দিকে দেখার ব্যবস্থা করেছে (অনেকটা আয়নায় ছবি দেখার মতো- প্রতিবিম্ব উল্টো হয়ে পড়ে কিন্তু সামনের দর্শক ছবিকে সোজা হিসেবে দেখে কিন্তু সরাসরি নয়) প্রকৌশলীগণ পিক্সেলের ডিজাইন এমনভাবে করেছেন যেন কালার শিফট অর্থাৎ রঙের পরিবর্তনের সময় দৃশ্যের কোনো পরিবর্তন না হয়, দৃশ্যটি যেন পরিষ্কার আর ঝকঝকে হয়ে ফুটে ওঠে নিশ্চিত করেছেন সেটিও।

স্থাপনকৌশল

জিকেডি মেশ ফ্যাসাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ সমাধান দিয়ে থাকে কাস্টোমাইজ ফ্যাসাদ নির্মাণ থেকে শুরু করে এর ইনস্টলেশন পর্যন্ত। ফ্যাসাদের এলইডি প্রোফাইলে প্রতিটিতে আলাদা আলাদা সংযোগ দেওয়া হয়। রাওটারের সাহায্যে এতে ইন্টারনেটের সংযোগ দেওয়ার সুবিধা রয়েছে। একটি কন্ট্রোল প্যানেল থেকে এর সংযোগও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এলইডি প্রোফাইল মূলত পিক্সেলের কাজ করে। স্টেইনলেস স্টিলের মেশের মাঝে এগুলো চাহিদা অনুযায়ী সংখ্যায় দলবদ্ধভাবে বসানো হয়। ফলে বাইরের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে এলইডি প্রোফাইল বেশ সুরক্ষিত থাকে। মেশের বুননের প্যাটার্নটা মূলত এর আকার আর কোন ধরনের স্থাপনায় এটি বসানো হবে তার ওপর নির্ভর করে তৈরি। অনেক সময় নিচের ছবির মতো ফ্রেমিংয়ের জন্য স্টিলের রড আর আইবোল্ডের সাহায্য নেওয়া হয়। তবে এটা নির্দিষ্ট কোনো ফ্রেমিং নয়, ফ্যাসাদের ধরনের সঙ্গে এটি পরিবর্তনীয়।

মিডিয়া ফ্যাসাদের দৃশ্যায়ন সাধারণত মনোমুগ্ধকর, আকর্ষণীয় ও দৃষ্টি আকর্ষক। এর সামনে থেকে যাওয়ার সময় এক নজর একে না দেখাটাও মুশকিল। তাই বিজ্ঞাপন আর প্রচারণার জন্য অন্যান্য যেকোনো বিলবোর্ড থেকে এর আবেদন দিন দিন বাড়ছে। শুধু তা-ই নয়, নগরের সৌন্দর্য বাড়াতেও মিডিয়া ফ্যাসাদের এ সময়ের ভূমিকা অনন্য।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৯১তম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৭।

মহুয়া ফেরদৌসী
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top