দূরদর্শিতায় আনা ব্যবসায়িক সাফল্য

বিলেতফেরত ব্যবসায়ী আবুল বাসার নির্মাণপণ্যের ব্যবসা শুরু করেন ২০১৪ সালে। বাজারে তখন সমমনা বেশ কয়েকটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যেগুলো প্রতিষ্ঠিত অন্তত ১২-১৫ বছর আগে। সেসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালকও এলাকার নামকরা সব ব্যবসায়ী। স্বল্পসময়ে ব্যবসায়ী আবুল বাসার নির্মাণপণ্য ব্যবসায় পেয়েছেন ঈর্ষণীয় সাফল্য, যা দীর্ঘদিনেও স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ীই পাননি। আর এ সবকিছু সম্ভব হয়েছে তাঁর দূরদর্শিতা, নিষ্ঠা, সততা ও পরিশ্রমী মনোভাবের কারণে। চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার রামপুর পূর্ববাজার রোডের মেসার্স ইমন এন্টারপ্রাইজ-এর কর্ণধার তিনি। বন্ধন-এর ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’ পর্বের এ সংখ্যার সফল মুখ তিনি। আকিজ সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের আঞ্চলিক জ্যেষ্ঠ বিক্রয় কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমানের সহযোগিতায় জানাব তাঁরই সাফল্যগাথা। 

ব্যবসায়ী আবুল বাসারের জন্ম ১৯৬৭ সালের ২ মার্চ, চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুরে। বাবা মরহুম হারেছ মীর ও মা ফয়জুন্নেসা। ১৯৮৪ সালে বলাখাল জেএন উচ্চবিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হন মাধ্যমিক পরীক্ষায়। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় সাংসারিক প্রয়োজনে কিশোর বয়সেই প্রবেশ করেন কর্মজীবনে। এর অব্যবহিত পরে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। কাজ করতেন দেশটির একটি নির্মাণপণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে। প্রায় দেড় বছর পর ফেরেন  নিজভূমে; এখানেই কিছু করবেন এমন স্বপ্ন নিয়ে। এ সময়ে মারা যান বাবা। সংসারের দায়ভার এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। উপযুক্ত কোনো জীবিকার সন্ধান না পেয়ে আবারও হন প্রবাসী। এ যাত্রায় আগের চাকরির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ত করেন নিজেকে। এভাবে কাটে দীর্ঘ ২৩ বছর। কিন্তু এতেও তৃপ্ত হতে পারছিলেন না। উপলব্ধি আসে প্রবাসের সীমিত আয়ে আর নয়, ভাগ্য ফেরাতে হলে দেশে ফিরে এখানেই কিছু করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ব্যবসার বিকল্প নেই। ব্যবসা করার মানসিকতা নিয়ে ফেরেন দেশে। অনেক যাচাই-বাচাইয়ের পর নেমে পড়েন নির্মাণ ব্যবসায়। রড ও সিমেন্ট দিয়ে যে ব্যবসার শুরু। পরে ব্যবসাসম্ভারে যুক্ত হয় ইট ও বালু।

প্রবাসে থাকাকালীন নির্মাণপণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে এই ব্যবসাটির ধারণা ও অভিজ্ঞতা পান। মূলত তাঁর এই অভিজ্ঞতায় স্বল্পসময়ে সাফল্য আসে এতে। ব্যবসার শুরুতেই তিনি উদ্যোগী হন গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য বিক্রিতে। তিনি সব সময় চেষ্টা করেন ক্রেতার কাছে পণ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে। আরও যেসব বিষয়ে তিনি অটল, তা হচ্ছে সঠিক ওজন ও ন্যায্য দামে পণ্য বিক্রি করা। এভাবেই বেড়েছে তাঁর ব্যবসায়িক পরিসর। তিনি আকিজ সিমেন্ট বিক্রিতে প্রতিষ্ঠানটির হাজীগঞ্জ টেরিটরির অন্যতম সেরা বিক্রেতা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তিনি অর্জন করেছেন টেরিটরির সর্বোচ্চ বিক্রেতার খেতাব। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পণ্য বিক্রি এবং কোম্পানি কর্তৃক প্রদত্ত বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় স্বীকৃতিস্বরূপ কোম্পানির কাছ থেকে পেয়েছেন নানা উপহার। থাইল্যান্ড, নেপাল, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের অফারও পান ফিবছর।

ব্যবসায়ী আবুল বাসার সংসারজীবন শুরু করেন ১৯৯১ সালে। সহধর্মিণী নাজমা বেগম। এ দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে ইব্রাহিম রাজু হাজীগঞ্জ মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী, মেজো মেয়ে সুমি বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে এবং ছোট ছেলে ইমন রামপুর আল বান্না মডেল একাডেমিতে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। বড় ছেলে ইব্রাহিম রাজু লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার ব্যবসায়ও সময় দেয়। কারণ, ব্যবসায়ী আবুল বাসারকে ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক ও অন্যান্য সেবামূলক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। তিনি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা এবং সুবিদপুর বায়তুল আমান জামে মসজিদের সেক্রেটারি।

রামপুর পূর্ববাজারে ব্যবসায়ী আবুল বাসারের রয়েছে একটি শোরুম ও দুটি গোডাউন। চাঁদপুরের এ জনপদটি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। অধিকাংশ প্রবাসীই বাস করেন মধ্যপ্রাচ্যে। বেশ কিছুদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য নানা দিক থেকে অস্থিতিশীল। আর তাই দেশে আসছে না কাঙ্খিত রেমিট্যান্স। ফলে মন্থর হয়েছে এলাকার উন্নয়নের গতি। তা সত্ত্বেও আশানুরূপ না হলেও তিনি তাঁর ব্যবসার পরিসর বাড়িয়েই চলেছেন। এ জন্য তিনি আকিজ সিমেন্ট-সংশ্লিষ্টদের কাছে অকুণ্ঠ সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞ। নির্মাণপণ্যের এ ব্যবসাটিকে আরও বড় পরিসরে প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর এখনকার লক্ষ্য। এ জন্য ছেলেদেরও তিনি আদর্শ ব্যবসায়ী করে গড়তে চান। বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আগামী নির্বাচনে তিনি সভাপতি বা সেক্রেটারি পদে অংশ নিয়ে নিজের বিজয় নিশ্চিত করতে চান। পূরণ হোক তাঁর অভিপ্রায়, এমনটাই প্রত্যাশা বন্ধন পরিবারের।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৯০তম সংখ্যা, অক্টোবর ২০১৭।

মাহফুজ ফারুক
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top