বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ পদ্ধতি

মেগাসিটি ঢাকা বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত। এর মধ্যে পানিসংকট সবচেয়ে ভীতিকর এবং আগামী দশকে সবচেয়ে তীব্র সমস্যায় পরিণত হবে বলে সবার আশঙ্কা। ঢাকা ওয়াসার হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা শহরে প্রতিদিন ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন লিটার পানির প্রয়োজন। কিন্তু তাদের উৎপাদনক্ষমতা ১ দশমিক ৭ থেকে ১ দশমিক  ৯ বিলিয়ন লিটার। অধিকাংশ পানির চাহিদা ভূ-গর্ভস্থ পানি হ্রাসকরণের মাধ্যমে পূরণ করা হয় এবং হিসাব অনুযায়ী যা প্রায় ৭৪ দশমিক  ৯ শতাংশ। বাকি ২১ দশমিক  শূন্য ৯ শতাংশ পানির চাহিদা ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ফলে শহরের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিবছর ১ থেকে ৩ মিটার (৩ দশমিক ২৮ থেকে ৯ দশমিক  ৪৮ ফুট) নিচে নামছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামার প্রক্রিয়া অনবরত চলতে থাকলে একটা সময় লবণাক্ত পানি ভূ-গর্ভস্থ পানিতে প্রবেশের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানির গুণগত মানে প্রকট সমস্যার সৃষ্টি করবে। ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর এ রকম নির্ভরশীলতা কমানো এখন সময়ের দাবি।

রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং প্রক্রিয়া

ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর একটা সহজ উপায় হতে পারে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং বা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ। এর মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানির রিচার্জের পাশাপাশি ঘরবাড়ির দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনীয় পানি সংরক্ষণ করা যেতে পারে। পানির পর্যাপ্ততা এবং এ প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে একুইফার রিচার্জ করে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত এর আধিক্যপূর্ণ এবং বিশুদ্ধ খাবার ও ব্যবহার্য পানির অভাবপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে Rain Watr Harvesting System (RWHS) একটি প্রচলিত অনুশীলনে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও পদ্ধতিটি বেশ জনপ্রিয়। প্রযুক্তিটির প্রথম আবির্ভাব হয় ইরাকে। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, ভারতীয় উপমহাদেশ, মেক্সিকো, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এমনকি আমেরিকায়ও রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং একটি জনপ্রিয় পানির উৎসে পরিণত হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভূ-গর্ভস্থ ও ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা ক্রমেই বাড়ছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পানি সরবরাহের প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিংয়ের মাধ্যমে ভূ-গর্ভে রিচার্জকৃত পানির গুণগতমান ও ভূ-গর্ভে কী পরিমাণ পানি রিচার্জ করা সম্ভব? এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ওয়াটার এইড বাংলাদেশের মিরপুর ক্যান্টনমেন্টস্থ এমআইএসটিতে (Military Institute of Science and Technology-MIST) একটি পূর্ণাজ্ঞ RWHS নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে একটি সেডিমেন্টেশন ট্যাংক, একটি ফিলট্রাশন ট্যাংক, একটি জলাধার, একটি রিচার্জ পিট ও মনিটরিং কূপ রাখা হয়েছে।

ক্যামেন্ট

RWHS-এর প্রধম ধাপ হলো ক্যামেন্ট এরিয়া নির্বাচন করা। নির্ধারিত প্রজেক্টের জন্য নির্বাচিত ছাদকে ব্রিক ওয়ার্কের মাধ্যমে দুই ভাগে ভাগ করে একটি অংশ ক্যাচমেন্ট এরিয়া হিসেবে নির্বাচন করা হয়, যার ক্ষেত্রফল ১৭৮ বর্গমিটার। বৃষ্টির পানি ক্যাচমেন্ট এরিয়ার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় সাসপেনডেড সলিডের পরিমাণ যতটা সম্ভব কম রাখার জন্য ক্যাচমেন্ট এরিয়া নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাটা জরুরি।

ক্যাচমেন্ট এরিয়া বৃষ্টিবর্ষিত পানি ডাউন পাইপের ইনলেটের মাধ্যমে RWHS-এ প্রবাহিত হয়। ডাউন পাইপের ইনলেট পয়েন্টে একটি অপসারণযোগ্য ঝাঁঝরি দেওয়া হয়, যাতে লতাপাতা ও অন্য কোনো দ্রব্যাদি ডাউন পাইপে প্রবেশ করতে না পারে। অপসারণযোগ্য ঝাঁঝরি নিয়মিত পরিষ্কার করাটাও জরুরি, অন্যথায় ডাউন পাইপে বৃষ্টির পানির প্রবেশে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

ডাউন পাইপ

ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় সংগ্রহকৃত পানি ডাউন পাইপের মাধ্যমে সেডিমেন্টেশন ট্যাংক হয়ে ফিলট্রাশন ট্যাংকে যায়। ইউপিভিসির এই পাইপগুলোর ব্যাস ৬ ইঞ্চি এবং দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক শূন্য ৫ মিটার। পাইপগুলোর মধ্যে প্রথম চারটি পাইপ ফার্স্ট ক্লাস ডাইভার্টর হিসেবে কাজ করে। ফার্স্ট ক্লাস ডিভাইস বৃষ্টির শুরুতে ক্যাচমেন্টের পানিতে থাকা বিভিন্ন অপদ্রব্য ডাইভার্ট করার মাধ্যমে ট্যাংকে প্রবেশকৃত পানির গুণগতমান ঠিক রাখে।

সেডিমেন্টেশন ট্যাংক

ট্যাংকে প্রবেশকৃত পানিতে বিদ্যমান সাসপেনডেড সলিডের প্রকৃত সেডিমেন্টেশনের জন্য সেডিমেন্টেশন ট্যাংকের বিকল্প নেই। এই ট্যাংকের দৈর্ঘ্য ২ মিটার। প্রস্থ ১ মিটার ও গভীরতা ১ মিটার। ট্যাংক বেডে একটি Scour পাইপ রাখা হয়, যাতে ট্যাংকের বেডে জমা দেওয়া সাসপেনডেড সলিড নিয়মিত পরিষ্কার করার পাশাপাশি ওভার ফ্লো প্রতিরোধ করা যায়।

ফিলট্রাশন ট্যাংক

ফিলট্রাশন ট্যাংক তিন ইঞ্চি কোর্স অ্যাগরিগেইট (Coarse Aggregate) তিন ইঞ্চি ফাইন অ্যাগরিগেইট (Fine Aggregate) ও ছয় ইঞ্চি গ্রাভেলস (Gravels)-এর স্তরসমৃদ্ধ। ফিলট্রাশনের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা যথাক্রমে ১ মি. x ১ মি. x ১ মি.। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণকাজের জন্য ফিলট্রাশন ট্যাংকেও Scour পাইপ রাখা হয়।

স্টোরেজ পিট

স্টোরেজ ট্যাংকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা যথাক্রমে ২ দশমিক ৪ মি., ১ দশমিক ১ মি. ও শূন্য দশমিক ৯ মি.। স্টোরেজ পিটের ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩৯৬ লিটার।

রিচার্জ পিট

রিচার্জ পিট সেডিমেন্টেশন ট্যাংক ও ফিলট্রাশন ট্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত। রিচার্জ পিটের সেডিমেন্টেশন ট্যাংকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা যথাক্রমে ২ মি., ১ মি. ও ১ মি.। রিচার্জ পিটের ফিলট্রাশন ট্যাংক ৩ ইঞ্চি Sand, ৩ ইঞ্চি Pebble ও ৩ ইঞ্চি Boulder-এর স্তর সমৃদ্ধ সর্বশেষ ফিলট্রেশনের জন্য রিচার্জ পিটের রিচার্জ ওয়েল নাইলনের দড়ি দিয়ে আবৃত করা হয়। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরের অনেক ওপরে গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জ করা হয়, যাতে প্রাকৃতিক ফিলট্রাশন প্রক্রিয়ায় রিচার্জকৃত পানি ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরে প্রবেশ করে।

মনিটরিং ওয়েল

মনিটরিং ওয়েল মূলত ভূ-গর্ভস্থ পানির লেভেল পরিমাণ ও পরীক্ষাগারে গুণগতমান পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের জন্য নির্মাণ করা হয়। মনিটরিং ওয়েল ১৮৬ ফুট গভীরতা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং ৬০ ফুট ও ১৪০ ফুট গভীরতায় ভূ-গর্ভে পানি প্রবেশের জন্য ছাঁকনির ব্যবস্থা করে।

ভূ-গর্ভে রিচার্জকৃত পানির গুণগতমান পরীক্ষার জন্য মনিটরিং ওয়েল থেকে উত্তোলিত পানির বিভিন্ন (PH, Turbidity, Conductivity, TDS, Color, Iron, Arsenic, Do, BOD5, Salinity, Odor TS TC ও FC) পরীক্ষা ও এই প্যারামিটারগুলোর প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO)-এর স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় ভূ-গর্ভে রিচার্জকৃত পানি পানের উপযুক্ত কি না?

PH vs Time Curve: পর্যবেক্ষণ করে দেখা যাচ্ছে, PH -এর মান ৫ থেকে ৬ দশমিক ৫১-এর মধ্যে PH -এর সর্বোচ্চ মান ৬ দশমিক  ৫১ ও সর্বনিম্ন মান ৫ দশমিক ৪১ এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে PH -এর মানের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। পাশাপাশি PH -এর গড় মান ৬ দশমিক শূন্য ২৩, যা PH -এর জন্য WHO স্ট্যান্ডার্ড ৬ দশমিক ৫ থেকে ৮ দশমিক ৫-এর কাছাকাছি।

Turbidity vs Time Curve: (July, 14-December, 14) পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, Turbidity-এর মান 1.53-2.99 NTU-এর মধ্যে। সর্বোচ্চ মান 2.99 NTU ও সর্বনিম্ন মান 1.53 NTU. Turbitiy এর জন্য WHO স্ট্যান্ডার্ড 10 NTU এবং পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত ফলাফল 10 NTU-এর বেশি নয়। Turbidity-এর বিবেচনায় রিচার্জকৃত পানি পানযোগ্য।

Color Vs Time: পর্যবেক্ষণের সময়কালে Color-এর মান O pt-co. Color এর জন্য WHO স্ট্যান্ডার্ড 15 pt-co এবং পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত ফলাফল 15 pt-co-এর বেশি নয়। Color-এর বিবেচনায় রিচার্জকৃত পানি গ্রহণযোগ্য।

Conductivity Vs Time: 88-142 micro Siemens/cm WHO-50-500 usiemens/cm

TDS vs Time: পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, TDS-এর মান 40-68mg/l-এর মধ্যে। সর্বোচ্চ মান 67.2mg/l ও সর্বনিম্ন মান 41.9mg/l. TDS-এর জন্য WHO স্ট্যান্ডার্ড 1000mg/l এবং পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত ফলাফল 1000mg/l-এর বেশি নয়। TDS-এর বিবেচনায় রিচার্জকৃত পানি পানযোগ্য।

Iron vs Time: পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, Iron-এর মান 0-0.4mg/l-এর মধ্যে। সর্বোচ্চ মান 0.4mg/l ও সর্বনিম্ন মান 0mg/l. Iron-এর জন্য WHO স্ট্যান্ডার্ড 1mg/l এবং পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত ফলাফল 1mg/l-এর বেশি নয়। Iron-এর বিবেচনায় রিচার্জকৃত পানি পানযোগ্য।

Arsenic Vs Time: পর্যবেক্ষণকালে প্রাপ্ত Arsenic-এর মান WHO স্ট্যান্ডার্ড 50ppb-এর বেশি নয়। তাই Arsenic-এর বিবেচনায় রিচার্জকৃত পানি পানযোগ্য।

Do vs Time: পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, Dissoled Oxyzen-এর মান 3.69-6.71mg/l-এর মধ্যে। সর্বোচ্চ মান 6.71mg/l ও সর্বনিম্ন মান 3.69mg/l. Dissoled Oxyzen-এর জন্য WHO স্ট্যান্ডার্ড 6mg/l এবং পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত ফলাফল 6g/l-এর বেশি নয়। Dissoled Oxyzen-এর বিবেচনায় রিচার্জকৃত পানি পানযোগ্য।

BOD5 vs Time: পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, Biochemical Oxyzen Demand 5days BOD5 এর মান 3-4.3mg/l এর মধ্যে। সর্বোচ্চ মান 4.29mg/l ও সর্বনিম্ন মান 3.06mg/l. Iron-এর জন্য WHO স্ট্যান্ডার্ড 0.2mg/l এবং পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত ফলাফল o.2mg/l-এর বেশি নয়। Biochemial Oxyzen-এর বিবেচনায় রিচার্জকৃত পানি পানযোগ্য।

TC and FC vs Time: পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, Total Coliform Fecal Coliform-এর মান FC 0mg/l TC 8-15 mg/l-এর মধ্যে।

TC and FC vs Time: পর্যবেক্ষণকালে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী Total Coliform-এর মান মাত্রাতিরিক্ত এবং এর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মান যথাক্রমে 15 ও 8। অপারেশনাল ট্যাংকগুলো ভালোভাবে ঢাকা না থাকায় ময়লা আবর্জনা, পশুপাখির বিষ্ঠা ইত্যাদির ট্যাংকগুলোতে অনুপ্রবেশ TC-এর মাত্রাতিরিক্ত মানের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে TC-এর মান কমেছে, কভারিং ব্যবস্থার পর্যায়ক্রমিক উন্নতি এর অন্যতম কারণ। WHO স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী, TC ও FC-এর মান 0। FC-এর বিবেচনায় পানি পানযোগ্য হলেও TC-এর বিবেচনায় পানি সরাসরি পানযোগ্য নয়।

রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেমের মাধ্যমে রিচার্জকৃত পানির গুণগতমান পরীক্ষা করে দেখা যায়, পর্যবেক্ষণকৃত প্যারামিটারগুলোর মধ্যে Turbidity Color, Conductivity, TDS, Iron, Arsenic, FC, CO2-এর জন্য রিচার্জকৃত পানি পানযোগ্য কিন্তু PH, TC, BOD5 এবং DO-এর জন্য রিচার্জকৃত পানি পানযোগ্য নয়।

ওজোন, ক্লোরিন ডাই-অক্সাইড অথবা আলট্রাভায়োলেটরে ব্যবহার করে ডিসইনফেকশন প্রক্রিয়ায় রিচার্জকৃত পানি ট্রিটমেন্ট করার মাধ্যমে পানযোগ্য করা সম্ভব। একই সঙ্গে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেমের মাধ্যমে রিচার্জকৃত পানির পরিমাণের খণ্ডকালীন পর্যবেক্ষণে দেখা যায় আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ২০১৩ সালে ভূ-গর্ভে রিচার্জকৃত পানির পরিমাণ যথাক্রমে ৪১, ৩৩ ও ১৮ ঘনমিটার।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৭৮তম সংখ্যা, অক্টোবর ২০১৬।

মো. মামুনুর রশীদ
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top