জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর
বিজ্ঞানের রহস্যময় এক ভুবন

বিজ্ঞান, রহস্য ও এর নানা আবিষ্কার সম্পর্কে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। মানুষের এই স্বাভাবিক কৌতূহল নিবারণ আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করে তুলতেই ঢাকার শেরেবাংলা নগরস্থ আগারগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে দেশের মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য। যার প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৬৫ সালের ২৬ এপ্রিল। জাদুঘরটি পরিচালিত হয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে। জাদুঘরটির মাধ্যমে স্বল্পপরিসরে হলেও বিজ্ঞানবিষয়ক নানা প্রদর্শনী ছাড়াও আয়োজন করা হয় বিজ্ঞান মেলা, বক্তৃতা, গবেষণা, উদ্ভাবনী মেলা, আকাশ প্রদর্শনীসহ নানা কর্মকাণ্ড।

বিজ্ঞান জাদুঘরের ভেতর-বাহির

জাদুঘরের ভবনটি চারতলাবিশিষ্ট। ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় গ্যালারি, তৃতীয় তলায় অফিস এবং চতুর্থ তলায় বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি অবস্থিত। গ্যালারির মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞান গ্যালারি, শিল্প প্রযুক্তি গ্যালারি, জীববিজ্ঞান গ্যালারি, মজার বিজ্ঞান গ্যালারি ও তরুণ বিজ্ঞানীদের প্রকল্প গ্যালারি। এখানে আরও রয়েছে একটি লাইব্রেরি, ওয়ার্কশপ ও অডিটরিয়াম। এ ছাড়া ভবন প্রাঙ্গণে রাখা আছে একটি ডাইনোসরের মূর্তি ও ছোট যুদ্ধবিমানের প্রতিকৃতি।

জাদুঘরে যা আছে 

  • ৩ ডি মুভি
  • লেজার শো
  • সায়েন্স পার্ক
  • মহাকাশ বিজ্ঞান গ্যালারি
  • তথ্যপ্রযুক্তি গ্যালারি
  • ভৌতবিজ্ঞান গ্যালারি
  • শিল্পপ্রযুক্তি গ্যালারি
  • জীববিজ্ঞান গ্যালারি
  • মজার বিজ্ঞান গ্যালারি-১
  • মজার বিজ্ঞান গ্যালারি-২
  • গ্যালারি প্রদর্শনী
  • আকাশ পর্যবেক্ষণ
  • বিজ্ঞান গ্রন্থাগার।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

  • জনসাধারণের মধ্যে বিজ্ঞান অনুরাগ ও বিজ্ঞানমনস্কতা সৃষ্টিকরণ
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করার মাধ্যমে জাদুঘরে স্থায়ী বিজ্ঞান প্রদর্শনীর ব্যবস্থা
  • ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান প্রদর্শনীর ব্যবস্থা
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা বিষয়ে প্রকাশনা
  • বক্তৃতা, সেমিনার ও সম্মেলন আয়োজন
  • জাদুঘরের উন্নয়নে প্রদর্শনী বস্তুসমূহের সাহায্যে গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড
  • বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান প্রদর্শনী এবং বিজ্ঞানবিষয়ক নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন
  • প্লানেটরিয়াম স্থাপনসহ মহাকাশ বিজ্ঞান চর্চার ব্যবস্থা
  • স্কুল ও কলেজের বিজ্ঞান শিক্ষার পরিপূরক হিসেবে শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা
  • বিজ্ঞান শিক্ষার যুগোপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করা নবীন ও শৌখিন বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনমূলক কাজে উৎসাহ ও সহযোগিতা দেওয়া, দেশের বিজ্ঞান ক্লাবগুলোকে সাহায্য, সহযোগিতা ও উৎসাহ দান এবং তাদের পরস্পরের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে বিজ্ঞান আন্দোলনকে জোরদার করা, বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ইতিহাস তুলে ধরা
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রাচীন ও আধুনিক নিদর্শনাবলি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রায়োগিক ব্যবহার
  • মানবজাতির কল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবদান ও বিজ্ঞানীদের কীর্তিসমূহের ভূমিকা সঠিকভাবে উপলব্ধিকরণে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধকরণ।

জাদুঘরের কতিপয় কার্যক্রম

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে-

১.     গ্যালারি প্রদর্শন

জাদুঘরের গ্যালারির মধ্যে আছে- মজার বিজ্ঞান গ্যালারি, জীববিজ্ঞান গ্যালারি, ভৌত বিজ্ঞান গ্যালারি, তথ্যপ্রযুক্তি গ্যালারি এবং শিল্পপ্রযুক্তি গ্যালারি। তা ছাড়া বহিরাঙ্গন প্রদর্শনী বস্তুর মধ্যে রয়েছে ডাইনোসর, সূর্য ঘড়ি, পুরোনো বিমান ও সায়েন্স পার্ক।

২.    শিক্ষা কার্যক্রম

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর একটি বিশেষ বিজ্ঞান শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরটিতে নিয়মিতভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর বিভিন্ন সময়ে জনপ্রিয় বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেয় স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা, বিজ্ঞান ক্লাবের সদস্যরা, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, গণ্যমান্য ব্যক্তিরাসহ বিপুলসংখ্যক বিজ্ঞানমোদী শ্রোতা। দেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও বিজ্ঞান শিক্ষকেরা অনুষ্ঠানসমূহে বিশেষজ্ঞ বক্তা হিসেবে নির্ধারিত বিষয়ের ওপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হয় কুইজ প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অধিকারীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত হয় সেমিনার।

ফেসবুক

নবীন বিজ্ঞান পত্রিকা, জনপ্রিয় বিজ্ঞানবিষয়ক বক্তৃতামালাসমগ্র, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের বার্ষিক প্রতিবেদন, তরুণ ও অপেশাদার বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত প্রকল্প, উদ্ভাবন ও বার্ষিক কার্যক্রমের ওপর পোস্টার ও লিফলেট প্রকাশ করা হয়। আঞ্চলিক পর্যায়ের অনুষ্ঠানে জেলায় অবস্থিত সব উপজেলা ও থানার হাইস্কুল, মাদ্রাসা, সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ও বিজ্ঞান ক্লাবের সদস্যরা জুনিয়র গ্রুপে এবং কলেজের ছাত্রছাত্রীরা, বিজ্ঞান ক্লাবের সমমানের কর্মী ও উদ্ভাবনে আগ্রহী অপেশাদার ব্যক্তিরা সিনিয়র গ্রুপে প্রতিযোগিতামূলক বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর খবরের কাগজের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকল্প বাছাই করে অভিজ্ঞ গাইডের মাধ্যমে তিন মাস ধরে নির্বাচিত তরুণ ও অপেশাদার বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত প্রকল্পের মান উন্নয়নে কাজ করে থাকে। 

অন্যান্য আয়োজন

প্রতি শনি ও রোববার সন্ধ্যায় আকাশ মেঘমুক্ত থাকা সাপেক্ষে ১০ টাকা টিকিটের বিনিময়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপের সাহায্যে চাঁদ, শুক্র, মঙ্গল, শনি, বৃহস্পতি গ্রহ, অ্যান্ড্রোমিডা, গ্যালাক্সি, রিংনেবুলা, সেভেন সিস্টার, জোড়াতারা ও তারার ঝাঁক পর্যবেক্ষণ করা যায়। এই জাদুঘরে রয়েছে অনেকগুলো বিজ্ঞান ক্লাব। এই বিজ্ঞান ক্লাবগুলো বিজ্ঞানবিষয়ক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য জাদুঘর অডিটরিয়াম ভাড়া নিতে পারে। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ের বিজ্ঞান মেলা, দলভিত্তিক পরিদর্শন শেষে সাধারণ কুইজের আয়োজন, বিজ্ঞান বক্তৃতার আয়োজন এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান দিবসে বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

পরিদর্শনের সময়সূচি

প্রতি শনি থেকে বুধবার জাদুঘর সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। প্রতি বৃহস্পতি ও শুক্রবার এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে জাদুঘর বন্ধ থাকে। জাদুঘরের প্রবেশমূল্য পাঁচ টাকা। 

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৬২তম সংখ্যা, জুন ২০১৫ 

শামস আহমেদ
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top