জেন্ডার, স্পেস, ক্ষমতা এবং স্থাপত্য এই চারটির পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আমাদের জানাশোনা তুলনামূলকভাবে কম। অথচ সময়ের সাথে সাথে আমাদের জীবনযাপনের ধরন বদলে যাচ্ছে, বিশেষ করে শহুরে জীবনে সেই পরিবর্তনের গতি খুবই দ্রুত। কিন্তু আমাদের আবাসনের ধরন এখনো প্রায় আগের মতোই রয়ে গেছে। আধুনিক স্থাপত্যের প্রভাব এবং প্রয়োগ যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তার সাথে ছন্দ মিলিয়ে স্পেসের চিন্তায় জেন্ডার কতটা গুরুত্ব ফেলছে সেটি আড়ালেই থেকে গেল।
স্থপতি এন গ্রিসওল্ড টিং বলেছিলেন, ''আজকের দিনে, স্থাপত্যে একজন মহিলা হিসাবে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো তার সৃষ্টিশীল সম্ভাবনাকে জাগ্রত করা। এজন্য মানসিক চিন্তা চেতনা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। কোনোরকমের অপরাধিতা, অক্ষমতা, নৈতিক অবস্থানের বেড়াজাল কাটিয়ে নিজের চিন্তাকে ধারণ করার জন্য সৃষ্টিশীল পদ্ধতি জানার পাশাপাশি ‘masculine’ এবং ‘feminine’ এর মূলতত্ত্ব বোঝা দরকার। এগুলো ঠিক কি করে নারী–পুরুষ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সৃষ্টিশীলতাকে প্রভাবিত করছে তা জানা জরুরি।''
কর্মজীবী মহিলা এবং তার পরিবারের কথা ভেবে যেসমস্ত আবাসন আমাদের ইতোমধ্যে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো যা ভাবা হচ্ছে সবখানেই কিন্তু এই চিন্তা দর্শনের প্রভাব থাকা ভীষণ জরুরী। কারণ ‘গৃহ’-ই হলো ব্যক্তি মানুষের কর্ম ও চিন্তার উন্নয়নের সর্বোত্তম স্থান। ঘুমের পরেই কাঙ্ক্ষিত জাগরণ সম্ভব। নিজ গৃহকে তাই ‘repair shop’ বলতেও দেখা যায়। পাশ্চাত্যে শ্লোগান রয়েছে-
- একটি ভালো বাড়ি জন্ম দেয় একজন সন্তুষ্ট শ্রমিকের
- সুখী শ্রমিক মাত্রই বিশাল মুনাফা, কিন্তু অসুখী শ্রমিক কখনোই ভালো বিনিয়োগ হতে পারে না।
অর্থ উপার্জনের দিক থেকে পুরুষ প্রধান ভাবধারা বহাল থাকায় গৃহের মাঝে পুরুষ ‘বাড়ির মালিক’ এবং মহিলা ‘বাড়ির ম্যানেজার’ এই দুইটি আলাদা চরিত্র বহন করে। সারাদিনের ধকল সয়ে ঘরে প্রবেশের পর মহিলার কাছ থেকে সেবা পাবেন পুরুষ এটাই তখন বাস্তবতা হয়ে ওঠে। উপ-শহরের সমস্ত ঘরবাড়িগুলো শ্রমের ভিত্তিতে যৌন বিভাজনের এক যথাযথ মঞ্চ।
কারণ, পুরুষের জন্য বাসা হলো তার উপার্জনের সম্মান স্বরূপ একটি ত্রিমাত্রিক নিদর্শন এবং উপার্জন করছেন না যিনি, অর্থাৎ তার স্ত্রী’র জন্য এটা একটা ধারক মাত্র। ‘ঘর’ তখন আর ঘর না হয়ে কোন ক্ষমতাধরের দুর্গে পরিণত হয়। সত্তর দশকের বিখ্যাত আমেরিকান বিজ্ঞাপনি সংলাপ ছিল ‘I’ll Buy that Dream’, ‘ঐ স্বপ্নটা আমিই কিনবো’। এখনো সেই স্বপ্ন কেনাবেচাই চলছে।
একটি গতানুগতিক বাড়ি একজন বিবাহিত কর্মজীবী মহিলার জীবনকে কিভাবে প্রভাবিত করতে পারে একটু লক্ষ্য করা যাক। উপ-শহর কিংবা গ্রাম সবখানেই স্পেস বিভাজন এবং সজ্জার পদ্ধতিটা কিন্তু মোটামুটি একইরকম- রান্নাঘর, ডাইনিং রুম, লিভিং রুম, শোবার ঘর, গ্যারেজ ইত্যাদি। এই স্পেস গুলোর চাহিদা হলো কাউকে ব্যক্তিগতভাবে রান্না করা, পরিস্কার করা, বাচ্চা লালনের দায়িত্ব নিতে হবে।
ঘরোয়া সহিংসতা বেশি ঘটে থাকে রান্নাঘর এবং শোবার ঘরে। একটি বাড়ির সমস্ত প্রোগ্রামের যে বিভাজন এবং সজ্জা প্রক্রিয়া তাতে কোনো বেতন ছাড়া গৃহ শ্রমের ভিত্তিতে যে পৃথকীকরণ করা হয় তার প্রভাব ঘরোয়া সহিংসতায় কতটা পড়ে আমরা কি তা কিছুটাও আন্দাজ করতে পারি? আশঙ্কা এবং নির্যাতন বিহীন একটি রান্নাঘর, শোবার ঘর কি আদৌ বানানো সম্ভব?
কিছু কিছু রাষ্ট্র কর্মজীবী মহিলাদের সমস্যা আমলে নিয়ে কাজ করছে। কিউবার ১৯৭৪ সালের ফ্যামিলি কোড বলছে, পুরুষদেরও নারীর পাশাপাশি ঘরের আধা কাজ এবং সন্তানের দেখভাল করতে হবে সমানভাবে। ফলে রান্নাঘর তখন কিন্তু আর আলাদা রইলো না, হলো সকলের জায়গা। আবাসন প্রকল্পে ডে-কেয়ার এবং কাপড় ধোয়ার সুযোগ সুবিধা, রান্নাবান্নার সুবিধা এখন অপরিহার্য। একইসাথে বয়স্ক এবং শারীরিক নানা সমস্যায় থাকা মানুষদের কথা ভেবেও একটি আবাসন প্রকল্পে নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ।
তাছাড়া ব্যক্তি সীমানা ছাড়িয়ে একই এলাকার সকলে মিলে সকলের খাতিরে কিছু করার মতন জায়গার কথাও ভাবা উচিৎ যা গণতান্ত্রিক শক্তিকে আরো সংঘবদ্ধ করতে সক্ষম। বিশ শতকের গোড়ার দিকে আমেরিকায় নারীবাদী, স্থপতি, গার্হস্থ্য বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টায় সকলের জন্য এরকম কমিউনিটি সার্ভিস তারা আদায় করে নিতে পেরেছিলেন। এটি সত্যিই সম্ভব। ১৯২০ সাল থেকে পাশ্চাত্যে নারীবাদীরা এই সমস্যার হাল করতে পারছিলেন না।
পাশ্চাত্যের আবাসন প্রকল্পে এরকম একটি কর্ম পদ্ধতি প্রচলিত আছে যেখানে-
- একটি এলাকার বসত বাড়ির সকল মহিলা পুরুষ যারা অর্থ উপার্জন করছেন না তারা একত্রিত হবেন, বাড়ি ঘরের দেখভাল এবং ডে-কেয়ারে কাজ করবেন।
- মহিলা পুরুষ সকলেই সমান সম্মানি এবং কাজের সুযোগ পাবেন।
- শ্রেণী, সম্প্রদায় এবং বয়সের ভিত্তিতে পৃথকীকরণের বিলুপ্তি সাধনে সচেষ্ট হবেন।
- বেতন ছাড়া ঘরের কাজ করছেন যেসকল মহিলা তাদের প্রতি অবিচার বন্ধে সোচ্চার হবেন।
- বেতন ছাড়া গৃহকর্মের কাজ কমিয়ে দিবেন এবং এনার্জি ক্ষয় না করে তা সঞ্চয় করবেন।
- গৃহস্থালির উন্নয়নের জন্য বাস্তব সম্মত উপায়ের পরিধি বাড়ানো এবং প্রাসজ্ঞিক বিনোদনকে প্রাধান্য দেওয়া।
এটি কেবল একটি মডেল। জায়গা ভেদে এর রুপ পাল্টানো খুব স্বাভাবিক এবং এভাবে সবাই একে অপরের সাথে সংযোগ স্থাপন করে থাকলে একটি গোষ্ঠী নিজেরাই নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখতে পারে। এক্ষেত্রে সবাইকেই যে একই মতন আবাসন প্রক্রিয়ায় থাকতে হবে তাও নয়। ব্যক্তি চিন্তাকে স্বাগত জানিয়ে একই কমিউনিটিতে এরকম নানা বিচিত্রতাকে এক করে রাখা খুব সম্ভব।
তথ্যসূত্র:
- কবি, স্থপতি ও নগর ইতিহাসবিদ ডলারেস হেইডেনের প্রবন্ধ What Would a Non-Sexist City Be Like
সাস্টেনেবিলিটি বা টেকসই উন্নয়ন আজকের নগর সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলোর একটি। একটি শহর তখনই সাসটেইনেবল হয়ে ওঠে, যখন তার পরিবেশ, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য থাকে। এই ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নারী শুধু একটি শহরের বাসিন্দা নন, তিনি শহরের জীবনধারা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সম্পর্কের অন্যতম নির্মাতা। নগরের প্রতিটি স্তরে—পরিবার, পাড়া, কর্মক্ষেত্র কিংবা জনপরিসরে—নারীর অংশগ্রহণ একটি শহরকে আরও মানবিক, নিরাপদ ও টেকসই করে তোলে।সমাজে নারীর অবস্থান অনেক পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু এখনও অনেক ক্ষেত্রেই শহর ও নগরজীবনের কাঠামো পুরুষকেন্দ্রিক। অথচ একটি শহরের প্রকৃত চেহারা বোঝা যায় সেখানে নারীরা কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারে, কতটা নিরাপদ বোধ করে এবং কতটা সক্রিয়ভাবে নগরজীবনে অংশ নিতে পারে তার মাধ্যমে। একটি সমতা-ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে তাই নারীর অবস্থানকে কেন্দ্র করেই নগরের নীতি ও পরিকল্পনা ভাবা প্রয়োজন।আর্কিটেকচারের সঙ্গে নারীর সম্পর্কও গভীর ও বহুমাত্রিক। একটি ঘর, একটি উঠোন, একটি বারান্দা কিংবা একটি ছোট্ট বাগান—এসব স্থানকে জীবন্ত করে তোলার পেছনে নারীর স্পর্শ প্রায়শই অদৃশ্যভাবে কাজ করে। স্থাপত্য কেবল ইট, কাঠ বা কংক্রিটের গঠন নয়; এটি মানুষের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। সেই অভিজ্ঞতার বড় অংশই নারীর দৈনন্দিন জীবন থেকে আসে। তাই নারীর অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি স্থাপত্যে যুক্ত হলে নগরের নকশা হয়ে ওঠে আরও মানবিক ও বাস্তবসম্মত।জীবনের সঙ্গে নারীর সম্পর্ক মূলত সৃষ্টির সম্পর্ক। তিনি পরিবার গড়ে তোলেন, সম্পর্কের বন্ধন তৈরি করেন এবং জীবনের ধারাকে টিকিয়ে রাখেন। সমাজের ভেতরে যে সহমর্মিতা, যত্ন এবং সামাজিক সংযোগ তৈরি হয়—তার অনেকটাই নারীর অবদানের ফল। এই মানবিক বন্ধনই একটি শহরকে কেবল বসবাসের স্থান নয়, বরং একটি জীবন্ত সম্প্রদায়ে পরিণত করে।নগর নির্মাণে নারীর ভূমিকা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গভীর। নারী সরাসরি স্থপতি, নগর পরিকল্পনাবিদ বা নীতিনির্ধারক হিসেবে কাজ করতে পারেন, আবার পরোক্ষভাবেও তিনি নগরের রূপ নির্ধারণ করেন। একটি পরিবারের বসবাসের ধরণ, একটি পাড়ার সামাজিক যোগাযোগ, শিশুদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ কিংবা একটি উন্মুক্ত স্থানের ব্যবহার—এসব সিদ্ধান্তে নারীর ভূমিকা প্রায়ই নির্ধারক হয়ে ওঠে। তিনি এমন একটি নগর কল্পনা করেন যেখানে নিরাপত্তা, সবুজ পরিবেশ, হাঁটার পথ, শিশুদের খেলাধুলার জায়গা এবং সামাজিক মেলবন্ধনের সুযোগ থাকে।নগর সভ্যতার ইতিহাসে দেখা যায়, যেসব শহরে নারীর অংশগ্রহণ বেশি, সেসব শহর তুলনামূলকভাবে বেশি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই হয়ে ওঠে। কারণ নারীর দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণত জীবনকেন্দ্রিক—যেখানে যত্ন, সম্পর্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।এই নারী দিবসে তাই বলা যায়, নারী কেবল নগরের একজন বাসিন্দা নন; তিনি নগরের নির্মাতা, রূপকার এবং ধারক। একটি সত্যিকারের টেকসই ও সুন্দর নগর গড়ে তুলতে হলে নারীর অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং নেতৃত্বকে সামনে আনতেই হবে। কারণ নগর কেবল ভবনের সমষ্টি নয়—এটি মানুষের জীবনের সমষ্টি, আর সেই জীবন নির্মাণে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য।– স্থপতি জান্নাত জুঁই। সাস্টেনেবিলিটি স্ট্রাটেজিস্ট প্রতিষ্ঠাতা, জান্নাত জুঁই আর্কিটেক্টস।
নগর ও নগর পরিকল্পনায় নারীর অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পরিকল্পনার কেন্দ্রে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ধরনের শরীরকে “সক্ষম শরীর” হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। এই শরীরটি মূলত একজন তরুণ, সুস্থ ও সক্ষম পুরুষের শরীর—যে সহজে দেখতে পারে, শুনতে পারে, কথা বলতে পারে এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে। অর্থাৎ নগরের নকশা ও অবকাঠামো এমন এক আদর্শ ব্যবহারকারীকে সামনে রেখে তৈরি হয়, যার কোনো শারীরিক বা সামাজিক সীমাবদ্ধতা নেই।অন্যদিকে সমাজের প্রান্তিক মানুষদের কথা নগর পরিকল্পনায় খুব কমই বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই প্রান্তিকতা হতে পারে সক্ষমতার ভিত্তিতে, লিঙ্গের ভিত্তিতে, শ্রেণিগত অবস্থানের ভিত্তিতে কিংবা পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামোর কারণে অধস্তন অবস্থানে থাকা মানুষের ক্ষেত্রে। ফলে নারী, শিশু, বয়স্ক কিংবা প্রতিবন্ধী মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনগুলো নগরের নকশায় প্রায়ই অনুপস্থিত থেকে যায়।উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, অনেক মার্কেট বা হাসপাতালে ব্রেস্টফিডিং কর্নার থাকলেও সেগুলো সাধারণত সবচেয়ে অপরিচ্ছন্ন বা অবহেলিত জায়গায় স্থাপন করা হয়। আবার অনেক হাসপাতালে এমন কোনো ব্যবস্থা থাকেই না। অথচ এটি শহুরে জীবনে অসংখ্য মায়ের জন্য একটি মৌলিক প্রয়োজন।ফুটপাতের নকশাতেও এক ধরনের লিঙ্গ ও সক্ষমতাভিত্তিক বিন্যাস লক্ষ্য করা যায়। কোথাও খুব তীক্ষ্ণ মোড়, কোথাও অত্যন্ত উঁচু ধাপ, আবার কোথাও এমন অসম স্ল্যাব বসানো থাকে যা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব। ফলে যারা হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন, যারা বয়স্ক, কিংবা যারা শিশু নিয়ে চলাচল করেন—তাদের জন্য এই নগর ব্যবস্থাপনা কার্যত বাধা হয়ে দাঁড়ায়।নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য গণপরিবহনে যে কয়েকটি সংরক্ষিত আসন রাখা হয়, সেটি অনেক সময় প্রকৃত সমতার প্রতিফলন নয়; বরং পুঁজিবাদী ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজের এক ধরনের প্রতীকী অন্তর্ভুক্তি প্রদর্শনের কৌশল। কারণ জাতিরাষ্ট্রের সামাজিক বাস্তবতায় নাগরিকত্বের আদর্শ মানদণ্ড এখনো মূলত তরুণ, সক্ষম পুরুষ শরীরকে কেন্দ্র করেই নির্মিত। ফলে নারী, অ-তরুণ কিংবা অক্ষম শরীরের মানুষদের প্রায়ই পূর্ণ বা “সত্যিকারের নাগরিক” হিসেবে ভাবা হয় না।সব মিলিয়ে দেখা যায়, নগর পরিকল্পনায় যে “আদর্শ নাগরিক”-এর কথা ধরে নেওয়া হয় তিনি মূলত একজন মধ্যবিত্ত, তরুণ ও সক্ষম পুরুষ। নগরের অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা যেন তার চলাফেরা ও প্রয়োজনকে কেন্দ্র করেই তৈরি। ফলে নারী, শিশু, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী বা শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড মানুষের জন্য এই নগর আসলে সমানভাবে পরিকল্পিত নয়।- ড. ফাতেমা শুভ্রা। সহযোগী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।