সিল্যান্ট নিয়ে যত কথা (পর্ব ১)

একটি স্থাপনা নির্মাণে অনেক সেকশন তৈরি করতে হয়। দরজা, জানালা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেয়ালের ডেকোরেশনেও ভিন্ন সেকশন হয়। প্রতিটি সেকশনকে একে অপরের সঙ্গে জুড়ে রাখতেও দরকার হয় নানা অনুষঙ্গ। কংক্রিট, কাঠ, ধাতু, কাচ, ফাইবারগ্লাস এবং অন্য সব কাঠামোতে এসব উপকরণের রয়েছে বহুল ব্যবহার। তবে জুড়ে দেওয়া সেকশনগুলোর মধ্যে শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর অনুষঙ্গ সিল্যান্ট। এই উপকরণটির আদ্যোপান্ত জানাচ্ছেন সারোয়ার আলম

সিল্যান্ট কী?

সিল্যান্ট একধরনের ঘন তরল আঠালো পেস্টের মতো, যা বিভিন্ন সেকশনের মধ্য দিয়ে তরল, বায়ু এবং এমনকি কীটপতঙ্গ চলাচল রোধ করতে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে ফাঁকা স্থান বন্ধের জন্য। একটি ভবন নির্মাণ করতে গেলে তাতে অনেক সেকশন থাকে, যেমন দরজা, জানালা, পার্টিশন ইত্যাদি। ভবনের দুই বা তার চেয়ে বেশি সেকশনকে একসঙ্গে জোড়া দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয় এই নির্মাণ উপকরণ। কংক্রিট, ফাইবারগ্লাস এবং অন্যান্য কাঠের বিল্ডিংয়ের সেকশনগুলোও জোড়া লাগাতে কাজ করে এই উপকরণ। নির্মাণ উপকরণের ভিন্নতার ভিত্তিতে এর ধরনও হয় ভিন্ন ভিন্ন।

ফাঁকা স্থানে সিল্যান্ট প্রয়োগের পর তা কোলকিং গান (Caulking Gun) দিয়ে চেপে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পেস্ট আকারের এই উপকরণকে তরল করেও ব্যবহার করতে হয়। যেহেতু এই উপকরণ ফাঁকা স্থান দিয়ে বাতাস এবং বৃষ্টির পানি প্রবেশের প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাই উপকরণটি স্থাপনার আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে অনবদ্য ভূমিকা রাখে।

সিল্যান্ট যেখানে ব্যবহৃত হয়

সাধারণত ফাটল বা ফাঁকা স্থান বন্ধ করার জন্য সিল্যান্ট ব্যবহার করা হয়। তবে এর মূল কাজ ভবনের বিভিন্ন সেকশনকে জোড়া লাগানো। সাধারণভাবেই ভবনের বিভিন্ন সেকশন জোড়া লাগানোর জন্য কংক্রিট, সিমেন্ট এবং বালুর মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু যেসব ফাঁকা স্থান খুবই সূক্ষ্ম, সেগুলো বন্ধ করতেই এই উপকরণ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া দরজা ও জানালা ফিটিং করার পর অনেক সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ফাঁকা থাকে, যা সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করা সম্ভব হয় না। সেগুলো বন্ধ করার জন্য সিল্যান্টের কোনো বিকল্প নেই। যদি দরজা কিংবা জানালায় গ্লাস ব্যবহার করা হয়, তবে সে ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করাই শ্রেয়। কাঠের সামগ্রী ফেটে গেলে কিংবা জয়েন্টে ফাঁকা থাকলে তাতেও তা ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া ভবনের ফিটিংস (বেসিন, সিংক ইত্যাদি) সংস্থাপন করতে এই উপকরণ ব্যবহার করা হয় পানিরোধী করতে।

সিল্যান্টের বৈশিষ্ট্য

  • দুই বা তার অধিক উপাদানের মধ্যে ফাঁকা স্থান পূরণ করে
  • প্রতিরক্ষামূলক অভেদ্য বাধা প্রদান করে। ফলে তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না
  • নমনীয়তা বজায় রেখে একাধিক সেকশনকে একসঙ্গে যুক্ত করে
  • তাপীয় ভিন্নতার কারণে সম্প্রসারণ বা সংকোচন রোধ
  • আর্দ্রতার তারতম্যের কারণে আকার ও আকৃতিগত বৈচিত্র্য প্রতিরোধ করে
  • ভারবহনকারী দেয়াল কিংবা স্থাপনার কোনো অংশের বিচ্যুতি রোধ করে
  • বাতাসের চাপ প্রতিরোধ করে

স্থাপত্য উপকরণভেদে তাপমাত্রার তারতম্য

আর্দ্রতা, বায়ুর চাপ ও তাপের কারণে ভবনের অনেক পরিবর্তন হয়। তাই ভবন নির্মাণের আগে এই পরিবর্তন সম্পর্কে জানা উচিত। তবেই আমরা সিল্যান্ট ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কেও বুঝতে পারব। একটি ভবন বিভিন্ন উপকরণের সমন্বয়ে তৈরি হয়ে থাকে। আর্দ্রতা, বায়ুর চাপ ও তাপের কারণে প্রায় সব ধরনের উপকরণ স্ফীত (সম্প্রসারণ) হয়। এর ফলে বড় ধরনের ফাঁটল কিংবা ভেঙে পড়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই নির্মাণের সময় সঠিকভাবে সিল্যান্টের ব্যবহার করতে হবে। উপকরণের ধরনের ওপর ভিত্তি করে তাপমাত্রা ও সম্প্রসারণও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। বিভিন্ন নির্মাণ উপকরণ কী পরিমাণ সম্প্রারিত হতে পারে এবং সম্ভাব্য তাপমাত্রা কী পরিমাণ বাড়তে পারে, তা নিচের তালিকায় দেখানো হলো।

উপকরণসম্ভাব্য তাপমাত্রা বৃদ্ধি (m/m-0Cx 10-6)
(কাদামাটি ইট বালুসিমেন্ট)
ইট পোড়া মাটি৫-৬
টালি কাঁদামাটি শেল৬.০
কংক্রিট
নুড়ি পাথর১০.০
লাইটওয়েট স্ট্রাকচারাল৮.১
কংক্রিট এবং ইটের দেয়াল
সিন্ডার৫.৬
সম্প্রসারিত শেল৭.৭
সম্প্রসারিত স্ল্যাগ৮.৩
ভলকানিক পিউমিস৭.৪
সেলুলার কংক্রিট১১.০
ধাতব উপকরণ
অ্যালুমিনিয়াম২৩.৮
পিতল রেড ২৩০১৮.৬
তামা১৬.৫
লোহাজাতীয় উপকরণ
কাস্ট গ্রে১০.৬
রট আয়রন        ১৩.৩
সিসা২৯.৩
মরিচারোধক ইস্পাত (Stainless steel)
টাইপ ৩০২ ৩০৪১৭.০
কাঠামো নির্মাণে ইস্পাতের উপকরণ১১.৫
দস্তা       ৩৬
গ্লাস৮.০
প্লাস্টার
জিপসাম১৩.৭
প্লাস্টার বোর্ড১২.০
প্লাস্টিক কম্পোজিট
অ্যাক্রিলিক্স৮০.০
লেক্সান (পলিকার্বনেট)৬৭.০
ফ্ল্যাক্সিগ্লাস৭০
পলিস্টার গ্লাস১৮-২৫
পিভিসি৫৯
প্রাকৃতিক পাথর
গ্রানাইট৮.০
চুনাপাথর৬.৫
মার্বেল১৩.০
ব্যাসাল্ট৯.০

ওপরে উল্লিখিত নির্মাণ উপকরণের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন সিল্যান্ট বাজারে পাওয়া যায়। তাই উপকরণ অনুযায়ী এর ব্যবহার করলে কাক্স্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাবে। এতে ভবনের সেকশনগুলোর মধ্যে বন্ধন শক্তিশালী হবে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা যেকোনো ধাক্কা সহ্য করতে পারে। অন্যথায় এই উপকরণটি খুব বেশি টেকসই হবে না বরং বাড়তে পারে ঝুঁকি।

সিল্যান্টের প্রকারভেদ

সাধারণত বাজারে পাওয়া যায় এমন সিল্যান্টগুলোকে নিম্নোক্ত শ্রেণি অনুসারে ভাগ করা যায়।

  • রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতকৃত, যেমন পলিউরেথিন, পলিসালফাইড, সিলিকন, অ্যাক্রিলিক ইত্যাদি।
  • স্থিতিস্থাপকতার জন্য উৎপাদিত, যেমন কল্ক (যা বিকৃতি সহ্য করতে পারে না), প্লাস্টোমেরিক এবং ইলাস্টোমেরিক।
  • তাদের ফর্ম, যেমন কার্টিজ বা সিলিন্ডারে সুরক্ষিত, প্রিফর্ম (যা শুকনো টেপ বা ফিতার আকৃতির সুরক্ষিত অবস্থায় সরবরাহ করা হয়) এবং গরম বা তাপে গলে যায় এমন সিল্যান্ট।

উল্লিখিত তিনটি শ্রেণির মোট ৬ প্রকারের সিল্যান্ট বাজারে পাওয়া যায়। সেগুলো হচ্ছে-

১.     সাধারণ কল্ক বা পুটি

২.    সিন্থেটিক পলিমার ও রাবার জাতীয়

৩.    অ্যাক্রিলিক

৪.    ইলাস্টোমেরিক

৫.    ফেনাযুক্ত ফোম

৬.   ব্যাকআপ উপকরণ

সাধারণ কল্ক বা পুটি

১৯৫০-এর দশকের আগে বিভিন্ন উপকরণ যেমন কাচ, ধাতু, কাঠ, কংক্রিট ইত্যাদি জোড়া দেওয়ার জন্য ঐতিহ্যবাহী কল্ক ব্যবহার করা হতো। ব্যবহার অনুযায়ী এর ধরন ছিল ভিন্ন। যেমন, সাধারণ নির্মাণের ক্ষেত্রে অলিওরেসিন, তিসির তেল বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কাজে বিটুমিন এবং আলকাতরা ব্যবহার করা হতো। এই ফর্মুলেশনগুলা পর্যাপ্ত স্থিতিস্থাপক ছিল না। নির্দিষ্ট সময় পর তা শুধু কয়েক শতাংশ প্রসারণ সহ্য করতে পারে এবং আবহাওয়া প্রতিরোধের ক্ষমতা ছিল খুবই সামান্য।

উপকরণবৈশিষ্ট্য ব্যবহার
তিসির তেলের পুটি১০-১৫ শতাংশ মিনারেল ফিলার বা ক্যালসিয়াম কার্বনেট থাকে।তিসির তেল বাতাসের অক্সিডেশনের মাধ্যমে শুকিয়ে যায়। তেলের সঙ্গে বাতাসের অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়া সব সময় চলতে থাকে। ফলে কয়েক বছর পর এই পুটি জয়েন্টগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।এ ধরনের সিল্যান্ট বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ধাতব বস্তু ও কাচের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়। সাধারণ লোহার ফ্রেমবিশিষ্ট কাচের জানালয় এ ধরনের ব্যবহার দেখা যায়।
উন্নত অলিওরেসিনাস পুটি/কল্ক পরিপক্ব সয়া-জাতীয় শস্য অথবা তিসির তেলের সঙ্গে ক্যালসিয়াম কার্বনেট এবং ফাইব্রাস ট্যাল্ক যুক্ত করে এ ধরনের সিল্যান্ট তৈরি করা হয়। এটি সর্বোচ্চ মানের হলে তা ৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্প্রসারণ হতে পারে, যা যথেষ্ট নয়। প্রিফেব্রিকেটিং হিসেবে তা খুব উপযোগী নয়।

বিটুমিনভিত্তিক ফর্মুলা

বিটুমিনভিত্তিক ফর্মুলায় তৈরি অনেক সিল্যান্ট আগে অনেক বেশি জনপ্রিয় ছিল। পুরকৌশল কাজে ফাঁকা স্থান খুব বেশি হয়ে থাকে। তাই উচ্চ পারফরম্যান্সের পলিমার দিয়ে বড় বড় ফাঁকা বন্ধ করা ছিল বেশি ব্যয়বহুল। তা ছাড়া বিটুমিন ও আলকাতরা ব্যবহারে প্রকৌশলীরা অভ্যস্ত ছিল। সে ধারাবাহিকতায় পুরকৌশল কাজে এখনো বিটুমিন বা আলকাতরা ব্যবহার করা হয়। সময়ের ব্যবধানে গুণগত মান ও প্রস্তুতকৌশল উন্নত করা হয়েছে। সত্তরের দশক থেকে শুরু করে, রাবার, স্টাইরেনিক পলিমার যেমন এসবিএস, বা পলিউরেথিনও ব্যবহার করা হয়, এ ধরনের সিল্যান্টের সঙ্গে। বিশুদ্ধ বিটুমিন বা আলকাতরা যৌগগুলো শুধু কয়েক শতাংশ প্রসারণ সহ্য করতে পারে এবং সবচেয়ে সেরা ফর্মুলেশনের পরও ২০-২৫% পর্যন্ত সম্প্রসারিত হতে পারে। 

সিন্থেটিক পলিমার এবং রাবারভিত্তিক সিল্যান্ট

সিন্থেটিক পলিমার খুব উচ্চ স্থিতিস্থাপকতা এবং দীর্ঘ স্থায়িত্বসম্পন্ন উচ্চ কার্যকারি সিল্যান্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। পর্যাপ্ত ফর্মুলেশনের মাধ্যমে যেকোনো নির্দিষ্ট প্রয়োজনে ভিন্ন ভিন্ন গুণমানের সিল্যান্ট তৈরি হতে পারে। এই উপকরণ নির্দিষ্ট বৈচিত্র্যের অটোমোটিভ সিল্যান্ট, যা সিন্থেটিক উপাদান দিয়ে তৈরি। এটি পলিমার নামেও পরিচিত। বিশেষত গাড়ির ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রে এই উপকরণটি বেশি ব্যবহৃত হয়। বাজারে প্রচলিত কিছু পলিমার সিল্যান্টের মধ্যে রয়েছে-

পলিবিউটিন

  • পলিবিউটিন একটি কম আণবিক ওজনের পলিমার, যা তরল, আঠালো, অ-শুকানো এবং সস্তা।
  • এই পলিমারগুলো প্রায়ই ফিলার (ক্যালসিয়াম কার্বনেট, ট্যালক, মাটি) এবং ফ্যাটি অ্যাসিডের সঙ্গে মেশানো হয়। তারল্য নিয়ন্ত্রণ করতে অল্প পরিমাণে দ্রাবক পলিবিউটিনের সঙ্গে যোগ করা হয়।
  • পলিবিউটিনের ওপর ভিত্তি করে সিল্যান্ট ফর্মুলেশনগুলো শুধু দ্রাবক জাতীয় পদার্থ শুকানোর মাধ্যমে সেট করা হয়।
  • স্থিতিস্থাপকতা গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমন সেকশন বা জয়েন্টের ক্ষেত্রে সিল্যান্ট তৈরিতে পলিবিউটিন ব্যবহার করা হয়। যেমন, দুই প্রস্থ ধাতব বস্তুকে জোড়া লাগাতে যে সিল্যান্ট দরকার তাতে স্থিতিস্থাপকতা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। জানালায় গ্লাসিং, প্রিফর্মড ফিতা এবং টেপ তৈরি করতেও ব্যবহৃত হয় পলিবিউটিন সিনথেটিক সিল্যান্ট। আমরা পানির কল ও গ্যাস পাইপে যে ধরনের থ্রেড টেপ ব্যবহার করে থাকি তাও পলিমার (পলিবিউটিন) সিল্যান্ট।
  • পলিবিউটিনগুলোকে প্লাস্টিকাইজার হিসেবে কাজ করার জন্য প্রায়ই বিউটাইল রাবারের সঙ্গে মিশ্রিত করা হয়।

পলিআইসোবিউটিলিন (পিআইবি)

  • এটি একটি স্থায়ীভাবে চটচটে পলিমার এবং এটি শুধু অন্যান্য সিল্যান্ট যেমন, ওলিওরেসিনাস বা বিউটাইল রাবার পরিবর্তন করতে ব্যবহৃত হয়।
  • পিআইবি সিল্যান্টগুলো গ্লাস শিল্পকারখানায় বেড তৈরিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

বিউটাইল রাবার

  • বিউটাইল রাবার আইসোবিউটিলিন এবং আইসোপ্রিনের বিক্রিয়ায় গঠিত একটি যৌগ। রাসায়নিকভাবে এর স্যাচুরেশনে ২ মোল শতাংশ রয়েছে।
  • বিউটাইল রাবার গ্যাসের জন্য দুর্ভেদ্য, এটির মোটামুটি ভালো আবহাওয়া এবং অক্সিজেন প্রতিরোধক্ষমতা রয়েছে। এই রাবারের কিছু স্থিতিস্থাপকতা দেখা যায়। ৪০% সম্প্রসারণ এর মাধ্যমে সৃষ্ট জয়েন্টগুলো আলাদা হয়ে যেতে পারে, তবে ১৫% পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে পারে।
  • বিউটাইল রাবার যে ফর্মুলায় প্রস্তুত করা হয়, তাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
  • ২০% বিউটাইল রাবার
    • ৫ থেকে ১০% ট্যাকফাইং রজন যেমন, পরিবর্তিত বা হাইড্রোজেনেটেড রেসিন বা হাইড্রোকার্বন রজন ধাতু এবং কাচের ক্ষেত্রে নমনীয়তা প্রদানের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
    • ৫০ থেকে ৬০% খনিজ ফিলার (ক্যালসিয়াম কার্বনেট, ফাইবারস ট্যালক, কাদামাটি এবং অন্যান্য)। 
    • এতে থাকে ২০ থেকে ২৫% দ্রাবক যেমন খনিজ স্পিরিট এবং অন্যান্য দ্রাবক। দ্রাবকগুলো সব উপাদান দ্রবীভূত এবং মিশ্রিত করতে সাহায্য করে।
    • পলিবিউটিন প্রায়ই প্লাস্টিকাইজার হিসেবে যোগ করা হয়।
  • বহিরাবরণের টেপ ও ফিতা (উদাহরণস্বরূপ থ্রেড টেপ) শতভাগ কঠিন যা সহজে সংকুচিত হয় না।

বিউটাইল এবং পলিসোবিউটিলিন উষ্ণতায় গলিত সিল্যান্ট

এগুলো বিশেষ পণ্য, যা আর্দ্রতার অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে দ্বিগুণ কার্যকরী। জানালায় কাচ স্থাপন করতে এই সিল্যান্ট সবেচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। দুটি কাচের প্যানেলেও এর ব্যবহার বেশ কার্যকরী। শুধু নির্মাণশিল্পেই নয়, সিল্যান্টের ব্যবহার রয়েছে নানা শিল্পে। বিবরণ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সব ধরনের সিল্যান্ট সম্পর্কে এ পর্বে উল্লেখ করা যায়নি। সিল্যান্ট সম্পর্কে আরও জানতে চোখ রাখুন বন্ধনের পরবর্তী সংখ্যায়। 

চলবে…

প্রকাশকাল: বন্ধন, ১৫২তম সংখ্যা, এপ্রিল ২০২৩।

সারোয়ার আলম
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top