পথচলতি নারীর ক্ষণকালের বিশ্রামস্থল বাসন্তী নিবাস

ক্যাপসুল হোটেল ধারণাটির সূচক জাপান। স্থাপনার নান্দনিক বিষয় থেকেও এখানে প্রাধান্য পায় গণিত। অল্প জায়গায় একজন মানুষের চাহিদার জোগান বিবেচনায় একটি আকার কল্পনা করা, যেখানে সবাই সমান সুবিধা পায়, সেখানে গণিত রাজত্ব করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গণিতেরও রয়েছে নান্দনিকতা। ১৯৭২ সালে জাপানি স্থপতি কিশো কুরোকাওয়ার কর্তৃক ডিজাইনকৃত নাগাকিন ক্যাপসুল টাওয়ারই হলো প্রথম ক্যাপসুল ধারণার বাহক। কী দারুণ এর আকার! অসাধারণ এক-একটি ক্যাপসুলের মডিউল ও তার কাঠামো। কীভাবে একে অন্যের ওপর ভর দিয়ে তৈরি হয়েছে একেকটি স্বনির্ভর স্ট্রাকচার! পাজল মিলিয়ে দেওয়ার মতোই সহজ খেলা যেন! সেসময়ে টোকিওতে যেসব ব্যবসায়ী সপ্তাহান্তে আসতেন কেবল ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে, তাঁদের কথা ভেবেই এর ডিজাইন করা হয়েছিল। রিসাইকেল বা সাস্টেনেইবল ভবনের চেতনা নিহিত থাকে একটি ক্যাপসুল প্রকল্পে। কেননা এর অনেক উপাদান পুনরায় ব্যবহারযোগ্য এবং মূল কাঠামো থেকে  একেকটি ক্যাপসুল খুলে, মেরামত করে, আবার সেখানে যুক্ত করা যায়। বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে এমনি এক ক্যাপসুল হোটেলের কার্যক্রম। আর এই হোটেলটি শুধু নারীদের জন্য নির্মিত দেশের প্রথম হোটেল, ‘বাসন্তী নিবাস’।

স্থপতি কিশো কুরোকাওয়ার হাত ধরেই ১৯৭৯ সালে বিশ্বে প্রথমবারের মতো পরিচয় ঘটে জাপানে নির্মিত ক্যাপসুল হোটেলের। যারা প্রথাগত হোটেলের খরচ বহন করতে পারবে না, তাদের জন্য অল্প খরচায় রাতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে গিয়েই উদ্ভব এই ক্যাপসুল হোটেলের। জাপানের এখনকার ক্যাপসুল হোটেলগুলোতে সংযুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অভ্যন্তরীণ জাঁকজমকের ছোঁয়া। এই হোটেলগুলো দেখলে বোঝা যায় যে কম খরচার থাকার ব্যবস্থা এখানে মুখ্য নয় বরং জীবনযাপনের আধিক্য বর্জন করে সেখানে ঠিক যতটুকু দরকার, ততটুকু দিয়ে তারই মাঝে আধুনিক জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য প্রযুক্তিগত সংযোজন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনে সমস্ত সৃষ্টিশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে চমৎকার এক আবাসনের ধারণা পাওয়া যায়। যেহেতু একটি ক্যাপসুল হোটেলে প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের সুব্যবস্থা করা নেই, তাই আমাদের আবহাওয়ার প্রেক্ষিতে শীততাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া ক্যাপসুল হোটেল একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র ও অর্থনীতির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া ঘনবসতির ঢাকা শহর এবং অধিক জনসংখ্যার এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে ক্যাপসুল হোটেলের মতো উপযোগী চিন্তাধারণাগুলোকে আমাদের বাস্তবায়ন করতেই হবে। জাপানে এই হোটেল চালু হলেও পরবর্তিতে লন্ডন, হংকং, মস্কো, আমস্টারডামেও ক্যাপসুল হোটেল দেখতে পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে এমনি এক ক্যাপসুল হোটেল করা হয়েছে প্রথমবারের মতো। কিন্তু আরও একটি ‘প্রথম’ ব্যাপার এর আছে, যেটি ভীষণ মর্যাদাসম্পন্ন; সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গত বছরের (২০১৯) ৮ মে বিশ্ব নারী দিবসের শুভক্ষণে উদ্বোধন করা হয় কেবল নারীদের জন্য নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম হোটেল, ‘বাসন্তী নিবাস’। নির্মাণের চিন্তার পেছনে রয়েছে কষ্টময় এক অভিজ্ঞতার কাহিনি। প্রকল্পটির একজন স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসার উদ্দেশ্যেই ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকায় আসে। ঢাকায় তিনি একজন নারী হিসেবে স্বামীসহ হোটেলে থাকার পরও হেনস্তার শিকার হন। আমাদের আশপাশে তাকালেই বোঝা যায় এই সংকটে ভোগা নারীর সংখ্যা নেহাতই কম নয়। এই চিন্তা থেকেই শুরু হয় বাসন্তী নিবাসের পথযাত্রা। মূলত ঢাকার বাইরে থেকে আগত নবাগত নিরুপায় শিক্ষার্থীদের জন্যই তৈরি করা হয় নারীবান্ধব এই নিবাস।

উদ্বোধনের পর থেকেই প্রতি রাত শিক্ষার্থীরা মাত্র ৭১ টাকায় থাকতে পারত। আমাদের ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের উদ্যমী চেতনাকে ধারণ করতে গিয়েই টাকার এই অঙ্কের ধারণাটা আসে। চাকরিজীবী নারীদের জন্য এই অঙ্ক ২৯৯। সম্প্রতি কুমিল্লা থেকে ঢাকায় পড়তে আসা একজন শিক্ষার্থী যাতায়াতের পথে বাসে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। এরপর বাসন্তী নিবাস প্রথম দুই রাত শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ১ টাকায় থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। ১ টাকার ধারণাটি বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ১ টাকার আহার প্রকল্পের জন্য সবার কাছে সুপরিচিত। তাদেরই আরেকটি প্রকল্প হলো এই বাসন্তী নিবাস। একেবারেই আন্তরিক জায়গা থেকে নারীদের এগিয়ে আসার এই উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য নারীমুক্তির আন্দোলনে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

ক্যাপসুল হোটেলের সুবিধে হলো অল্প জায়গায় ক্যাপসুলের মতো ছোট ছোট অজস্র ঘরের আকারে অনেকের থাকার ব্যবস্থা করা যাতে খরচ ও জায়গা দুটোই কমে আসে। কম জায়গা ও কম খরচ বলে এখানে যত্নের কিন্তু কোনো কমতি নেই। বাসন্তী নিবাসের ছবিগুলো দেখলেই সেটি বোঝা যায়। নিবাসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীই নারী। নিবাসটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, আছে ওয়াই-ফাই সুবিধা। একটা ডাইনিং ও রিডিং রুম ব্যবহার করতে পারবেন নিবাসে আগত অতিথিরা। আগমনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র বা যে কাজের জন্য আসা সেটি সংক্রান্ত একটি পত্র দেখাতে হয়। কেবল ঢাকার বাইরের নারীদের জন্যই এই নিবাসের দ্বার উন্মুক্ত।

বাসন্তী নিবাসের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা বেশ মার্জিত একই সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত। একটা সাধারণ বাড়ির ভেতরেই এই আয়োজন তাই স্থাপত্যের বিচারে নয় বাসন্তী নিবাস বিশেষ হয়ে ওঠে এর অভ্যন্তরীণ চিন্তাশীলতায়। অভ্যন্তরীণ নকশায় দুটো দিক পাওয়া যায়। একটি, থাকার জন্য ক্যাপসুল ঘর আর অন্যটি নিবাসের রঙিন দেয়াল। ক্যাপসুলের ভরকাঠামো স্টিলের আর পারিপার্শ্বিক দেয়াল মোটা পার্টিকেল বোর্ডে নির্মিত। ক্যাপসুলগুলো বন্ধ করার দরজার পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে সুন্দর সাদা পর্দা। যেহেতু শীতাতপনিয়ন্ত্রিত তাই প্রতিটা ক্যাপসুলে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা সম্ভব। নিজ নিয়ন্ত্রণে থাকা আলো ও তার সুইচ, মোবাইল চার্জের জন্য একটি করে প্লাগের ব্যবস্থা রয়েছে এই সব ক্যাপসুলে। এই মুহূর্তে বাসন্তী নিবাসে রয়েছে সর্বমোট ৩৬টি ক্যাপসুল। পরে চাহিদার ভিত্তিতে সম্ভাবনা রয়েছে আরও একটি ফ্লোর এতে যুক্ত করার। মিরপুর, পল্লবীর ২ নম্বর বাড়িটিই হলো বাসন্তী নিবাস। নানা স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা ও এক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আর ভাবতে হয় না আর এ কারণেই পরিবারও নির্দ্বিধায় ঘরের নারীদের কাজ বা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে এখন ঢাকায় পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন।

অভ্যন্তরীণ নন্দন চিন্তার আরেকটি অন্যতম দিক হলো বাসন্তী নিবাসের রংচঙে দেয়াল। এই দেয়ালের কথাগুলোকেই বলা চলে বাসন্তী নিবাসের কনসেপ্ট বা মূল রস, চালিকাশক্তি। আমরা একটু দেয়ালে লেখা কথাগুলো লক্ষ করি-  

‘প্রতিটা মেয়ে হয়তো তার স্বামীর কাছে রানি হয়ে থাকতে পারে না। কিন্তু প্রতিটা মেয়েই তার বাবার কাছে রাজকন্যা হয়ে থাকে।’- হুমায়ূন আহমেদ, কথাসাহিত্যিক

‘নারীর কাছ থেকে পুরুষের মতো কাজ আশা করলে তাকে অবশ্যই সমান শিক্ষা দিতে হবে।’- প্লেটো, দার্শনিক

‘তুমি আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দিব।’- নেপোলিয়ান, সম্রাট-বীর

‘কোন কালে একা হয়নিকো জয়ী,

পুরুষের তরবারী,

প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে,

বিজয়লক্ষী নারী’ – কাজী নজরুল ইসলাম, জাতীয় কবি

বাসন্তী নিবাসের সদর দরজায় দেখা যায় এই লেখাগুলো-

‘বাসন্তী নিবাস শুধু স্বপ্নবাজদের জন্য, যে স্বপ্ন নিয়ে এই দরজা অতিক্রম করছ, সে স্বপ্নের জন্য আজীবন লড়ে যেতে হবে। কারণ তোমার স্বপ্ন কোনো দিন অসুন্দর আর স্বার্থপর হয় না।’

এই সমস্ত দেয়াললিখন আর অন্দরসজ্জার পুরোটাই বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীদের করা। এর পেছনে কোনো ইন্টেরিয়র ডিজাইনার নেই। যেসব স্বেচ্ছাসেবীরা এখানে কাজ করেছেন তাঁরা নিজেরাই গবেষণা করে ক্যাপসুল হোটেলের ধারণা দিয়ে উদ্যোগী হয়ে তা বানিয়েও ফেলেছেন। লাগেজ বা ব্যাগ রাখার জন্য ছোট লকারও আছে এখানে। আপনাদের মাঝে যে কেউই বাসন্তী নিবাস বা বিদ্যানন্দের একজন স্বেচ্ছাসেবী হতে পারেন। আপনার যে দক্ষতা শুধু সেটুকুকেই কাজে লাগিয়ে সাহায্য করতে পারেন বিদ্যানন্দের এমন নানা অসাধারণ আয়োজনে ঘরে বসেই। দেয়াললিখন বা দেয়ালের রং, দেয়ালে একটি বটবৃক্ষ আর তাতে নিউটন, আইনস্টাইনসহ অন্যান্য বিজ্ঞানীদের ছবি দিয়ে নারীমুক্তির পূর্বশর্ত হলো চিন্তামুক্তি, যা আমাদের দিতে পারে বিজ্ঞানই। 

বাংলাদেশের নারী আন্দোলন ও নারী মুক্তির পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল, জাহানারা ইমামের ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে নিবাসের দেয়াল। সার্বক্ষণিক একই লিঙ্গের এই অসাধারণ ব্যক্তিত্বদের চোখের সামনে দেখতে পাওয়ার মধ্য দিয়ে দারুণ উৎসাহিত করা যায় নিবাসের নারীদের। বাসন্তী নিবাসের এই রূপ তাদের সেবাদানকারীরা যেমন ধরে রাখতে পারছেন, তেমনি করে এই নিবাসে আগত অতিথিরাও তাদের মনোবল বজায় রাখতে সমস্ত মানসিক সাহায্যও পাচ্ছেন এর দেয়াললিখন থেকে। যেহেতু এখানে কোনো ডিজাইন অভিজ্ঞর চিন্তা কাজ করেনি তাই পুরো ব্যাপারটির মাঝে যে ঐক্য, নিজস্বতা, আদিমতার দেখা মেলে তা আমাদের শিকড়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় নতুন করে। বাসন্তী নিবাসে অতিথি নারীদের নানা ছবি দেখলে তাদের অন্তরের অভয় চিত্রটি ফুটে উঠতে দেখা যায়। এই ব্যাপারটি কেবল সুন্দর ডিজাইন করেই আনা সম্ভব নয়। সত্যকে জানা, দেখা এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টার ফসল বাসন্তী নিবাস। নিবাসের অভিজ্ঞতা জানিয়েও একটি দেয়াললিখনের জায়গা রয়েছে। অতিথিদের মিষ্টি কথায় ভরে আছে সেই দেয়াল। অল্প খরচে যথাযথ সুবিধায় হোটেল সার্ভিস সরবরাহ করা এবং সেই সেবা অল্প খরচে উপভোগ করার সুযোগটিও যে তৈরি করা হলো একটি মহৎ উদ্দেশ্যে সেজন্য বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নারী জাগরণের আন্দোলনে বিশেষ এক ভূমিকা পালন করছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।   

আমাদের নারীকেন্দ্রিক সমস্যা, যা সামগ্রিক সামাজিক সমস্যারই আরেকটি দিক সেটি নিয়েও আমাদের ভাবার সময় কিন্তু এসেছে। এই ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়ে এর চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে কাজও করতে হবে। কেবল উচ্চশ্রেণির নারীদের প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা বা কাজকর্ম নয় বরং শিকড়ে গিয়ে, প্রান্তে পৌঁছে, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সকল শ্রেণির নারীর কণ্ঠ হয়ে কাজ করার সময় এসেছে এখন। প্রযুক্তির বদৌলতে এখন মফস্বলের নারীরাও হয়ে উঠছেন এক-একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিপণন করার জন্যও নিয়মিত ঢাকায় আসতে হয় অসংখ্য নারীকে। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায়ও বেড়েছে নারীদের কর্মসম্ভাবনা। 

বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যাই নারী। এই বিপুলসংখ্যক জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বৈশি^ক ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে উন্নত দেশগুলো। এখন সময় এসেছে বাংলাদেশেরও। ইতিমধ্যে কন্যাশিশুদের লেখাপড়া নিয়ে  উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা অনেক এগিয়েছি। এই শিক্ষিত কন্যাদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ আমাদের এখনই। সমাজ বিকাশের কোনো স্তরে নারীর ভূমিকা নেই এমনকি যথাযথ বিকাশ না হওয়ার পেছনেও নারীর অসম অবস্থানই মূল কারণ। মেয়েরাও যে ঘরের খরচপত্র ভাগাভাগি করে নিতে পারে, আমোদ করতে থিয়েটারে যেতে পারে বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে পারে, সেটি এখন আর চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এমতাবস্থায় বাসন্তী নিবাসের এই অসাধারণ উদ্যোগকে স্বাগত। আসছে বছরগুলোতে এমন অনেক বাসন্তী নিবাসে ছেয়ে যাক শহর ঢাকা। নারীরা নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে দূর থেকে এসে করে যাক তাদের রোজকার কাজকর্মগুলো। ক্যাপসুল হোটেলের এই ধারণা ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র। আমাদের মতো স্বল্প আয়ের দেশে বিরাট বিরাট সম্ভাবনার জন্য নারী-পুরুষনির্বিশেষে স্বপ্নগুলো স্বল্পতার ছোঁয়া থেকে মুক্তি পাক। একজন স্থপতি, ডিজাইনার তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন ঘটান তাঁর প্রকল্পে। একজন চিন্তকের সৃষ্টিশীলতায় ফুটে উঠুক জেন্ডারবিহীন বাসযোগ্য নারীবান্ধব নগর।  
প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১২৪তম সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০২০

স্থপতি সুপ্রভা জুঁই
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top