….পূর্ব প্রকাশের পর
মার্বেল ফ্লোর
ইমারতের ফ্লোর ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই মার্বেলপাথরের প্রচলন রয়েছে। এটি আভিজাত্যের প্রতীক একই সঙ্গে ব্যয়বহুল। অতীতের অভিজাত স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করলে এর যথার্থতা পাওয়া যায়। যা হোক, উৎস স্থল অনুসারে আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরনের মার্বেলপাথর ব্যবহৃত হয়Ñ
১. ইন্ডিয়ান
২. ইতালিয়ান।
ইন্ডিয়ান মার্বেলপাথরের দাম ও দৃষ্টিনান্দনিকতা তুলনামূলকভাবে কম। ইন্ডিয়ান মার্বেলপাথরের দাম মানভেদে প্রতি এসএফটি (স্কয়ার ফিট) সর্বনিম্ন ১৮০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৬০ টাকা। অন্যদিকে, ইতালিয়ান মার্বেলের দাম প্রতি এসএফটি সর্বনিম্ন ৪০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫৫০ টাকা। এই দুই ধরনের মার্বেলই এখানকার বাজারে প্রচলিত।
উভয় দেশের মার্বেলের ক্ষেত্রেই পাথরের সাইজ ও কোয়ালিটি ওপর ভিত্তি করে দামের পার্থক্য হয়ে থাকে। প্রসঙ্গত, ইতালিয়ান মার্বেলের দৃষ্টিনান্দনিকতা, স্থায়িত্ব ও দামের পার্থক্য তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। ফলে, ব্যবহারকারীর রুচি ও আর্থিক সংগতি অনুযায়ী এই মার্বেল পাথরসমূহ ব্যবহৃত হয়।
ফ্লোর ফিনিশিং কাজের জন্য সব ধরনের মার্বেল পাথরই ৩/র্৪র্ পুরুত্বে সাব আকারে কাটা হয়। উৎসভেদে এই সাবগুলো বিভিন্ন সাইজের হয়ে থাকে এবং সাইজ অনুযায়ী এর দামের তারতম্য হয়। মার্বেলপাথর সাধারণত অমসৃণ অবস্থায় লাগানো হয়।
আরসিসি ঢালাইকৃত ফ্লোরের ওপর সিমেন্ট মর্টারের সাহায্যে সিরামিক কিংবা মোজাইক টালির মতো একই নিয়মে মার্বেলপাথর বসানো হয়। এরপর নির্দিষ্ট সময় (কমপক্ষে ১৪ দিন) পর্যন্ত কিউরিং করে মোজাইক ফ্লোরের মতো মেশিন ও হাতে কেটে মিশ্রণ তৈরি করা হয়। সর্বশেষে সিরিশ কাগজ ও অ্যাসিড পাথর দিয়ে ঘষে ফিনিশিং করা হয়।
মার্বেলপাথরের কাজ সম্পাদনে টালির মতো সব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মালামাল ক্রয়, অপচয় রোধ, কাজের কোয়ালিটি নিশ্চিত, লেবার বিল পরিশোধÑ সবই সিরামিক কিংবা মোজাইক টালির কাজের মতো একই নিয়মে বাস্তবায়ন করা হয়।
ইলেকট্র্রিক ওয়্যারিং
একটি ইমারতের পার্টিশন ওয়ালের কাজ শেষ করার পর ইলেকট্রিক ওয়্যারিংয়ের কাজ করা হয়। অত্র কাজটি করার আগে কোথায় কোথায় (লাইট, ফ্যান, এসি, গিজার, ওয়াশিং মেশিন, ফ্রিজ ইত্যাদি) কয়টি পয়েন্ট থাকবে তার একটি সঠিক দিকনির্দেশনা থাকা অত্যাবশ্যক। উল্লেখিত বিভিন্ন জিনিসের জন্য বিভিন্ন ধরনের তার ও সুইচ-সকেটের প্রয়োজন হয়।
ফলে এসব ব্যাপারে কোনো দিকনির্দেশনা না থাকলে মিস্ত্রি তার ইচ্ছামতো তার টেনে সুইচ-সকেট বসিয়ে দেয়, যাতে ভবিষ্যতে নানা ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া মালামালের অপচয় রোধ করা এবং কাজের ব্যবহারিক সুবিধাদি পাওয়ার ক্ষেত্রে কাজ বাস্তবায়ন করার আগেই সব নির্দেশনা তৈরি করা জরুরি।
মনে রাখা দরকার, বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র ব্যবহার করার জন্য স্থাপিত ওয়্যারিংয়ের তার ও সুইচ-সকেটের নির্দিষ্ট শক্তি নির্ধারণ করা থাকে, যা মেনে চলা অপরিহার্য। এসব দিকনির্দেশনা তৈরি করার জন্য একজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর পরামর্শ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। প্রকৌশলী কর্তৃক প্রতিটি পয়েন্ট নির্দেশ করে কোথায় কত শক্তিসম্পন্ন তার ও সুইচ-সকেট লাগাতে হবে, তা ড্রয়িংয়ে উল্লেখ থাকে।
ড্রয়িং মোতাবেক কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য অভিজ্ঞ মিস্ত্রি কিংবা সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া জরুরি। এ ছাড়া মালামাল কেনার জন্য সঠিকভাবে এস্টিমেট করা এবং মালামালের কোয়ালিটি বুঝে নেওয়ার জন্য নিজে অভিজ্ঞতা অর্জন করা কিংবা অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দ্বারা মাঝেমধ্যে তদারক করানো নিশ্চিত করতে হবে।
চলবে…..
প্রকাশকাল: বন্ধন, ৮৮তম সংখ্যা, আগস্ট ২০১৭।