ইমারত নির্মাণ ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ (পর্ব-৫)

…..পূর্ব প্রকাশের পর

এর আগে প্রকাশিত পর্বসমূহের ধারাবাহিক আলোচনায় পার্টিশন ওয়াল নির্মাণে শুধু কাঠামোগত বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। এরপর এর সঙ্গে সম্পৃক্ত যে কাজটি আসে তা হলো, ইলেকট্র্রিক ও স্যানিটারি পাইপসমূহ ওয়্যারিং। এই ওয়্যারিংয়ের কাজটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি বিষয়। কাজটি হতে পারে কনসিল্ড কিংবা সারফেস্ড, যেটাই হোক না কেন, কাজগুলো অবশ্যই প্লাস্টার কিংবা পেইন্টিংয়ের (ফিনিশিং) কাজ করার আগেই সম্পন্ন করা বাঞ্ছনীয়। বিশেষ করে ইটের তৈরি পার্টিশন ওয়ালের ক্ষেত্রে ওয়ালে গ্রুভ কাটা এবং পাইপসমূহ কনসিল্ড করার কাজগুলো অবশ্যই ফিনিশিং কাজের আগেই ঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে নানা ধরনের জটিলতার আশঙ্কা থেকে যায়, যা বিভিন্ন প্রকার বিড়ম্বনা বাড়ানোসহ অহেতুক খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রসঙ্গত আরও উল্লেখ্য যে ইলেকট্রিক কিংবা স্যানিটারি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপসমূহ সময়মতো সঠিকভাবে বসানো না হলে, পরবর্তীকালে সৃষ্ট সমস্যাদি দূর করতে আনুষঙ্গিক আরও অনেক কাজের সংশ্লিষ্টতা বাড়তে পারে। ‘Re-work is Always Expensive’ অত্র বিষয়টি মাথায় রেখে সব কাজ সম্পাদন করতে হবে। পার্টিশন ওয়ালে কনসিল্ড করার জন্য ইলেকট্র্রিক ও স্যানিটারি পাইপসমূহ ওয়্যারিংয়ের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার পর ফিনিশিংয়ের কাজ ধরতে হবে। অত্র ফিনিশিং কাজের আইটেম, মালামাল ও লেবারসংক্রান্ত বিষয়সমূহের ওপর সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা করতে এবং দিকনির্দেশনা দিতে চাই, যাতে সংশ্লিষ্ট সবাই এ বিষয়ের ওপর সম্যক ধারণা নিয়ে নিজ নিজ কাজ সুসম্পন্ন করতে পারে। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে একটি পার্টিশন ওয়ালের কাঠামো নির্মাণ করতে ব্যবহৃতব্য মালামালের যেমন, প্রকারভেদ আছে, তদ্রুপভাবে এর ফিনিশিং কাজের জন্য ব্যবহৃতব্য মালামালেরও অনেক প্রকারভেদ আছে। যেমন- ইটের তৈরি ওয়ালের ক্ষেত্রে প্লাস্টার ও পেইন্ট করা (ক্ষেত্রবিশেষে ইটের তৈরি ওয়ালের ওপর টালি বসিয়েও ফিনিশিং দেওয়া হয়ে থাকে), কাঠ বা বোর্ডের ওয়ালের ক্ষেত্রে পেইন্ট অথবা পলিশ করা, গ্লাস পার্টিশনের ক্ষেত্রে পেপার লাগানো ইত্যাদি।

পেইন্ট, পলিশ, পেপার সবকিছুরই আবার গুণগত মান ও স্থায়িত্বতা অনুসারে দামের তারতম্য এবং তদ্নুযায়ী লেবার খরচেরও পার্থক্য আছে। ফলে, কৃত কাজের দৃষ্টিনান্দনিকতা এবং দীর্ঘস্থায়িত্বতা অনুযায়ী ব্যবহৃতব্য মালামাল নির্বাচন করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর রুচি ও আর্থিক সংগতির বিষয়টিই প্রণিধানযোগ্য। সলিড কাঠ বা বোর্ডের তৈরি ওয়ালের ক্ষেত্রে কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত মালামালের ভিন্নতা মোতাবেক পলিশ অথবা পেইন্ট ব্যবহার করা হয়।

ইটের ওয়ালের ওপর সাধারণত সিমেন্ট-বালুর মর্টার দিয়ে প্লাস্টার করা হয়। অত্র কাজের পরিমাপ ‘এসএফটি’ (স্কয়ার ফিট) হিসেবে হয়ে থাকে, যেমন- ১০ ফুট লম্বা এবং ৫ ফুট চওড়া একটি ওয়ালে কাজের পরিমাণ হবে ১০’ x ৫’ = ৫০ এসএফটি। এই প্লাস্টারের কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রতি ১০০ ‘এসএফটি’ কাজের বিপরীতে কী পরিমাণ মালামাল লাগবে এবং লেবার-মিস্ত্রি বাবদ কত খরচ হবে তা নির্ণয়পূর্বক সর্বমোট খরচের আনুমানিক একটি হিসাব বের করা যায়।

প্লাস্টারের কাজের জন্য সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণে মর্টার তৈরি করে ইটের ওয়ালের ওপর কমপক্ষে ১/২”  (ইঞ্চি) পুরু প্রলেপ দিয়ে ফিনিশিং দেওয়া হয়। এই ১/২”  পুরুত্বে প্লাস্টার করার জন্য প্রতি ১০০ এসএফটি জায়গার জন্য ১ ঃ ৬ (সিমেন্ট ঃ বালু) অনুপাতে ৩-৪ ব্যাগ সিমেন্ট এবং ৬ সিএফটি বালু প্রয়োজন হয়। তদনুসারে ১০০ এসএফটি প্লাস্টার করার জন্য আনুমানিক খরচের হিসাব:

ধরা যাক,

৩/৪ (০.৭৫) ব্যাগ সিমেন্টের দাম: ০.৭৫ x ৪২০ = ৩১৫ টাকা (প্রতি ব্যাগ সিমেন্টের দাম ৪২০ টাকা)

৬ সিএফটি বালুর দাম              : ৬ x ২৫ = ১৫০ টাকা (প্রতি সিএফটি বালুর দাম ২৫ টাকা)

১০০ এসএফটির জন্য লেবার খরচ: ১০০ x ১০ = ১০০০ টাকা (প্রতি এসএফটির জন্য লেবার খরচ ১০ টাকা)

                                            মোট = ১৪৬৫ টাকা

অতএব,

১০০ এসএফটি জায়গা প্লাস্টার করার জন্য মালামাল ও লেবার খরচ বাবদ সর্বমোট খরচ হবে ১ হাজার ৪৬৫ টাকা। এমনিভাবে সম্পূর্ণ কাজের জন্য আনুমানিক একটা খরচের হিসাব বের করা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, কাজের গুণগত মান রক্ষা করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যা নির্ভর করবে ব্যবহৃতব্য মালামালের গুণাগুণ এবং রাজমিস্ত্রির কর্মদক্ষতার ওপর।

এই প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ্য যে অত্র কাজের জন্য ব্যবহৃতব্য মালামাল ও লেবার উভয়েরই কোয়ালিটি অনুসারে দামের পার্থক্য আছে, যা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা জরুরি। অতএব, সম্পূর্ণ কাজটি সুসম্পন্ন করতে কোন কোয়ালিটির মালামাল ব্যবহার করা হবে এবং কী মানের লেবার-মিস্ত্রি দিয়ে কাজ সম্পাদন করা হবে সে অনুযায়ী সর্বমোট খরচের হিসাবে বড় একটা তারতম্য এসে যেতে পারে। 

ইটের তৈরি ওয়াল প্লাস্টার করার পর নিয়মিত কিউরিং করা এবং ঠিকমতো শুকানোর পর পেইন্টিংয়ের কাজ করা হয়। এই কাজটি মালামাল ও লেবার খরচসহ একই সঙ্গে প্রতি ‘এসএফটি’ দরে কনট্রাক্ট দেওয়া যায় কিংবা প্রয়োজনীয় মালামাল নিজেরা কিনে দিয়ে শুধু লেবার কনট্রাক্ট হিসেবে প্রতি ‘এসএফটি’র দরেও কাজ করানো যেতে পারে। পেইন্টিংয়ের কাজেও প্লাস্টারের মতো একই পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্য-প্রস্থ গুণ করে মোট কাজের পরিমাণ নিরূপণ করা হয়।

অর্থাৎ, যদি একটি ওয়ালের দৈর্ঘ্য ১০ ফুট এবং প্রস্থ ৫ ফুট হয়, সে ক্ষেত্রে মোট কাজের পরিমাণ হবে ১০’ x ৫’ = ৫০ এসএফটি। উল্লেখিত এই হিসাবগুলো যদি কেউ একবার মাথায় ঢুকিয়ে নিতে পারে, তবে তার জন্য নির্মাণকাজের কোয়ালিটি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা তেমন কঠিন কাজ নয়। প্রসঙ্গত, ইট বা কংক্রিটের ওয়ালে পেইন্ট করার জন্য অতীতে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে সীমিত কিছু পেইন্টিং মালামাল (হোয়াইট ওয়াট ওয়াশ, ডিসটেম্পার, স্নোসেম) পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমান বাজারে ইট কিংবা কংক্রিটের ওয়ালের ওপর পেইন্ট করার জন্য কাঁচামাল হিসেবে উপরোল্লিখিত মালামালগুলোর ব্যবহার নেই বললেই চলে। এসবের পরিবর্তে উন্নতমানের এবং ব্যয়বহুল নানা ধরনের পেইন্টিং মালামাল বাজারে বিদ্যমান। যেমন- ডিসটেম্পার, প্লাস্টিক পেইন্ট, লাক্সারি সিল্ক, ইজি ব্রিদ, ওয়েদার কোট ইত্যাদি। সেই সঙ্গে আছে নানা রঙের বাহার। যে যার রুচি ও আর্থিক সংগতি অনুযায়ী এসব পেইন্টিং মালামাল ব্যবহার করতে পারে।   

এ ছাড়া সলিড কাঠ বা বোর্ডের ওয়ালের ওপর পলিশ কিংবা এনামেল পেইন্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সাধারণত দামি কাঠ বা বোর্ডের ওপর পলিশ করা হয়, যা তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। এই কাজটিও মালামাল ও লেবার খরচসহ একই সঙ্গে প্রতি ‘এসএফটি’ দরে কনট্রাক্ট দেওয়া যায় কিংবা প্রয়োজনীয় মালামাল নিজেরা কিনে নিয়ে শুধু লেবার কনট্রাক্ট হিসেবে প্রতি ‘এসএফটি’র দরে কাজ করানো যেতে পারে। এ ছাড়া তুলনামূলকভাবে কমদামী কাঠ বা বোর্ড দিয়ে তৈরি ওয়ালে সাধারণত এনামেল পেইন্ট করা হয়। গ্লাস পার্টিশন ওয়ালের ক্ষেত্রে ফ্রস্টেড কিংবা টিন্টেড পেপার লাগানো হয়ে থাকে। এসব পেপারের প্রকারভেদ ও কোয়ালিটি অনুযায়ী দামের পার্থক্য আছে, যেটি আবারও রুচি এবং আর্থিক সংগতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। উল্লেখ্য যে পেপারের প্রকারভেদ কিংবা দামের পার্থক্য যা-ই হোক না কেন, লাগানোর জন্য লেবার খরচ সব ক্ষেত্রেই একই হয়। এ ছাড়া মালামাল ও লেবার খরচ বাবদ সব দর এবং মোট খরচের হিসাবে ‘এসএফটি’তে করা হয়।

অতএব, উল্লেখিত প্রতিটি কাজ বাস্তবায়নকল্পে সংশ্লিষ্ট সবার প্রয়োজনীয় মালামালের গুণাগুণ ও প্রকারভেদ, কর্মপদ্ধতি এবং লেবার-মিস্ত্রি সম্পর্কে সম্যক কিছু জ্ঞান থাকা অত্যাবশ্যক। যাতে কাজের গুণগত মান রক্ষা করা এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

ফ্লোর ফিনিশিং

আরসিসি নির্মিত একটি কাঠামোর প্রতিটি ছাদের ওপর ফ্লোর ফিনিশিং দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা বিদ্যমান। যেমন- পেটেন্ট স্টোন, মোজাইক, সিরামিক টাইলস, মার্বেল ইত্যাদি। সর্বনিম্ন খরচে নিট সিমেন্ট ফিনিশিং দিয়ে যে ফ্লোর তৈরি করা হয় তাকে ‘পেটেন্ট স্টোন’ বলা হয়। এ ক্ষেত্রে, আরসিসি ফ্লোরের ওপর সিমেন্ট, বালু ও ইট বা পাথরের ছোট খোয়ার মিশ্রণ দিয়ে ১”  (ইঞ্চি) থেকে ১.৫০”  পুরুত্বে ঢালাই করে নিট সিমেন্ট ফিনিশিং দেওয়া হয়। এই কাজটি ‘আর্টিফিশিয়াল পেটেন্ট স্টোন উইথ নিট সিমেন্ট ফিনিশড ফ্লোর’ নামে পরিচিত, এটি যে পদ্ধতি অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়-

পেটেন্ট স্টোন ঢালাই করার পর তা একটু শক্ত হলে সর্ব ওপরে শুধু সিমেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে স্টিল ট্রাউয়েল ফিনিশিং দেওয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ট্রাউয়েল ফিনিশিং দেওয়ার আগে কিছু সিমেন্ট মর্টারও ব্যবহার করা হয়, যা সমীচীন নয়। কারণ, সময়ের ব্যবধানে ওপরের নিট সিমেন্ট ফিনিশিং নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই পেটেন্ট স্টোন ঢালাই কাজের পরিমাপ ‘এসএফটি’ হিসাবে করা হয়ে থাকে। ফলে, প্রতি ১০০ এসএফটি ফ্লোর ১ ঃ ২ ঃ ৪ (সিমেন্ট, বালু ও খোয়া) অনুপাতে ঢালাই করতে প্রয়োজনীয় মালামালের একটি হিসাব:

১”  (ইঞ্চি) পুরু ফ্লোরের জন্য

সিমেন্ট: (১.৫০ + ০.৫০) = ২.০০ ব্যাগ (নিট সিমেন্ট ফিনিশিংয়ের জন্য ০.৫০ ব্যাগ অতিরিক্ত)

বালু   :                     = ৩.৫০ সিএফটি

খোয়া  :                     = ৭.০০ সিএফটি  

১.৫০”  (ইঞ্চি) পুরু ফ্লোরের জন্য,

সিমেন্ট: (২.২৫ + ০.৫০) =  ২.৭৫ ব্যাগ (নিট সিমেন্ট ফিনিশিংয়ের জন্য ০.৫০ ব্যাগ অতিরিক্ত)

বালু:                        =  ৬.০০ সিএফটি

খোয়া:                       = ১২.০০ সিএফটি  

উপরোল্লিখিত হিসাব অনুযায়ী সম্পূর্ণ কাজটি সম্পাদন করতে কী পরিমাণ মালামল প্রয়োজন হবে তার হিসাব বের করা সম্ভব। এ ছাড়া বর্তমান বাজার দরে ওই মালামাল কিনতে মোট খরচের হিসাবটিও নির্ণয় করা যেতে পারে। তবে উল্লেখিত কাজটি সম্পন্ন করতে হিসাবকৃত মালামালের খরচের সঙ্গে প্রয়োজনীয় লেবার খরচ যোগ করে নিতে হবে।

অতীতে ‘আর্টিফিশিয়াল পেটেন্ট স্টোন উইথ নিট সিমেন্ট ফিনিশড ফ্লোর’-এর প্রচলনই বেশি ছিল। কিন্তু, বর্তমানে মানুষের আর্থিক সংগতি বাড়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত রুচির পরিবর্তন ঘটায় ‘পেটেন্ট স্টোন ফ্লোর’ একেবারে নিম্নবিত্তের আবাসন কিংবা শস্যভান্ডার নির্মাণের ক্ষেত্র ছাড়া অন্যত্র আর ব্যবহার করা হয় না। 

অভিজাত একটি আবাসিক ভবনের ফ্লোর নির্মাণকল্পে ‘আর্টিফিশিয়াল পেটেন্ট স্টোন উইথ নিট সিমেন্ট ফিনিশড ফ্লোর’-এর পরিবর্তে একসময় মোজাইক ফ্লোরের বহুল প্রচলন থাকলেও বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সিরামিক টাইলস এবং মার্বেলই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব মালামালের গুণাগত মান এবং দাম বিবেচনায় প্রকারভেদ ভিন্ন। ফলে, ব্যবহারকারীর রুচি ও আর্থিক সংগতি বিবেচনা করে সব ধরনের মালামাল নির্বাচন করা হয়ে থাকে।

চলবে….

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৮৫তম সংখ্যা, মে ২০১৭।

প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান পিইঞ্জ
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top