উন্নত দেশে রাতারাতি গড়ে ওঠে নতুন নতুন স্থাপনা, স্বল্প সময়ে বদলে দেয় শহরের চিরচেনা আদল। এসব স্থাপনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন তদারকিতে নিয়োজিত থাকে সরকারি কিংবা ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা, যাঁরা কাজের সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং মান নিয়ন্ত্রণকল্পে ভালো-মন্দ দিকগুলো বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তাঁদের কর্মে গাফিলতি কিংবা ত্রুটিবিচ্যুতির জন্য জবাবদিহি করতে হয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে। আমাদের দেশে এসব নিয়মনীতি বিদ্যমান থাকলেও তার যথার্থ বাস্তবায়ন হয় না প্রায়ই। সরকারি কিংবা বেসরকারি সবক্ষেত্রেই এমন কিছু প্রকল্প গড়ে উঠতে দেখা যায়, যা তদারক করার আদৌ কোনো ব্যবস্থা আছে কি না কিংবা থাকলেও তা নিশ্চিত করতে কোনো জবাবদিহি আছে বলে মনে হয় না।
যা হোক, নির্মিতব্য একটি প্রকল্পের স্থায়িত্বতা নিশ্চিত করতে কিংবা ব্যবহারকালীন ঝুঁকি এড়াতে প্রকল্পসমূহের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোল একটা অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। আর এই কোয়ালিটি কন্ট্রোলের বিষয়টিতে আমরা অনেক পিছিয়ে বললে হয়তো ভুল হবে না। এর জন্য দায়ী মূলত আমাদের অসাধুতা, অনভিজ্ঞতা আর অসচেতনতা। মনে রাখা দরকার, একজন সৎ, অভিজ্ঞ ও সচেতন ব্যক্তি কখনোই তার কোনো কর্মে গাফিলতি করে না, পারে না ত্রুটিপূর্ণভাবে কোনো কাজ শেষ করতে। ফলে, একটি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল নিশ্চিত করতে সৎ, অভিজ্ঞ ও আত্মসচেতন ব্যক্তি/ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে প্রয়োজন, সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড তদারক করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, যেকোনো নির্মাণ প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোল করার বিষয়গুলো একটি দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তাই নিজ নিজ দেশের সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগেই কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ের ওপর সমানভাবে গুরুত্ব আরোপ করা এবং সবকিছু সূক্ষ¥ভাবে বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক পরিপূর্ণ একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা আবশ্যক। প্রসঙ্গত, প্রতিটি দেশই নিজেদের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে ভিন্ন ভিন্নভাবে তাদের প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন করে থাকে। তবে যে যেভাবে করুক না কেন, সব ক্ষেত্রেই প্রকল্প বাস্তবায়নকল্পে ব্যবহৃতব্য মালামাল এবং কাজের কোয়ালিটি নিশ্চিত করণার্থে সংশ্লিষ্ট সবারই সম্যক জ্ঞান থাকা এবং আত্মসচেতন হওয়া জরুরি। প্রকল্পটি সরকারি বা বেসরকারি যা-ই হোক,
- কত দিনে সকল কাজ শেষ করতে হবে
- সময়মতো কাজ শেষ করতে কী কী প্রয়োজন
- কীভাবে সব কাজ দ্রুত শেষ করা যায়
- ব্যবহৃতব্য মালামালের কোয়ালিটি কী হবে
- বিভিন্ন কাজের কর্মপদ্ধতি কী হবে
- কাজ সম্পাদন করতে কী কী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন
- সার্বিক তদারকি কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে।
উপরিউক্ত বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণপূর্বক সুচিন্তিত ও কার্যকরি একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা এবং তদ্নুযায়ী সব কাজ সম্পাদন করা অপরিহার্য। পুনশ্চ, কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করণার্থে যেসব বিষয় জড়িত তার শ্রেণিবিন্যাস করলে দেখা যায় 5M-Men (জনবল), Materials (মালামাল), Machine (যন্ত্রপাতি), Methods (কর্মপদ্ধতি) & Minute (সময়) এবং 1H (How) পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে সবকিছু বিশ্লেষণ করা দরকার। আর এই পদ্ধতি অবলম্বন করে সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকেই সার্বিক বিষয়াবলি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা জরুরি। অত্র বিষয়ে ইদানীং আমাদের সচেতনতা কিছুটা বাড়লেও সর্বস্তরে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অধিকতর সচেতন করা এবং সার্বিক কাজের মূল্যায়ন করত বিদ্যমান অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো দরকার।
সর্বোপরি, একটি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন এবং সার্বিক কোয়ালিটি কন্ট্রোল নিশ্চিত করণার্থে সব কাজে সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থাপনা পর্ষদ তৈরি করা অপরিহার্য। নিরবচ্ছিন্ন তদারকি ছাড়া কোনো কাজই সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা আমাদের দেশে অন্তত সম্ভব নয়। তাই 5M এবং 1H পদ্ধতি অবলম্বন করা এবং এতদ্সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলাদা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে সব কাজ সুসম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
প্রথমত (জনবল)
কর্মরত/দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি/ব্যক্তির্দের কোয়ালিটি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া দরকার। দায়িত্ব প্রদানের আগেই একজন লোকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং কোয়ালিটি সচেতনতার মতো বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন। প্রতিটি মানুষের কাজের কোয়ালিটি তার শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, সততা, কর্মনিষ্ঠতা, কর্মক্ষমতার সমষ্টির ওপর নির্ভর করে। আমাদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একজন কর্মজীবী মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকেই তার সার্বিক যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে পরিগণিত করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সবারই মনে রাখা দরকার, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আর বাস্তব অভিজ্ঞতা এক নয়। বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পরিপূর্ণতা আসে না। আর এই অভিজ্ঞতার পরিপূর্ণতা আসে প্রশিক্ষণ, বাস্তবায়ন ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান অর্জনের মধ্য দিয়ে। তাই যেকোনো পেশাগত শিক্ষার পরিপূর্ণতা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষাকে চারটি স্তরে বিভক্ত করে ধারাবাহিকভাবে তা সম্পন্ন করা অত্যাবশ্যক।
- লার্নিং (প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা)
- ট্রেনিং (প্রশিক্ষণ)
- ইমপ্লিমেন্টেশন (বাস্তবায়ন) ও
- রিসার্স (ফলাফল বিশ্লেষণ ও সংশোধন)
এই চারটি ধাপ পর্যায়ক্রমিকভাবে শেষ করতে না পারলে পেশাগত উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব নয়। তবে জীবন থেমে থাকে না, থেমে থাকে না কোনো কাজই। কোনো না কোনোভাবে সব কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। দিনাতিপাত হয়ে যায় যেকোনো অবস্থার মধ্য দিয়ে। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে কোয়ালিটির, যা প্রতিটি মানুষের সব কৃতকর্মের জন্য প্রযোজ্য এবং সেটি শুধু অভিজ্ঞতা ও আত্মোপলব্ধির মধ্য দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করার আত্মতৃপ্তি এবং কোয়ালিটিসম্পন্ন কাজ করার সুস্থ মানসিকতার স্বাদই আলাদা। পাশাপাশি আরও মনে রাখা দরকার, নির্দিষ্ট কোনো পেশায় প্রকৃত অভিজ্ঞতা অর্জনকারী কোনো মানুষ অসচেতন হতে পারে না, পারে না কোনো ত্রুটিপূর্ণ কাজের ধারক কিংবা বাহক হতে। ফলে, একটি স্থায়ী, মজবুত, মানসম্মত ও ঝুঁকিবিহীন ইমারত নির্মাণকল্পে প্রয়োজন প্রশিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া এবং সার্বিক তদারকি নিশ্চিত করা।
দ্বিতীয়ত (মালামাল)
নির্মিতব্য ইমারতের ব্যবহার উপযোগিতা, স্থায়িত্বতা ও নান্দনিকতা বিবেচনা করে নির্মাণকাজে ব্যবহৃতব্য মালামাল নির্বাচন করা এবং কাঁচামালের কোয়ালিটি নিশ্চিত করাও একটি বিশেষ বিষয়। মালামালের কোয়ালিটি নিশ্চিত করতেও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। আর এই মালামাল নির্বাচন সঠিকভাবে না হলে কিংবা এর গুণগতমান ভালো না হলে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ ইমারত নির্মিত হবে সবার অজান্তে। নির্বাচিত মালামাল নির্মাণকাজে ব্যবহারের আগে ল্যাবরেটরিতে টেস্ট করার মাধ্যমে কাঁচামালের গুণাগুণ অবশ্যই দেখে নেওয়া দরকার। এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়মনীতি আছে, যা অনুসরণ করা জরুরি। একটি ইমারত নির্মাণকল্পে ব্যবহৃতব্য ইট, পাথর, বালু, সিমেন্ট, রড, পানিÑ প্রতিটি জিনিসের জন্য আলাদা আলাদা স্পেসিফিকেশন আছে, যা ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে মিলিয়ে নেওয়া অত্যাবশ্যক।
তৃতীয়ত (যন্ত্রপাতি)
নির্দিষ্ট সময়ে মানসম্মত ইমারত নির্মাণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়, যা ব্যবহারে কাজের কোয়ালিটি রক্ষা করা এবং নির্মাণ সময় সাশ্রয় করা সম্ভব। আমাদের দেশে অতীতে নির্মাণসংক্রান্ত যন্ত্রপাতির অভাব থাকলেও বর্তমানে অত্র বিষয়ে বেশ সমৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সব খাতেই নির্মাণসংক্রান্ত যন্ত্রপাতির ব্যবহারও বেড়েছে। এসব যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য অভিজ্ঞ জনবল প্রয়োজন। একজন চালকের অনভিজ্ঞতার কারণেও নষ্ট হতে পারে কাজের কোয়ালিটি। বিশেষ করে কংক্রিট মিকচার ও ভাইব্রেটর মেশিন চালকের অনভিজ্ঞতার ফলে নিম্নমানের এবং ঝুঁকিপূর্ণ একটি কংক্রিট স্ট্রাকচার তৈরি হয়ে যেতে পারে। সুতরাং প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব দিক যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার। একটি ইমারত নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি;
- আর্থ এক্সকেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র)
- আর্থ কমপ্যাক্টর (মাটি বসানোর যন্ত্র)
- কংক্রিট মিকচার (খোয়া, বালু ও সিমেন্ট মেশানোর যন্ত্র)
- কংক্রিট লিফটিং পাম্প (উঁচু বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে কংক্রিট ওপরে তোলার যন্ত্র)
- কংক্রিট কমপ্যাক্টর (ভাইব্রেটর)
- রড কাটার (স্বল্প শ্রম ও সময় ব্যয়ে অধিক রড কাটার যন্ত্র)
- টাইলস কাটার ইত্যাদি।
চতুর্থত (কর্মপদ্ধতি)
যার ওপর সর্বতভাবে নির্ভরশীল একটি ইমারতের দীর্ঘস্থায়িত্বতা ও ব্যবহারের উপযোগিতা। একটি ইমারত নির্মাণ প্রকল্পে কাজের আইটেম অনেক, এগুলোকে সমষ্টি (সামারি) আকারে প্রকাশ করলে;
- সিভিল ওয়ার্কস (কংক্রিট ও মেশিনারি)
- স্যানিটারি ওয়ার্কস (স্যুয়ারেজ ও ওয়াটার সাপ্লাই)
- ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস (কন্ডুইটিং, ওয়ারিং ও ইনস্টলেশন অব ফিটিং-ফিক্সারস)
- মেকানিক্যাল ওয়ার্কস (লিফট, জেনারেটর, পাম্প)
- কারপেন্ট্রি ওয়ার্কস (জানালা, দরজা, কেবিনেট)
- টাইলস ওয়ার্কস (ফ্লোর, ওয়াল, পার্কিং)
- অ্যালুমিনিয়াম ওয়ার্কস (জানালা, দরজা, পার্টিশন)
- এমএম ওয়ার্কস (গ্রিল, রেইলিং)
- পেইন্টিংস ওয়ার্কস (ওয়াল, সিলিং, রুফ)
- পলিশিং ওয়ার্কস (জানালা, দরজা, কেবিনেট) ইত্যাদি।
উল্লিখিত প্রতিটি আইটেমের অনেক সাব-আইটেম আছে, যার প্রতিটি ক্ষেত্রেই আলাদা আলাদা কর্মপদ্ধতি প্রযোজ্য। আর এসব আইটেমের কর্মপদ্ধতির কোয়ালিটির ওপর নির্ভর করে একটি ইমারতের সার্বিক কোয়ালিটি। সব আইটেমের কাজের পদ্ধতি ও কোয়ালিটি সম্পর্কে এত সংক্ষেপে এবং স্বল্প সময়ে বলা সম্ভব নয়। ফলে নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মানুষকে তার নিজ নিজ কাজে ব্যবহৃতব্য মালামাল ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে সব কাজ সম্পন্ন করা অত্যাবশ্যক।
পঞ্চমত (সময়)
কাজের সময়, সময়মতো সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাও একটি কোয়ালিটি। ইমারত নির্মাণ প্রকল্পের প্রতিটি আইটেমের কাজের জন্য পর্যায়ক্রমিকভাবে নির্দিষ্ট একটি সময় আছে, যা মেনে চলা অত্যাবশ্যক। অন্যথায় এক আইটেমের কাজের জন্য অন্য আইটেমের কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে, লোপ পেতে পারে কাজের কেয়ালিটি। ফলে, সব কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে কাজ করা জরুরি। এ ছাড়া স্বল্প সময়ে সঠিকভাবে সব কাজ সম্পাদন করতে পারলে নানা খরচের সাশ্রয় হয়, কমে যায় মানসিক চাপসহ অনেক বিড়ম্বনা।
সবশেষ, 1H, উপরোল্লিখিত কার্যাবলি, কীভাবে, কত কম সময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা যায় সে ব্যাপারে সুচিন্তিত একটি কর্মপরিকল্পনাই দিতে পারে সব সমস্যার সমাধান। সাহায্য করতে পারে শক্ত, মজবুত, স্থায়ী ও মানসম্মত একটি নির্মাণ প্রকল্প স্বল্প সময়ে সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে। সুতরাং একটি কোয়ালিটিসম্পন্ন ইমারত নির্মাণকল্পে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী নিয়োগ দিয়ে ব্যবহৃতব্য মালামালের গুণাগুণ নিশ্চিতকরণসহ নির্মাণসংক্রান্ত সব নিয়মনীতি মেনে চলতে বাধ্য করণার্থে সার্বক্ষণিক তদারকির ব্যবস্থা করতে সবাইকেই সচেতন হতে হবে। আসুন আমরা সবাই সজাগ হই, ইমারত নির্মাণে কোয়ালিটি কন্ট্রোলে উদ্বুদ্ধ হই, অনিশ্চিত ঝুঁকির আশঙ্কা কমিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত হই নিজেরা, আশঙ্কামুক্ত রাখি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ৭৭তম সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৬।