Image

ফিরে দেখা ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ও আগামীর স্টেডিয়াম

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমাপ্তি হয়েছ। সাম্প্রতিক প্রতিযোগিতাগুলো যুগান্তকারী স্টেডিয়াম প্রকল্প এবং উচ্চাভিলাষী জাতীয় নির্মাণ কর্মসূচির সাথে যুক্ত হয়েছ। তবে ২০২৬-এর আসরটি একটি ভিন্ন পথ অনুসরণ করেছে। এটি মূলত ফিফার প্রযুক্তিগত এবং পরিচালনগত প্রয়োজনীয়তার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া বিদ্যমান ভেন্যুগুলোর উপর নির্ভর করেছে। ভবিষ্যতের স্টেডিয়ামগুলো রূপ নেবে ভিন্ন সাজে।

এ বছরের টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে বছরের এখন পর্যন্ত বিশ্বের বৃহত্তম একটি জমকালো  আয়োজনের সমাপ্তি হলো। কানাডা, মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ৪৮টি জাতীয় দল অংশগ্রহণ করে।

এই তিন দেশে ছড়িয়ে থাকা ষোলটি আয়োজক শহর একত্রিত হয় টুর্নামেন্ট আয়োজনে। কয়েক দশক ধরে, ফিফা বিশ্বকাপ স্থাপত্য নির্মাণের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। প্রতিটি আসর স্টেডিয়াম ও পরিবহন খাতে বিনিয়োগ, গণপরিসর এবং নগর পরিকল্পনার এক মহাযজ্ঞেরই বাস্তব চিত্র। এই কৃতিত্ব টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার অনেক পরেও আয়োজক শহরগুলোর অংশ হয়ে থাকবে।

টুর্নামেন্টের বিভিন্ন সংস্করণে স্টেডিয়ামগুলো তাদের সময়ের প্রযুক্তিগত, সাংস্কৃতিক এবং নগর কেন্দ্রিক অগ্রাধিকারকে প্রতিফলিত করেছে। এবারের বিশ্বকাপের কিছু স্টেডিয়াম স্থায়ী নাগরিক নিদর্শন হয়ে উঠেছে।

২০২৬ এবং ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলো এই পরিবর্তনশীল প্রত্যাশাগুলোর প্রতি সমসাময়িক ক্রীড়া স্থাপত্য কীভাবে সাড়া দিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার একটি সুযোগ করে দেয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: বিদ্যমান স্টেডিয়ামের অভিযোজন

ফিফা বিশ্বকাপের এবারের আসর গতানুগতিক সংস্করণের মতো ছিলো না। এবছর স্টেডিয়াম নেটওয়ার্ককে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছিলো। বেশিরভাগ আয়োজক ভেন্যু মূলত আমেরিকান ফুটবল বা বহুমুখী সুবিধা হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য সেগুলোকে উপযুক্ত করে তুলতে নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়েছিল।

এই পরিবর্তনগুলোর মধ্যে ছিল প্রাকৃতিক ঘাসের খেলার মাঠ স্থাপন এবং এর পাশাপাশি আসন বিন্যাস, প্রবেশগম্যতা, খেলোয়াড়দের সুবিধা, মিডিয়া পরিকাঠামো, আপ্যায়ন এলাকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দর্শকদের চলাচল ব্যবস্থার উন্নয়ন।

নতুন নির্মিত কিছু উল্লেখযোগ্য ভেন্যু তৈরির পরিবর্তে, এই টুর্নামেন্টটি দেখিয়েছে কীভাবে বিদ্যমান স্টেডিয়ামগুলোকে পরিবর্তিত পরিচালনগত চাহিদা মেটাতে অভিযোজিত করা যায় এবং টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরেও সেগুলোকে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা যায়।

বেশ কয়েকটি আয়োজক ভেন্যু এই কৌশলটির উদাহরণ। এইচকেএস এর ডিজাইন করা সোফি স্টেডিয়ামকে একটি বহুমুখী ক্রীড়া ও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে কল্পনা করা হয়েছিল। এই স্টেডিয়ামটির বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশাল ছাদের কাঠামো, অন্দর-বাহিরের সমন্বয় এবং বৃহত্তর হলিউড পার্ক ডেভেলপমেন্টের সাথে এর সংযুক্তি।

এইচওকের ডিজাইন করা আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে একটি প্রত্যাহারযোগ্য ছাদের সাথে নমনীয় কার্যক্রমের সমন্বয় রয়েছে, যা সারা বছর ধরে ক্রীড়া অনুষ্ঠান, কনসার্ট এবং জনসমাবেশের জন্য উপযোগী।

২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ

এখন সবার দৃষ্টি ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের দিকে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত আয়োজন মডেল চালু করবে। ইউরোপ, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা জুড়ে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যার মধ্যে স্পেনে এগারোটি, মরক্কোতে ছয়টি এবং পর্তুগালে তিনটি ভেন্যু খেলা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়াও, ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা এবং প্যারাগুয়ে প্রত্যেকে টুর্নামেন্টের একটি করে উদ্বোধনী ম্যাচের আয়োজন করবে। আয়োজক দেশগুলোতে নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং বিদ্যমান স্টেডিয়ামগুলোর পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে উদ্বোধনী আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কাসাব্লাঙ্কার কাছে প্রস্তাবিত হাসান স্টেডিয়াম, যা পপুলসের সহযোগিতায় ওউয়ালালু এবং চোই ডিজাইন করেছে। প্রায় ১,১৫,০০০ দর্শক ধারণের জন্য পরিকল্পিত এই স্টেডিয়ামটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়ামে পরিণত হবে। এর বিশাল টেনসাইল ছাদটি ঐতিহ্যবাহী মরক্কীয় মুসেম তাঁবুর কথা মনে করিয়ে দেয়।

এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক অবকাঠামো ও উন্নয়ন উদ্যোগের একটি অংশ। ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের জন্য বিবেচিত ভেন্যুগুলোর মধ্যেও এই প্রকল্পটি রয়েছে। মরক্কোর অন্যত্র, রাবাতের প্রিন্স মৌলে আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামকে সম্প্রতি মরক্কীয় জাতীয় দলের নতুন হোম গ্রাউন্ড হিসেবে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। একই সাথে আগাদিরের আদ্রার স্টেডিয়াম, গ্র্যান্ড স্টেড ডি মারাকেশ, ফেজ স্টেডিয়াম এবং তাঞ্জিয়ারের ইবন বাতুতা স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত আধুনিকায়নের কাজ চলছে।

এই সংস্কারগুলোতে সাধারণত দর্শক ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন ছাদের কাঠামো তৈরি, সম্মুখভাগের সংস্কার এবং দর্শক ও খেলার মাঠের মধ্যে নৈকট্য বাড়ানোর জন্য অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক অপসারণের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২০৩০ টুর্নামেন্টের বিকেন্দ্রীভূত প্রকৃতি একটি ভিন্ন স্থাপত্য কাঠামো উপস্থাপন করে, যা একাধিক শহর ও নগর প্রেক্ষাপটে ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম, সংস্কারকৃত ভেন্যু এবং নতুন নির্মাণকে সমন্বিত করে। এই পরিবর্তনটি ক্রীড়া স্থাপত্যের একটি বৃহত্তর বিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। এর ফলে ভেন্যুগুলোকে ক্রমবর্ধমানভাবে নমনীয়, বহু-ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামো হিসেবে ডিজাইন করা হচ্ছে।

Related Posts

ছোট বাড়িও দেখতে কেন বড় দেখায়?

পাহাড়ের চূড়ায় প্রতিবেশী বাড়িগুলো ছাড়িয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকা নর্থ ক্যারোলাইনের একটি আধুনিক বাড়ি। এই বাড়িটি ব্লু রিজ পর্বতমালা…

তাজহাট জমিদার বাড়ি বাংলার ইতিহাসের সাক্ষী

তাজহাট জমিদার বাড়ি বাংলার ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের এক স্মারক। পুরান রংপুর যা বর্তমানে তাজহাট উপজেলা হিসেবে পরিচিত সেখানেই গড়ে…

থিয়েটারডিএনএ: এক থিয়েটার নির্মাতার গল্প

গত এক দশকে, পারফর্মিং আর্টস ভেন্যুর সংজ্ঞা বদলে গেছে। এগুলো আর কোনো একক-উদ্দেশ্যে এখন আর ব্যবহৃত হচ্ছে না।…

নিখিল: নৃত্যের ছন্দে গড়া স্মৃতির অনুরণন

নিখিল রেসিডেন্স (একজন নৃত্যশিল্পীর বাড়ি)অবস্থান: ৩৩৫, নর্থ বাগবাড়ি, সিলেট।প্রধান স্থপতি: স্থপতি রাজন দাসআলোকচিত্র: Prantography  নিখিল রেসিডেন্স এমন এক…

01~1
previous arrow
next arrow

Bandhan Cover

সর্বশেষ

Trending Posts

Gallery

Art Gallery
Award
দক্ষিণ কোরিয়ায় সিউলের আবাসন স্থাপত্যে নতুন দিগন্ত
ভবিষ্যতের ৮টি স্টেডিয়াম যা প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে
নুহাশ পল্লী: হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের সবুজ রাজ্য
Cover
Ramna Park
রেলিং: নিরাপত্তা, সৌন্দর্য ও স্থায়িত্বের সমন্বয়
Qatar