Image

মরক্কোয় বিলাসবহুল রকেট বিল্ডিং

চারদিকে আকাশচুম্বী ভবনের প্রতিযোগিতা চলছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে একের পর এক আকাশচুম্বী ভবন। সম্প্রতি মরক্কোতে রকেট বিল্ডিং যার আকৃতি দেখতে রকেটের মতো এমন এক স্থাপনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

স্থাপত্য সংস্থা রাফায়েল দেলা-হোজ এবং হাকিম বেনজেলুনের নকশা করা ২৫০ মিটার উঁচু মোহাম্মদ ষষ্ঠ টাওয়ারটি মরক্কোতে সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে। এটি দেশটির সর্বোচ্চ এবং আফ্রিকার তৃতীয় সর্বোচ্চ ভবন।

মরক্কোর রাজা হিসেবে মোহাম্মদ ষষ্ঠের নামে এ টাওয়ারের নামকরণ করা হয়েছে এই রকেট বিল্ডিংয়ের। ‍তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে মরক্কোর রাজা হিসেবে আছেন। এই আকাশচুম্বী ভবনটি মরক্কোর রাজধানী রাবাত এবং ঐতিহাসিক শহর সালে-র মধ্যবর্তী বু রেগ্রেগ নদীর তীরে অবস্থিত। আকাশচুম্বী ভবনটির আকৃতি রকেটের মতো এবং এটি ৫৫ তলা উঁচু।

এর মৃদু বাঁকানো কাঠামোতে অফিস, অ্যাপার্টমেন্ট, প্রদর্শনী স্থান, একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং একটি ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেল রয়েছে।

আকাশচুম্বী ভবনটি একটি নিচতলায় একটি ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে একটি অভ্যর্থনা লবি ও হল, রেস্তোরাঁ, একটি প্রদর্শনী স্থান এবং একটি ব্যাংকের শাখা রয়েছে।

এই টাওয়ারটির ভিত্তি প্রস্তর স্তাপন করে মরক্কোর বিলিয়নিয়ার এবং ব্যাংক অফ আফ্রিকার সিইও ওসমান বেনজেলুনে। এরপর ২০১৭ সালে এই আকাশচুম্বী ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এটি বেনজেলুনের হোল্ডিং কোম্পানি ও ক্যাপিটাল গ্রুপের একটি শাখা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে।

মোহাম্মদ ষষ্ঠ টাওয়ারের নিচতলায় সুবিশাল অভ্যর্থনা কক্ষ। ছবি: (নে-ই পার্টনার্স)

মাদ্রিদ-ভিত্তিক রাফায়েল দে লা-হোজ এবং মরক্কোর স্টুডিও হাকিম বেনজেলুন মোহাম্মদ ষষ্ঠ টাওয়ারটিকে একটি রকেট লঞ্চ প্যাডের উপর ডিজাইন করেন। স্থাপিত রকেটের মতো আকৃতিতে এটি ডিজাইন করেন, যা ১৯৬৯ সালে বেনজেলুনের নাসার একটি ফ্লাইট সিমুলেশন পরিদর্শনের স্মৃতি বহন করে।

এই গগনচুম্বী অট্টালিকার দক্ষিণমুখী সম্মুখভাগটি একটি ফটোভোল্টাইক ডাবল স্কিন দিয়ে তৈরি। এই স্কিনগুলো সোলার প্যানেল হিসেবেও কাজ করবে। সৌরশক্তি উৎপাদনের পাশাপাশি তাপীয় সুরক্ষা প্রদানের জন্যই এভাবে ডিজাইন করা হয়েছে রকেট বিল্ডিংয়ের।

এর অভ্যন্তরীণ সজ্জার ডিজাইন করেছেন ফরাসি ডিজাইনার পিয়ের-ইভ রোশন। ডিজাইনার এই টাওয়ারে সাদা মার্বেল, ব্রোঞ্জ, ব্রাশড ব্রাস, কর্ডোবা লেদার, সিরামিক জেলিজে টাইলস এবং কাঠের প্যানেলিং-এর মতো উপকরণ ব্যবহার করেন। এসব উপকরণের চমৎকার সমন্বয় এই টাওয়ারকে মার্জিত ও কালজয়ী স্থান তৈরি হিসেবে জায়গা তৈরি করে দিয়েছে।

২৫০ মিটার উঁচু মোহাম্মদ ষষ্ঠ টাওয়ার কাসাব্লাঙ্কার ২১০ মিটার উঁচু হাসান দ্বিতীয় মসজিদকে ছাড়িয়ে মরক্কোর সবচেয়ে উঁচু ভবনে পরিণত হয়েছে।

আলজেরিয়ার গ্রেট মস্ক অফ আলজিয়ার্স টাওয়ার এবং মিশরের আইকনিক টাওয়ারের পর, এই ভবনটি আফ্রিকার তৃতীয় সর্বোচ্চ নির্মিত আকাশচুম্বী ভবন। তবে মিশরের আলামেইন আইকনিক টাওয়ার নামে আরও একটি আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের কথা রয়েছে এ বছরই। আলামেইন নির্মাণ হয়ে গেলে তা মরক্কোর এই রকেট বিল্ডিংকেও ছাড়িয়ে যাবে।

সূত্র: ডিজেইন

Related Posts

এআই স্থাপত্য রেন্ডারিংয়ে লেবেল বাধ্যতামূলক করল ইইউ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন স্থাপত্যের দৃশ্যায়ন বা রেন্ডারিং তৈরির জগতে এক অনিবার্য উপাদান হয়ে উঠেছে। আনবিল্ট ভবন, কল্পিত ইন্টেরিয়র…

লাইব্রেরি যখন সামাজিক বন্ধনের শক্তিশালী মাধ্যম

ওরেগনের দ্রুত বর্ধনশীল ডেশুটস কাউন্টিতে তৈরি হয়েছে একটি নতুন প্রজন্মের পাবলিক লাইব্রেরি।  যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান দ্য মিলার হাল…

বুখারেস্টের ‘ক্ষতবিক্ষত সৌন্দর্য’ ও এক ফিনিক্স পাখির রূপকথা

ইউরোপের অন্যান্য ঝকঝকে ও নিখুঁত ক্যাপিটাল শহরগুলোর পাশে বুখারেস্টকে দাঁড় করালে প্রথম দর্শনে একটু অগোছালো বা খাপছাড়া মনে…

স্থাপত্যের ভাষা বদলে দেওয়া ল্য করবুজিয়ের কিছু স্থাপনা

আধুনিক স্থাপত্যের ইতিহাসে এমন কিছু স্থপতি আছেন যাদের স্থাপত্যকর্ম আশ্চর্য হবার মতো। তাদের কাজ শুধু ভবনের নকশা পরিবর্তন…