Image

ফার্ন্সওর্থ হাউস

দেখতে খুবই সরল এই বাড়িটি ইতিহাসের একটি অংশ বলা যায়। লেস ইজ মোর বা সামান্যেই সব এই ধারণায় খ্যাত স্থপতি লুডউইং মিস ভ্যান ডার রো, তাঁর এই প্রকল্পের কোনায় কোনায় তা ফুটিয়ে তুলেছেন। এডিথ ফার্ন্সওর্থ তাঁর ছুটির দিনগুলোতে প্রত্যন্ত এলাকায় নিরিবিলি থাকার জন্য এই বাড়িটি নির্মাণ করান। আন্তর্জাতিক স্টাইলের স্ট্রাকচার বলে পরিচিত কাঠামোটি ধরে এখানে ডিজাইন করা হয়েছে। ন্যাশনাল হিস্টোরিক ল্যান্ডমার্ক হিসেবে এই ভবনটিকে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইলিনয়সের ২০০টি সেরা দর্শনীয় স্থানের মাঝে এটি একটি। হাউস মিউজিয়াম হিসেবেও ন্যাশনাল ট্রাস্ট অব হিস্টোরিক প্রিজার্ভেশনের আওতায় ভবনটিকে ধরা হয়েছে। বলা হয়, এই ভবনে ব্যক্তি ও সমাজের যে পারস্পরিক সম্পর্কের মূল জায়গা, সেটিকে ঘিরে কাজ করা হয়েছে। মিস ভ্যান এমন একটি সময়ে বসবাস করছিলেন, যখন তিনি প্রত্যক্ষ করছিলেন যে কীভাবে ব্যক্তিমানুষ যান্ত্রিক জীবনের নজরবন্দিতে জীবনযাপন করছে। ফলে মানুষ তার নিজের সহজাত স্বাধীন বোধ থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছে। কিন্তু মিস ভ্যান বিশ্বাস করতেন ব্যক্তিমানুষ তার সময়ের সংস্কৃতির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে চলবে। তাই এমন একটি সময় যখন প্রযুক্তি আমাদের ওপর দখলদারত্ব করছে, তখন তিনি তাঁর গোটা ক্যারিয়ারে স্থাপত্যের দ্বারা এই বিশাল সামাজিক পরিসরে ব্যক্তিমানুষের অবস্থানকে জোরালো করার তাগিদে কাজ করে গিয়েছেন। এই ভবনে মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত একটা পরিষ্কার স্পেস তৈরি। কিছু অংশ সলিড এবং কিছু অংশ একেবারেই স্বচ্ছ, যেন ভবনটি তার বক্তব্য খুব জোরালোভাবেই জানান দিচ্ছে। ¯ø্যাবের কিনারগুলোয় স্টিলের প্রকাশ দেখা যায়। ভবনটি মাটি থেকে ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি ওপরে অবস্থান করছে। মূলত বন্যাকবলিত এলাকা বলেই এই সিদ্ধান্ত। আটটি স্টিলের কলাম ভবনের কিনার ঘেঁষে মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বিরাজ করছে, যা শেষ পর্যন্ত গিয়ে যুক্ত হয়েছে একটা টেরাসে। এখানেই অভ্যন্তরীণ অংশটি বাইরের অংশে উত্তীর্ণ হয়েছে। বাড়িটিতে একক সত্তার অভিব্যক্তি যেমন ফুটে ওঠে, তেমনি তার মাঝে মাটিকে ছুঁতে চাওয়া একটা তীব্র বাসনাও প্রকাশ পায়।

একনজরে ফার্ন্সওর্থ হাউস

অবস্থান: প্লানো, ইলিনয়স

এরিয়া: ২,২২০ বর্গফুট

নির্মাণকাল: ১৯৫১ 

স্থপতি: লুডউইং মিস ভ্যান ডার রো 

স্থাপত্যের স্টাইল: আন্তর্জাতিক স্টাইল, মডার্নিস্ট

  • স্থপতি সুপ্রভা জুঁই

প্রকাশকাল: বন্ধন ১৬০ তম সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০২৩

Related Posts

মরক্কোয় বিলাসবহুল রকেট বিল্ডিং

চারদিকে আকাশচুম্বী ভবনের প্রতিযোগিতা চলছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে একের পর এক আকাশচুম্বী ভবন। সম্প্রতি মরক্কোতে রকেট বিল্ডিং যার…

ক্লক টাওয়ার দুনিয়া কাঁপানো সময় দানব

ক্লক টাওয়ার বললেই এক নামে সবাই বুঝে ফেলে সহজেই। ক্লক টাওয়ার জিনিসটা কী তা আর কাউকে বুঝিয়ে বলতে…

দ্য শার্দ আকাশ ছোঁয়া সুউচ্চ স্থাপনা

দ্য শার্দ যুক্তরাজ্য তথা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে সবচে উচু স্থাপনা। এই স্থাপনাটি এতটাই আকাশছোঁয়া, যেখান থেকে অনায়াসেই…

গা ভেজানোর পুলগুলো…

পুকুর, নদী, সমুদ্র-সবই হয়তো দেখেছেন। কিন্তু চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি আকাশে ভাসমান ‘সুইমিংপুল’ দেখেননি নিশ্চয়। কী? অবাক হচ্ছেন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *