আটলান্টিয়া

রূপকথার আধুনিক রাজপ্রাসাদ!

রূপকথার রাজপ্রাসাদের কথা বললেই চোখে ভেসে ওঠে মেঘের ওপরে ভাসমান কোনো দুর্গ, আলো-আঁধারির জাদুকরী আলো, আর রাজকীয় কারুকার্যময় কোন অট্টালিকা।

আর আধুনিক রাজপ্রাসাদ বলতে এখন আর শুধু প্রাচীন পাথুরে দেয়াল বা বিশাল সিংহাসন বোঝায় না। একবিংশ শতাব্দীতে এটি হয়ে উঠেছে—অত্যাধুনিক আল্ট্রা-লাক্সারি লাইফস্টাইল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য এবং চোখধাঁধানো নান্দনিকতার এক মহাকাব্যিক সংমিশ্রণ।

বিশ্বের অতি-ধনী মানুষের কাছে ‘আবাসন’ কেবল চার দেয়ালের একটি আশ্রয় নয়; এটি তাদের ব্যক্তিত্ব, রুচি, ক্ষমতা এবং অসীম কল্পনার এক বাস্তব রূপ। বিশ্বের সবচেয়ে নজরকাড়া ভিলাগুলোর দরজা খুললে দেখা যায়, সেখানকার প্রতিটি ইট-পাথর ও কাঁচের অলঙ্করণে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, শিল্প এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এক পরাবাস্তব মেলবন্ধন।

চলুন দেখে নেওয়া যাক বিশ্বের এমন কয়েকটা বাড়ি, যেগুলোর দাম শুনলে মাথা ঘুরে যেতে পারে।

আটলান্টিয়া
আটলান্টিয়া একটি বাড়ি নয়, বলা যায় ছোটখাট শহবা বা রাজপ্রাসাদ। ছবি: সংগৃহীত

অ্যান্টিলিয়া, মুম্বাই

তালিকার একদম শীর্ষে আছে ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির বাড়ি “অ্যান্টিলিয়া।” মুম্বাইয়ের বুকে ২৭ তলা উঁচু এই ভবনটা আসলে একটা বাড়ি না, বলা যায় একটা ছোটখাটো শহর কিংবা আধুনিক রাজপ্রাসাদ।  চার লক্ষেরও বেশি বর্গফুটের এই বাড়িতে আছে তিনটা হেলিপ্যাড, ১৬৮টা গাড়ি রাখার গ্যারেজ, একাধিক সুইমিং পুল, প্রাইভেট থিয়েটার, এমনকি একটা “স্নো রুম”ও – যেখানে কৃত্রিমভাবে তুষারপাত ঘটানো যায়! পদ্মফুল আর সূর্যের নকশায় সাজানো এই বাড়িতে ব্যবহার হয়েছে ক্রিস্টাল, মার্বেল আর মুক্তার মতো দামি সব উপকরণ। মজার ব্যাপার হলো, চারপাশের ঘিঞ্জি মুম্বাই শহরের সঙ্গে এই বাড়ির বৈপরীত্য নিয়ে বহুবার সমালোচনাও হয়েছে।

অ্যান্টিলিয়া’ নির্মাণ করতে আনুমানিক ১ থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছিল। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকা।

ভিলা লিওপোল্ডা
লিওপোল্ডার ইতিহাস আর অবস্থানই একে বানিয়েছে মর্যাদাপূর্ণ প্রাইভেট রেসিডেন্স। ছবি: সংগৃহীত

ভিলা লিওপোল্ডা, ফ্রান্স

৭৫ কোটি ডলারের ফরাসি রিভিয়েরার সবচেয়ে আইকনিক এস্টেটগুলোর একটি এই ভিলা। বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ডের সময় থেকে চলে আসা ঐতিহ্যের এই বাড়িটা ছড়িয়ে আছে পঞ্চাশ একরেরও বেশি জমিতে – বিশাল ধাপে ধাপে সাজানো বাগান, একাধিক ভবন আর ভূমধ্যসাগরের পুরো প্যানোরামিক ভিউ নিয়ে। এর ইতিহাস আর অবস্থানই একে বানিয়ে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রাইভেট রেসিডেন্স।

লে সেদ্রেস
ভিলা লে সেদ্রেস বাড়িটা এখন পরিচিত তার প্রাচীন জলপাই গাছ আর উদ্ভিদ বাজানের জন্য। ছবি: সংগৃহীত

ভিলা লেস সেদ্রেস, ফ্রান্স

১৮৩০ সালে তৈরি হওয়া এই বাড়িটাও একসময় ছিল রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ডের। ১৪টা বেডরুম, দুর্লভ বইয়ের বিশাল লাইব্রেরি, একটা গ্র্যান্ড বলরুম – সবই আছে এখানে। গ্র্যান্ড মার্নিয়ে মদের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের একসময়কার এই বাড়িটা এখন পরিচিত তার প্রাচীন জলপাই গাছ আর উদ্ভিদ বাগানের জন্য।

লে প্যালেস বাবলস, ফ্রান্স

এই তালিকার সবচেয়ে অদ্ভুত আর মজার বাড়ি সম্ভবত এটাই। স্থপতি আন্তি লোভাগের ডিজাইন করা এই বাড়িকে বলা হয় “বাবল প্যালেস” – কারণ পুরো বাড়িটাই তৈরি একের পর এক গোলাকার বুদবুদের মতো ঘর দিয়ে, যেগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা জোড়া লাগানো। ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়ের কার্দিন এই বাড়ির মালিক ছিলেন। এখানে আছে ৫০০ আসনের একটা উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়েটার আর একাধিক সুইমিং পুল – প্রতিটা ঘর সাজানো ভিন্ন ভিন্ন শিল্পীর কাজ দিয়ে।

বাবল পেলেস
লে প্যালেস বাবল বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে একের পর এক বুদবুদ আকারের ঘর দিয়ে। ছবি: সংগৃহীত

বেল এয়ার স্পেক ম্যানর, লস অ্যাঞ্জেলেস

১৯৩০-এর দশকে ফ্রেঞ্চ নিও-ক্লাসিক্যাল স্টাইলে তৈরি এই এস্টেটটি লস অ্যাঞ্জেলেসের ল্যান্ডমার্কগুলোর একটি। সাড়ে ১০ একর জমির ওপর অবস্থিত ২৫,০০০ বর্গফুটের এই ভিলাটি যেন লস অ্যাঞ্জেলেসের বুকে এক টুকরো প্যারিস। আমেরিকায় বিক্রির জন্য তোলা সবচেয়ে দামি বাড়ি এটি। প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার বর্গফুটের এই বাড়িতে আছে আউটডোর মুভি থিয়েটার, বোলিং অ্যালি, হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং প্যাড – আর সঙ্গে বিক্রি হয় তিন কোটি ডলার দামের একটা গাড়ির কালেকশনও। এখানে রয়েছে ১২,০০০ বোতল ধারণক্ষমতার ওয়াইন সেলার এবং একটি বিশাল আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল।

ফোর ফেয়ারফিল্ড পন্ড, নিউইয়র্ক

বিলিয়নেয়ার আইরা রেনার্টের এই হ্যাম্পটনস এস্টেট ৬০ একরের বেশি জায়গা জুড়ে ছড়ানো। ২৯টা বেডরুম, একাধিক সুইমিং পুল, নিজস্ব পাওয়ার প্ল্যান্ট – এমনকি নিজস্ব সিনাগগও (ইহুদি উপাসনালয়) আছে এই বাড়িতে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম বাড়ি হিসেবেই এটি নিউ ইয়র্কের ধনকুবেরদের প্রিয় ঠিকানা ‘দ্য হ্যাম্পটনস’-এ অবস্থিত এই বিশাল সম্পত্তিটির মালিক মার্কিন বিনিয়োগকারী আইরা রেনার্ট।

বাড়িটিতে রয়েছে ২৯টি বেডরুম, ৩৯টি বাথরুম, নিজস্ব পাওয়ার প্ল্যান্ট, তিনটি সুইমিংপুল, দুটি স্কোয়াশ কোর্ট এবং ১৬৪ আসনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক থিয়েটার রুম। এর ডাইনিং রুমের দৈর্ঘ্যই প্রায় ৯১ ফুট!

ফুয়ারা
বিলিওনেয়ার আইরা রেনার্টের এই হেম্পটনস এস্টেট ৬০ একরের বেশি জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। ছবি: সংগৃহীত

এলিসন এস্টেট ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

অরেকল-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন জাপান ও তার প্রাচীন সংস্কৃতির ভীষণ অনুরাগী। ক্যালিফোর্নিয়ার উডসাইডে ১০ একর জমির ওপর তিনি ১৬ শতকের এক জাপানি সম্রাটের প্রাসাদের অনুকরণে তৈরি করেছেন এই এস্টেট।

এই প্রাঙ্গণে রয়েছে একটি ম্যান-মেড বা কৃত্রিম ২.৩ একরের লেক, একটি চা-ঘর (Tea House), কই মাছের পুকুর এবং সাউনা রুম। জাপানি ঐতিহ্যবাহী কাঠের জোড়াতালি রীতির (জাপানি কাঠের কারিগরি) মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে একটিও পেরেক ব্যবহার করা হয়নি।

এমিরেটস হিলসের ই-সেক্টর ভিলা, দুবাই

দুবাইয়ের অভিজাত এমিরেটস হিলস এলাকার এই ভিলাটা ডিজাইন করেছে এক্সবিডি  ইন্টেরিয়র্স। চারতলা এই বাড়িতে ব্যবহার হয়েছে বিশ্বের সেরা ব্র্যান্ডের ফিটিংস আর দামি সব উপকরণ। বাইরের দিকটাই এই বাড়ির সবচেয়ে চোখধাঁধানো অংশ – ঐতিহ্যবাহী “মাশরাবিয়া” নকশার একটা ফ্যাসাদ, যেটার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো ঘরে এসে তৈরি করে জ্যামিতিক আলো-ছায়ার প্যাটার্ন। আছে মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বিশাল কাচের জানালা, আর সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার – ১১.৫ মিটার লম্বা একটা ঝুলন্ত কাচের সেতু, যেটা গ্রাউন্ড ফ্লোরের বারান্দা থেকে সরাসরি পাভিলিয়ন আর দোতলা সুইমিং পুলের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, পুরো বাড়িটা চলে সম্পূর্ণ সৌরশক্তিতে। দশটা বেডরুম, তেরোটা বাথরুম নিয়ে এই বাড়ি বিলাসিতা আর টেকসই স্থাপত্যের এক অসাধারণ মিশ্রণ।

জাপানি সম্রাটের প্রাসাদের অনুকরণে তৈরি ক্যালিফোর্নিয়ার এলিসন এস্টেট। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রন্ড সিগনেচার ভিলা, পাম জুমেইরাহ, দুবাই

দুবাইয়ের বিখ্যাত পাম জুমেইরাহ দ্বীপের একদম সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে আছে এই ভিলাটি। পুরো বাড়িটাকে সূক্ষ্মভাবে নতুন করে তৈরি ও সংস্কার করা হয়েছে, যাতে এটা হয়ে ওঠে একটা শান্ত, পরিশীলিত আর আধুনিক পারিবারিক আশ্রয়স্থল। ভেতরের প্রতিটা কোণ সাজানো রুচিশীল আসবাব আর বিলাসবহুল সব সুযোগ-সুবিধা দিয়ে, যেখানে প্রতিটা খুঁটিনাটি বিষয়ে দেওয়া হয়েছে বিশেষ যত্ন। গ্রাউন্ড ফ্লোরেই আছে প্রশস্ত ফ্যামিলি লিভিং এরিয়া, ডাইনিং স্পেস, একটা এন্ট্রান্স ফোয়ার আর একটা ফরমাল লিভিং রুম – সব মিলিয়ে আধুনিক অথচ পরিশীলিত জীবনযাপনের জন্য একেবারে উপযুক্ত।

দুবাই ভিলা
দুবাইয়ের বিখ্যাত পাম জুমেইরাহ দ্বীপের সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে আছে ফ্রন্ট সিগনেচার ভিলা। ছবি: সংগৃহীত

স্কি ড্রিম হোম, যুক্তরাষ্ট্র

তালিকার একদম শেষে আছে এমন একটা বাড়ি, যেটা শীতের স্বর্গ বললেও কম বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের ডিয়ার ক্রেস্ট এলাকায় রিসোর্টস ওয়েস্টের তৈরি এই বাড়ি একেবারে কাস্টম-মেড। এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ৩৬০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ – বাড়ির সিইও জোসেফ বলস্টেড নিজেই বলেছেন, এখান থেকে দূরের ঝড় জমতে দেখা যায়, চোখের সামনে খোলা থাকে পুরো দিগন্ত। বাড়িতে সরাসরি স্কি করে ঢোকা যায় এমন একটা বার, একটা ডিজে বুথ, গ্রোটোসহ একটা হিটেড পুল, চোদ্দ আসনের প্রাইভেট সিনেমা হল, আর নিজস্ব গলফ সিমুলেটর – সব মিলিয়ে এটা শুধু বাড়ি না, একটা পূর্ণাঙ্গ শীতকালীন বিনোদনকেন্দ্র।

দিনশেষে এই মেগা-ম্যানশন কিংবা প্রাসাদ ও ভিলাগুলো কেবলই ইট-পাথর, কাঁচ আর কোটি ডলারের হিসাব নয়; এগুলো আসলে মানুষের অসীম স্বপ্ন, সাফল্য এবং নিজের সামর্থ্যকে ইতিহাসের পাতায় খোদাই করে রাখার এক একটি রূপক। কেউ হয়তো এখানে খুঁজে পান পাহাড়-সমুদ্রের কোলে নিঃশব্দ নির্জনতা, কেউ বা নিজের অর্জিত সাফল্যকে উদযাপনের এক রাজকীয় ক্যানভাস।

স্কি ড্রিম
স্কি ড্রিম হোম এটা শুধু বাড়ি নয়, একটা পূর্ণাঙ্গ শীতকালীন বিনোদনকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

কোটি ডলারের ইনফিনিটি সুইমিংপুল কিংবা শতবর্ষী বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলেও যে মৌলিক সত্যিটা থেকে যায় তা হলো- মানুষের নিজস্ব একটু আশ্রয় খোঁজার আদিম আকুলতা। চার দেয়ালের ভেতরটা হাজার কোটি টাকার রাজপ্রাসাদ হোক কিংবা ছোট্ট এক চিলতে ঘর, যেখানে মনের প্রশান্তি আর ভালোবাসা এসে জমা হয়, পৃথিবীর আসল বিলাসিতা তো লুকিয়ে থাকে ঠিক সেখানেই।

সুত্রঃ লুকসহেবিটাট

Related Posts

বিয়ের প্রতিশ্রুতি রাখতে আকাশের নিচে নির্মিত হলো এক উন্মুক্ত মন্দির

বিয়ের প্রতিশ্রুতি রাখতে গিয়ে কেউ যদি একটি পুরো স্থাপনা ডিজাইন করে ফেলেন, তবে সেই গল্প সহজে ভোলার নয়।…

বিশ্বের প্রাচীনতম স্থাপনা: হাজার বছর টিকে থাকা স্থাপত্যের বিস্ময়

মানুষের স্থাপত্যচর্চার ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরোনো। আধুনিক শহর, সুউচ্চ ভবন কিংবা অত্যাধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তির অনেক আগে মানুষ…

রঙের ভাষায় ছয়টি ভবনের গল্প

অনেকের ধারণা, ভবনে বেশি রং ব্যবহার করলে ডিজাইনের গাম্ভীর্য আর বিশুদ্ধতা নষ্ট হয়। রং যেন কেবল সাজসজ্জা, স্থাপত্যের…

অস্ট্রিয়ার আল্পসে জলের আয়না: স্নোহেটার “লেখ মাউন্টেন মিরর”

পাহাড়ের চূড়ায় উঠে চারপাশের দৃশ্য দেখতে আমরা সবাই পছন্দ করি। কিন্তু সেই দৃশ্যকে যদি পায়ের নিচে জলের ওপর…

01~1
previous arrow
next arrow

Bandhan Cover

সর্বশেষ

Trending Posts

Gallery

বাওয়ার দৃষ্টিতে স্বভূমি শ্রীলঙ্কার স্থাপত্য
বিয়ের প্রতিশ্রুতি রাখতে আকাশের নিচে নির্মিত হলো এক উন্মুক্ত মন্দির
Knap-of-Howar
রঙের ভাষায় ছয়টি ভবনের গল্প
অস্ট্রিয়ার আল্পসে জলের আয়না: স্নোহেটার “লেখ মাউন্টেন মিরর”
highrise
হাওর জীবন
ফর্ম, অর্ডার ও জীবন: বিংশ শতকের স্থাপত্যভাবনা
শ্রমিক