লবণাক্ত পানিতে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে লবণাক্ততার মাত্রা কত?
লবণাক্ততার মাত্রাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয়, পিপিএম (Parts per million)। মূলত এক মিলিয়ন পানিতে এক হাজার কেজি লবণের পরিমাণ থাকলে পানি পান করা যায়। তবে এর বেশি হলে পানি পান করা সম্ভব নয়। যে কারণে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে কিছু মিঠা পানি আর কিছু লবণাক্ত পানি মিশ্রণ করে লবণাক্ততা তুলনামূলক কমিয়ে পানি পানযোগ্য করা হয়। উপকূলীয় কোনো অঞ্চলে এক মিলিয়ন লিটারে প্রায় এক হাজার এবং তারও বেশি লবণ থাকে। কোনো কোনো অঞ্চলে ৬০০ কেজি এক মিলিয়ন লিটারে পিপিএম থাকে।
সমুদ্রের লবণাক্ত পানিকে কী কী উপায়ে পানযোগ্য করা যায়?
সমুদ্রের পানি বিভিন্ন উপায়ে পানযোগ্য করা সম্ভব। এর মধ্যে ডিস্টিলেশন একটি সহজ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে পানি এক পাত্র থেকে বাষ্প করে টিউবের মধ্য দিয়ে নিয়ে লবণমুক্ত করে পানের উপযোগী করা হয়। তবে এর জন্য প্রচুর পরিমাণ জ্বালানির দরকার হয় এবং প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম পানি পাওয়া যায়। মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন পদ্ধতিতে সমুদ্রের পানিকে লবণমুক্ত করা হয়। তবে ওই সব পদ্ধতি অনেক ব্যয়বহুল। এ জন্য সেখানে কোমল পানীয় থেকে খাবার পানির দাম অনেক বেশি।
বর্তমানে কোন কোন পদ্ধতিতে পানিকে লবণমুক্ত করা হচ্ছে?
পদ্ধতি অনেক থাকলেও প্রচুর ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার হওয়ার কারণে কোনোটিরই প্রয়োগ যথাযথ হচ্ছে না। তবে যেসব অঞ্চলে এই সমস্যা আছে, সেসব অঞ্চলে তুলনামূলক অনেক কম খরচে পানি পৌঁছানো সম্ভব, যাতে প্রযুক্তিগত কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা না লাগে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় লবণাক্ত পানিকে পানযোগ্য করার উপযোগী পদ্ধতিগুলো কী হওয়া উচিত?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় লবণাক্ত পানিকে পানযোগ্য করার একটি সহজ উপায় হলো মিক্সড পদ্ধতি। খুলনা, যশোর অঞ্চলের পানিতে প্রায় এক হাজারের ওপরে পিপিএম পাওয়া যায়। এসব অঞ্চলের পানি খুব বেশি পরিমাণে লবণাক্ত। আবার ঝিনাইদহ অঞ্চলের পানি বেশ মিঠা। এই অঞ্চলের পানির সঙ্গে এ অঞ্চলের পানির মিশ্রণ করলেই প্রায় অর্ধেক পিপিএম নেমে আসে এবং মিক্সড পদ্ধতিতে খুব সহজে ও তুলনামূলক কম খরচে মানুষ লবণাক্ততামুক্ত পানযোগ্য পানি পেতে পারে।
সাধারণ মানুষের সাধ্যসীমায় লবণাক্ত পানিকে পানযোগ্য করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি কোনটি?
আন্তর্জাতিক একটা মাপ আছে, সেটা হলো এক মিলিয়ন কেজি পানিতে ২৫০ কেজি লবণ থাকলে সেই পানি পান করা যায়। এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তবে অনেক সময় দেখা যায়, পানির খুব সংকটে পানি পাওয়া যায় না। খুব দুর্গম এলাকা যে ক্ষেত্রে এক হাজার পিপিএম পার্থক্য অর্থাৎ এক মিলিয়ন কেজিতে এক হাজার কেজি লবণ থাকে। এ ধরনের পানি পান করতে অনুমতি দিই আমরা। তবে এ ধরনের পানি পান করলে রক্তচাপ, পেটের পীড়া ইত্যাদি হতে পারে কিন্তু আমরা এ রকম পানি পান করার অনুমতি দিয়ে থাকি। লবণাক্ত পানি পানযোগ্য করার জন্য শুধু পানির সঙ্গে লবণাক্ত পানির মিশ্রণ করলেই লবণাক্ততার পরিমাণ অর্ধেকটা কমে আসে। এবং খুব সহজেই এই পানি পান করা যায়।
সমস্যাটি সমাধানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কোনো গবেষণা, প্রকল্প পরিচালনা এবং সরকারকে কোনো ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কি না, যদি হয় সেগুলো কী?
সরকারকে এ ধরনের কোনো পরামর্শ আমরা দিইনি। এর একটি মাত্র কারণ হলো বেশি খরচ। সরকার অনেক কম খরচে সমস্যাকবলিত এলাকায় পানি পৌঁছে দিতে পারে। কিন্তু পানির লবণাক্ততা দূরকরণে সরকার যদি এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তবে পানির দামটা অনেক পড়ে যায়। যার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে এ রকম কোনো পরামর্শ সরকারকে দেওয়া হয়নি।
প্রকাশকাল: বন্ধন ৫৬তম সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৪