Image

রং ব্রাশের সাতসতেরো

স্থাপনার কাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পরেই শুরু হয় সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। ভবনের নান্দনিকতা ফুটিয়ে তোলার নানা আয়োজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে রঙের কাজ। সবাই চাই পছন্দের রঙে রাঙাতে নিজ আঙ্গিনাটি। যদি জুঁতসই রঙে যথাযথভাবে ভবনকে রাঙানো না যায়, তাহলে এত ব্যয় অনেকটাই মূল্যহীন হয়ে যায়। আর সে কারণেই সুন্দরভাবে স্থাপনা রাঙানোর কাজটি করার জন্য মানসম্মত রঙের পাশাপাশি প্রয়োজন উপযুক্ত রং ব্রাশ। 

রঙের ধাঁচে এসেছে অনেক পরিবর্তন। আগে বাড়িতে চুনকামই ভরসা ছিল কিংবা কোনো রকমে একটা দিলেই হতো। এখন মানুষের রুচির পরিবর্তন ও প্রযুক্তির বদৌলতে স্থাপনার বাইরে ও অন্দরে সাদার বাইরেও রাঙানো হচ্ছে ক্রিম, সবুজ, নীল, গোলাপিসহ হরেক রকম রঙে। রঙের ধরন যেমন ভিন্ন, তেমনি ব্যতিক্রম ব্রাশ। রং করার পর বাহ্যিক সৌন্দর্যের অনেকটাই নির্ভর করে ব্রাশের মানের ওপর। দরজার ফ্রেম, কেবিনেট ও শেলফের পেছনের দিক, পাশের দিক, শেলফের ওপর , ধারগুলো, নিচের অংশ, তলা, দরজার ভেতরের অংশ, দরজার বাইরে, ড্রয়ারের সামনের অংশ, কাঠ, লোহা, ইট ও কংক্রিটের তৈরি সর্বত্র রং করার জন্য প্রয়োজন ভিন্ন ভিন্ন ব্রাশ। শুধু ব্রাশ হলেই চলবে না, রং করতে লাগবে সহায়ক নানা অনুষঙ্গ। 

রং করতে দরকারি অনুষঙ্গ

  • ব্রাশ 
  • রোলার ও রোলারের তুলি 
  • স্যান্ড পেপার
  • স্ক্র্যাপার
  • গরম বাতাস দেওয়ার যন্ত্র
  • বালতি
  • রাবার হাত মোজা
  • রঙের ট্রে ও প্যাড
  • থান কাপড়
  • মাস্কিং টেপ
  • স্টিল ল্যাডার।

রকমফের

কাঠ, লোহা, ইট ও কংক্রিটের তৈরি বস্তুকে সুন্দর করে তোলা হয় ব্রাশের মাধ্যমেই। বড় দেয়াল রং করার সময় ব্রাশের পরিবর্তে রোলার ব্যবহার করলে রং তুলনামূলক কম খরচ হয় এবং রঙের ফিনিশিং খুব ভালো হয়। 

ব্রাশের আকার ও দরদাম

ছোট ছোট বস্তুতে রং করার জন্য ব্রাশ প্রয়োজন আর বড় দেয়ালে রং করার জন্য রোলার ব্যবহার করা হয়। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ও আকারের ব্রাশ ও রোলার পাওয়া যায়। হাফ ইঞ্চি থেকে শুরু করে ৬ ইঞ্চির ব্রাশ আর ৪ ইঞ্চি থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত রোলার পাওয়া যায়। আকারভেদে ব্রাশের দরদাম:

বড় দেয়ালে রং করার জন্য রোলার ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন আকারের রোলারের দাম হয় বিভিন্ন রকম। রোলার আবার স্টিলসহ ও স্টিল ব্যতীত হয়। আকারভেদে রোলারের দরদাম:

রোলারের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে ফোম বা তুলি। ফোম বা তুলির মাধ্যমে দেয়াল রাঙানো হয়। ফোম বা তুলি ১ ইঞ্চি থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। তবে আমাদের দেশে ১, ৬ ও ১০ ইঞ্চির ফোম ব্যবহার হয়। আকারভেদে ফোম বা তুলির দরদাম:

আকার (ইঞ্চি)দাম (টাকা)
৩৫-৫০
৭০-১০০
১০১০০-১৫০

বাংলাদেশ, ভারত ও চীন এই তিন দেশের ব্রাশ বেশি ব্যবহৃত হয় আমাদের দেশে। দেশি ব্রাশের থেকে চীনা পণ্যের দাম কিছুটা বেশি। তবে চীনের ব্রাশ ও রোলারের চেয়ে ভারতীয় ব্রাশ ও রোলারের চাহিদা ও দাম উভয়ই বেশি। চীনের ব্রাশ ও রোলারের চেয়ে ১০-২০ টাকা দাম বেশি ভারতের ব্রাশ ও রোলারের। 

প্রাপ্তিস্থান

দেশের প্রায় সব হার্ডওয়ারের দোকানে রং ব্রাশ ও রোলার পাওয়া যায়।


প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১০৩তম সংখ্যা, নভেম্বর, ২০১৮

Related Posts

লস অ্যাঞ্জেলেসের রাফি লেয়ারার রঙিন অফিস

লস অ্যাঞ্জেলেসের হাইপেরিয়ন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত পাবলিক আর্ট কোম্পানির নিজস্ব স্টুডিওটি একটি রঙিন, বৈচিত্র্যময় ও প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করেছে।…

গ্রামীণ অবকাশ যাপনে কটেজের ইন্টেরিয় কেমন হওয়া উচিত?

ঘরের পরিবেশ আমাদের শান্ত রাখে, অশান্ত করে তোলে কখনো সংগঠিত হতেও সাহায্য করে। বলছি আমাদের মনের উপর ঘরের…

‘কাসা মেসেডোনিয়া’: মাদ্রিদের রূপান্তরিত এক ব্যতিক্রমী আবাসিক

আধুনিক আবাসিক স্থাপত্যে উন্মুক্ত (ওপেন-প্ল্যান) বিন্যাস এখন প্রায় প্রতিষ্ঠিত একটি ধারা। কিন্তু স্পেনের মাদ্রিদে স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান Bardo (ব্রাদো)…

জাপানি ভাবনায় পুনর্নির্মিত এক স্থাপত্য 

লন্ডনের ইজলিংটনে অবস্থিত একটি গ্রেড-টু তালিকাভুক্ত দেরি জর্জিয়ান টেরেস বাড়িকে Studio Hagen Hall নতুনভাবে রূপ দিয়েছে। “হেইওন হাউস”…