ZHA বুনছে আজারবাইজানের পাইন বনে ‘বাকু এক্সপো সিটি’

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুকে বলা হয় “বাতাসের শহর”। এমন এক শহর, যেখানে বছরজুড়ে ক্যাস্পিয়ান সাগর ও ইরানি মালভূমি থেকে আসা প্রবল মৌসুমি বাতাস নগর-জীবনের একটি অনিবার্য অংশ। 

এই শহরেরই একটি ১৯৮ হেক্টর আয়তনের পাইন বনভূমিতে গড়ে উঠতে যাচ্ছে এক নতুন নগর-এলাকা “বাকু এক্সপো সিটি”। যার মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছে জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টস (Zaha Hadid Architects, সংক্ষেপে ZHA)। 

বাতাসকে ঘিরেই পরিকল্পনা

বাকু পরিচিত ‘বাতাসের শহর’ নামে। শীতে ক্যাস্পিয়ান সাগর থেকে আসে ঠান্ডা বাতাস, আর গ্রীষ্মে ইরানি মালভূমি থেকে আসে গরম বাতাস। এই বাতাসকেই এই মহাপরিকল্পনার মূল ভিত্তি ধরা হয়েছে। স্থপতিরা বাতাস-বিশ্লেষণ করে ভবনগুলো এমনভাবে সাজিয়েছেন, যেন সেগুলো ঢালের মতো কাজ করে মাটির কাছে বাতাসের গতি কমায় এবং হাঁটাচলা ও জমায়েতের জায়গাগুলো সারা বছর আরও আরামদায়ক রাখে। 

সাইটের বিদ্যমান ১৮,০০০ গাছের মধ্যে ৯২ শতাংশ সংরক্ষণ করা হয়েছে এই মাস্টারপ্ল্যানে। ছবি: ডিজাইনবুম
অরণ্যের সঙ্গে মিলিত কৌশল

এই বাতাস-প্রতিরোধী কৌশল সাইটের আগে থেকে থাকা বনভূমির সঙ্গে মিলিয়ে এলাকা ঠান্ডা রাখে ও বাতাস কমায়। গাছ আরও বড় হলে এই প্রভাব যেন বাড়ে, তাই আরও গাছ লাগানোরও পরিকল্পনা আছে। ডিজাইনবুমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইটের আঠারো হাজার গাছের ৯২ শতাংশই সংরক্ষণ করা হবে। ZHA-র মূল ধারণা হলো, যে ভূদৃশ্য আগে থেকেই সেখানে আছে নগর বাড়ার সময় স্থাপত্যকে ভাবা হবে সেই ভূদৃশ্যকে রক্ষা করেই। 

পরিবহন সংযোগ

এই মহাপরিকল্পনাটি যুক্ত হয়েছে বাকুর ২০৩০ সালের পরিবহন কৌশলের সঙ্গেও। প্রসারমান গণপরিবহন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এটি সংযুক্ত থাকবে শহরের কেন্দ্র ও বিমানবন্দরের সঙ্গে। যা এলাকাটিকে বৃহত্তর নগর-কাঠামোর একটি স্বাভাবিক সম্প্রসারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

সাইটজুড়ে সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে একে অপরের সাথে সংযুক্ত পাড়াগুলো অবস্থিত। ছবি: ডিজাইনবুম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেকসই উপকরণ ও জলব্যবস্থা

মহাপরিকল্পনাজুড়ে সংযুক্ত করা হয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্যাসিভ ডিজাইন কৌশলও। যা রাস্তা ও ভূদৃশ্যের বাইরেও পরিবেশ বান্ধব পরিকল্পনাকে সম্প্রসারিত করে। প্রস্তাবনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্বল্প-কার্বন উপকরণ নির্বাচন। জলব্যবস্থা ও বনসংরক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে মিলিতভাবে এই পদক্ষেপগুলো বাকু এক্সপো সিটিকে গোড়া থেকেই সাইটের বিদ্যমান জলবায়ু ও উদ্ভিদজগতের চারপাশের অংশ হিসেবে গড়ে তোলে।

বাকুতে জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টসের দ্বিতীয় বড় প্রকল্প

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাকু এক্সপো সিটি বাকু শহরে জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টস-এর এটি দ্বিতীয় বড় প্রকল্প। এর আগে ২০১৩ সালে তারা সম্পন্ন করেছিল হেইদার আলিয়েভ সেন্টার (Heydar Aliyev Center) নামের একটি সাংস্কৃতিক স্থাপনা। প্রতিষ্ঠানটির স্বাক্ষর বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত অর্গানিক এবং ফ্লুইড রেখাসম্পন্ন নকশার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

ভবনগুলো এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে ভূমি-স্তরে প্রবহমান বাতাসের গতি কমে যায়। ছবি: ডিজাইনবুম

বাকু এক্সপো সিটির মহাপরিকল্পনায় জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টস দেখিয়েছে, কীভাবে বড় নগর-উন্নয়ন প্রকল্পও স্থানীয় জলবায়ু ও প্রকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে গড়া যায়। বাতাসকে প্রতিরোধ না করে পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখা, বেশিরভাগ পাইন বনভূমি সংরক্ষণ করা, আর নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও টেকসই উপকরণ ব্যবহার এসব মিলিয়েই প্রকল্পটি দেখায় যে উন্নয়ন আর প্রকৃতি সংরক্ষণ একসঙ্গে চলতে পারে। 

তথ্যসূত্র:

ডিজাইনবুম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *