হাসপাতালে রোগী-কক্ষে ঘরোয়া আবহ দিচ্ছে কোয়ালুর নতুন ফার্নিচার

হাসপাতালের রোগী-কক্ষ বলতে আমাদের চোখে সাধারণত ভেসে ওঠে সাদা দেয়াল, ঠান্ডা আলো আর যান্ত্রিক পরিবেশ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই ধারণা বদলাচ্ছে। রোগী, তার পরিবার আর চিকিৎসাকর্মীরা সেখানে অনেকটা সময় কাটান, তাই কক্ষটি এখন এক ধরনের থাকার জায়গাও। চিকিৎসকদের যেমন দ্রুত ঢুকে সহজে চলাফেরা করে সেবা দিতে হয়, তেমনি রোগী ও স্বজনদেরও দিন-রাত স্বস্তিতে থাকার ব্যবস্থা দরকার।

এই দুই চাহিদার ভারসাম্য রেখে কোয়ালু (Kwalu) এনেছে দুটি নতুন ফার্নিচার কালেকশন: ভন রবিনসনের ডিজাইন করা এলি (Ellie) এবং ব্রায়ান গ্রাহামের ডিজাইন করা ইথান (Ethan)। দুটিতেই সুস্থতার ভাবনা, হোটেলের মতো আতিথেয়তার আবহ এবং হাসপাতালের কঠিন ব্যবহার সহ্য করার সক্ষমতা মেশানো হয়েছে।

এলি কালেকশন: প্রকৃতির আকারে সুস্থতার ডিজাইন

এলির ডিজাইনার ভন রবিনসন কাজ শুরু করেছেন স্বাস্থ্যকে মাথায় রেখে। এর ভাস্কর্যধর্মী বাঁকানো আকারগুলো বায়োফিলিক গবেষণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ওই গবেষণা বলছে, নরম ও প্রাকৃতিক আকার মানসিক চাপ কমায়, রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে। রবিনসনের ভাষায়, এলির প্রতিটি সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ছিল জায়গাটিকে স্বস্তিদায়ক করা। শুধু রোগীর জন্য নয়, যারা রোগীর পাশে থাকেন তাদের জন্যও।

কালেকশনে আছে একটি রিক্লাইনার, যার ডিজাইনে শরীরের আরামের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। আছে একটি স্লিপার সোফাও, যা শুধু ঘুমানোর জন্য নয়। রোগীর বিছানার কাছে থেকে কাজ করা, খাওয়া ও বিশ্রাম নেওয়ার কথাও ভাবা হয়েছে এর ডিজাইনে। সোফায় ৩৬০° ক্লিনআউট আছে, অর্থাৎ চারপাশ থেকে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

বেডসাইড টেবিল আর পুফ ঘরের কার্যকারিতা বাড়ায় ছবি: ইন্টেরিওর ডিজাইন

ইথান কালেকশন: হোটেলের আরাম রোগীর ঘরে

ইথানের ডিজাইনার ব্রায়ান গ্রাহাম শুরু থেকে টেকসই হওয়া ও সহজে পরিষ্কার করার দিকে জোর দিয়েছেন, সঙ্গে রেখেছেন আরাম আর চেনা পরিবেশের অনুভূতি। তার কথায়, লক্ষ্য ছিল রোগীর ঘরে হোটেলের আরাম নিয়ে আসা, যাতে জায়গাটি পরিচিত ও সহায়ক মনে হয়, প্রাতিষ্ঠানিক নয়।

ইথান লাউঞ্জ ও গেস্ট সিটিং ঘরে হসপিটালিটি স্পেসের উষ্ণতা আনে। বেডসাইড টেবিল আর পুফ ঘরের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং ঘরটিকে আরও পূর্ণাঙ্গ থাকার পরিবেশে রূপ দেয়। গ্রাহামের মতে, এই সবকিছু মিলে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয় যেখানে মানুষ একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হতে, বিশ্রাম নিতে ও সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

গবেষণা বলছে, হাসপাতালে পরিবারের উপস্থিতি চিকিৎসার ফল ভালো করে। তাই যে ফার্নিচার শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সংযোগও সমর্থন করে, তা স্বজনদের রোগীর পাশে স্বস্তিতে থাকতে সাহায্য করে।

২৪ ঘণ্টা চলা হাসপাতালের কঠিন পরিবেশে এই আসবাব দীর্ঘদিন টিকে থাকে। ছবি: ইন্টেরিওর ডিজাইন

প্রোটিয়া: টেকসই ও সহজে পরিষ্কার উপকরণ

দুই কালেকশনেই বারবার হাত লাগে এমন অংশে ব্যবহার করা হয়েছে প্রোটিয়া (Protea™), একটি নিজস্ব স্বত্বাধিকারী, অ-ছিদ্রযুক্ত উপাদান, যা ব্লিচ দিয়ে পরিষ্কার করা যায়। এটি আঁচড়, ঘষা-দাগ ও আর্দ্রতা প্রতিরোধ করে এবং এর ওপর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না। ফলে ২৪ ঘণ্টা চলা হাসপাতালের কঠিন পরিবেশে এই আসবাব দীর্ঘদিন টিকে থাকে।

ক্যাবিনেট ও স্টোরেজ জাতীয় আসবাবে ব্যবহার হয়েছে প্রোটিয়া ফিউশন, যা কাঠের সূক্ষ্ম দানার মতো চেহারা দেয় এবং পণ্যে উষ্ণতা আনে। ফলে কাঠ বা সাধারণ ল্যামিনেটের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা ছাড়াই হোটেলের মতো উষ্ণ রোগী-কক্ষ বানানো যায়। এতে পণ্য বদলানোর চক্র এবং মোট মালিকানা-ব্যয় (total cost of ownership) দুটোই কমে।

ইথান লাউঞ্জ ও গেস্ট সিটিং ঘরে হসপিটালিটি স্পেসের উষ্ণতা আনে। ছবি: ইন্টেরিওর ডিজাইন

এলি ও ইথান কালেকশন দেখায়, হাসপাতালের আসবাব শুধু ব্যবহারিক হলেই হয় না, তাকে মানুষের মনের কথাও ভাবতে হয়। ভাস্কর্যধর্মী আকার মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, আর প্রোটিয়ার মতো উপকরণ পরিচ্ছন্নতা, স্থায়িত্ব ও উষ্ণ চেহারা একসঙ্গে দেয়। এভাবে দুটি কালেকশন মিলে রোগী-কক্ষের একটি নতুন রূপ তুলে ধরে, যেখানে টেকসই হওয়া, হোটেলের মতো আতিথেয়তা ও সুস্থতার ভাবনা একসঙ্গে কাজ করে।

তথ্যসূত্র
ইন্টেরিওর ডিজাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *