Jeddah Tower

১০০ তলা ছাড়িয়ে দ্রুত এগোচ্ছে জেদ্দা টাওয়ার

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলছে সৌদি আরবের জেদ্দাহ টাওয়ার। দীর্ঘ বিরতি ও নানা জটিলতার পর বর্তমানে ভবনটির নির্মাণকাজ ১০০ তলায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত নির্মাণচিত্র বিশ্বজুড়ে আবারও আলোচনায় এনেছে এই মেগা প্রকল্পকে। এক কিলোমিটারের বেশি উচ্চতার পরিকল্পনায় তৈরি হওয়া টাওয়ারটি শুধু স্থাপত্যের বিস্ময় নয়, বরং সৌদি আরবের আধুনিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের লক্ষ্য

সৌদি আরবের জেদ্দায় লোহিত সাগরের তীরে এটি নির্মিত হচ্ছে জেদ্দাহ টাওয়ার নির্মাণ সম্পন্ন হলে এটি দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা-কে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন হওয়ার কথা। ভবনটির পরিকল্পিত উচ্চতা এক হাজার মিটারেরও বেশি। বর্তমানে এটি ১০০ তলা এবং প্রায় ৪০০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রকল্পটি শেষ হলে এটি হবে বিশ্বের প্রথম “এক কিলোমিটার-উচ্চ” স্থাপনা।

প্রকল্পটি শেষ হলে এটি হবে বিশ্বের প্রথম “এক কিলোমিটার-উচ্চ” স্থাপনা। ছবি: ডিজেইন ম্যাগাজিন
দীর্ঘ বিরতির পর ফের শুরু

২০১৩ সালে নির্মাণকাজ শুরু হলেও বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটি বারবার বাধার মুখে পড়ে। আর্থিক সংকট, কোভিড-১৯ মহামারি এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সৌদি আরবের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রভাবেও কাজ দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। পরে ২০২৫ সালে আবার নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং বর্তমানে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে।

২০২৫ সালে আবার নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং বর্তমানে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। ছবি: ডিজেইন ম্যাগাজিন
আধুনিক স্থাপত্য ও প্রকৌশল

টাওয়ারটির নকশা করেছে বিখ্যাত মার্কিন স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ‘আড্রিয়ান স্মিথ + গর্ডন গিল’। যারা দুবাইয়ের বুর্জ খলিফাও ডিজাইন করেছিলেন। ভবনের নকশা ত্রিমুখী এবং এমন কাঠামোয় তৈরি যা শক্তিশালী বাতাসের চাপ কমাতে সহায়তা করবে। বাইরের অংশে বিশেষ কাচ ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে মরুভূমির অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ভবনের ভেতরে আবাসিক ইউনিট, অফিস, বিলাসবহুল হোটেল এবং পর্যবেক্ষণ ডেক থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাইরের অংশে বিশেষ কাচ ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে মরুভূমির অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ছবি: ডিজেইন ম্যাগাজিন
ভিশন ২০৩০–এর প্রতীক

জেদ্দাহ টাওয়ার সৌদি আরবের “ভিশন ২০৩০” পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে পর্যটন, ব্যবসা ও আধুনিক নগর উন্নয়নের দিকে এগোতে দেশটি যেসব বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তার অন্যতম এটি। ভবিষ্যতে জেদ্দাহ ইকোনমিক সিটির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও টাওয়ারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেদ্দাহ টাওয়ার সৌদি আরবের “ভিশন ২০৩০” পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছবি: ডিজেইন ম্যাগাজিন

জেদ্দাহ টাওয়ার এখন শুধু একটি নির্মাণাধীন ভবন নয়, বরং উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রযুক্তি ও আধুনিক নগর পরিকল্পনার প্রতীক। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর ১০০ তলায় পৌঁছানো প্রমাণ করে যে প্রকল্পটি আবারও গতি পেয়েছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণ শেষ হলে এটি বিশ্ব স্থাপত্যে নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারে।

Related Posts

ফেসবুক পোস্ট থেকে ফিরে এলো ফুটুরো হাউস

বিশ শতকের ষাটের দশকের শেষভাগে ফিনল্যান্ডের স্থপতি মাত্তি সুরোনেন যে উড়ন্ত সসারসদৃশ বাড়িটি ডিজাইন করেছিলেন, তা স্থাপত্যের ইতিহাসে…

ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেকচার ও কার্বন নি:সরণ

শহরের পার্ক, বাগান, প্লাজা, রাস্তার পাশের সবুজ এলাকা—এসবকে আমরা সাধারণত পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের অংশ হিসেবে দেখি। গাছপালা ও সবুজ…

আসন্ন RIBA ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের শর্টলিস্টে রংপুরের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি

বিশ্বের সেরা নতুন ভবনের জন্য রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (RIBA) তাদের ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজের শর্টলিস্ট প্রকাশ করেছে। তালিকায়…

হারানো মসজিদ: ইতিহাসের এক রহস্যময় অধ্যায়

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনা। এগুলোর কিছু আজও মানুষের চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আবার কিছু…