লিবিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের ঐতিহাসিক বন্দরনগরী বেঙ্গাজি। এখানে ২০৫০ সাল সামনে রেখে তৈরি হচ্ছে এক নতুন নগর-পরিকল্পনা। জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টস (জেডএইচএ) ছাড়াও এ অ্যান্ড ও টেক, প্রায়র+পার্টনার্স, হোমা, ব্যুরো হ্যাপল্ড, সিস্টেমাটিকা ও ফিচনার এই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিলে গড়েছে “বেঙ্গাজি ২০৫০: নেক্সট জেনারেশন সিটি প্ল্যান” নামের এই পরিকল্পনা।
শহরের ক্রমবর্ধমান বিস্তার, নতুন অবকাঠামো বিনিয়োগ ও পুনর্নির্মাণের এই সময়ে পরিকল্পনাটি তৈরি হয়েছে। এর লক্ষ্য শহরকে তার জলাশয়, ঐতিহাসিক কেন্দ্র ও নতুন আবাসিক এলাকার সঙ্গে ফের যুক্ত করে ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে গুছিয়ে আনা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি কোনো একক স্থাপত্য নকশা নয়, বরং একটি স্থানিক পরিকল্পনা আর একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মিলিত রূপ, যা আগামী কয়েক দশক ধরে গোটা শহর জুড়ে বিভিন্ন প্রকল্পকে দিকনির্দেশনা দেবে।

দৃষ্টিভঙ্গি ও স্থানিক কৌশল
এএই পরিকল্পনার “ভিশন অ্যান্ড স্পেশিয়াল স্ট্র্যাটেজি” অংশটি শুরু হয়েছে বেঙ্গাজির বর্তমান চরিত্র ও মানুষের সমষ্টিগত স্মৃতি বিশ্লেষণ করে। পরিকল্পনাকারী দল চেয়েছে শহরকে খণ্ডবিখণ্ড না রেখে বরং সংযুক্ত করতে। আর পুরনো কিছু ভেঙে না ফেলে বরং তা পুনরুদ্ধার করতে। এই ভাবনা থেকেই একটি অভিযোজনযোগ্য কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
গণপরিবহন ও হাঁটার পথ ঐতিহাসিক কেন্দ্র ও উপকূলরেখাকে আবাসিক এলাকা ও শহরের নতুন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্ত করবে। ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির জন্য গড়ে তোলা হবে নতুন কর্মসংস্থান ও জ্ঞানভিত্তিক এলাকাও। এই পরিকল্পনায় প্রকৃতির জায়গাগুলোকেও রাখা হয়েছে, যাতে পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত বৈচিত্র্য ঠিক থাকে। অর্থাৎ শহর বাড়বে, কিন্তু পরিবেশকে বাদ দিয়ে নয়।

ডিজিটাল তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি নগর-প্রতিরূপ
এই পুরো পরিকল্পনার কেন্দ্রে আছে “বেঙ্গাজি ২০৫০ ডিজিটাল প্ল্যানিং হাব”। একে ভাবা হয়েছে শহরকে বোঝার এবং তার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরখ করে দেখার একটি অভিন্ন তথ্যভাণ্ডার হিসেবে। সাধারণ নগর-পরিকল্পনায় যেমন একটি স্থির নকশা বা মাস্টারপ্ল্যান ব্যবহার করা হয়, এখানে তা না করে বরং একটি জীবন্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। এই প্ল্যাটফর্ম শহরের বিভিন্ন তথ্য একত্র করবে এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
বেঙ্গাজির এই নতুন নগর-পরিকল্পনা দেখায়, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন আর দ্রুত নগরায়ণের মুখোমুখি হওয়া একটি শহরের ভবিষ্যৎ গড়তে স্থাপত্য এখন আর শুধু ভবন বানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন তথ্য, প্রযুক্তি আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বয়ে পরিণত হচ্ছে।

ধ্বংসের বদলে পুনরুদ্ধার আর বিচ্ছিন্নতার বদলে সংযোগের ওপর জোর দিয়ে জেডএইচএ ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো বেঙ্গাজির জন্য এমন একটি রূপরেখা তৈরি করেছে। যা শহরের ঐতিহাসিক পরিচয় ও প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে একটি টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। এই পথে ডিজিটাল প্ল্যানিং হাব আগামী কয়েক দশক শহরের পরিবর্তনকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠবে।
তথ্যসূত্র:
ডিজাইনবুম


















