Home

ছোট বাড়িও দেখতে কেন বড় দেখায়?

পাহাড়ের চূড়ায় প্রতিবেশী বাড়িগুলো ছাড়িয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকা নর্থ ক্যারোলাইনের একটি আধুনিক বাড়ি। এই বাড়িটি ব্লু রিজ পর্বতমালা এবং অ্যাশভিল শহরের কেন্দ্রস্থলের বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্যে ঘেরা।

কিন্তু বাড়ির সামনের দিকের নিচু গড়নটি সেই মনোরম দৃশ্যকে আড়াল করে রাখে। আলটুরা আর্কিটেক্টস-এর প্রধান স্থপতি নাথান ব্রায়ান্ট বাড়িটিকে একটি ফলার মতো আকৃতিতে স্থাপন করেছেন। তিনি চতুরতার সাথে বাড়িটিকে একদিকে যেমন গোপনীয়তা দিয়েছে,  একই সাথে বাইরের দৃশ্যের জন্য উন্মুক্ত জায়গাও রেখেছেন।

নাথান ব্রায়ান্ট জানান, বাড়িটি রাস্তার সমান্তরাল নয়। বাড়ির ডিজাইন একটি আকর্ষণীয় ও কিছুটা বাঁকা বিন্যাস তৈরি করেছে। তবে এই বাড়িটি রাস্তার সামনে কোনো বিশেষ বার্তা দেয়ার জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি এর প্রতিবেশী বাড়িগুলোর তুলনায় বেশ লাজুক।

আধুনিক নকশা, চিরন্তন কার্যকারিতা

প্রশস্ত, বাধাহীন প্রবেশপথটি বাড়ির মালিকদের লক্ষ্যকেই তুলে ধরেছে। তাদের ইচ্ছে ছিলো এমন একটি বাড়ি তৈরি করা যা তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনযাত্রার উপযোগী হবে। এই অবসরপ্রাপ্ত দম্পতি সব ধরণের সুযোগ সুবিধাসহ প্যাসিফিক নর্থওয়েস্ট থেকে নর্থ ক্যারোলাইনায় চলে এসেছেন।

মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বিস্তৃত মারভিন মডার্ন জানালা এবং সাড়ে নয় ফুট উঁচু দরজাসহ এই প্রবেশপথটি একই সাথে একটি নকশার বৈশিষ্ট্য হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছে। ব্রায়ান্ট  এমন এক লণ্ঠনের মতো আবহ তৈরি করতে চেয়েছিলেন যা বাড়ির বাসিন্দাদের সামনের দিকে আকর্ষণ করবে। এটি একটি স্বচ্ছ রত্ন-বাক্সের মতো, যা রাতে আলো ছড়াবে এবং দূর থেকে দেখে মনে হবে যেনো কাছে ডাকছে।

ভেতরে, সাদা দেয়াল, উষ্ণ ইউরোপীয় সাদা ওক কাঠের মেঝে এবং বাইরে থেকে ভেতরে বিস্তৃত হিগিন্স লাইমস্টোন। সব মিলে এক প্রাকৃতিক আধুনিক রূপ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ছিলো স্থপতির। নর্থসাইড ডিজাইন কালেকটিভের প্রধান ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ট্যালি রবার্টস-আর্লি বলেন, বাইরের দৃশ্যকে প্রাধান্য দেয়ার বিষয়টিই ভেতরের শান্ত রঙের বিন্যাসের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

এই ডিজাইন দম্পতির বিশাল শিল্পকর্মের সংগ্রহ কোথায় স্থাপন করা হবে, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে। পশ্চিম উত্তর ক্যারোলাইনায় স্থপতিরা প্রায়শই চারপাশের দৃশ্য থেকে অন্দরসজ্জার রঙের ধারণা নিয়ে থাকে। ব্লু রিজ পর্বতমালা নীল ও সবুজ রঙের আভা ছড়ায়, যা বাড়ির বিশাল কাঁচের জানালাগুলো জুড়ে সারা বছরই দেখা যায়। আর সেকারণেই রুমের ভেতরের কালার একেবারে উল্টো।

একইভাবে চারপাশের পরিবেশই ঠিক করে দিয়েছে জানালাগুলো কোথায় বসানো হবে। যখনই পাহাড় বা শহরের কেন্দ্রস্থলের দৃশ্য দেখা যায়, তখন সেখানেই দেয়ালগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থপতি ব্রায়ান্ট।

বাধামুক্ত জীবনযাপন

বাড়ির কেন্দ্রস্থলে, একটি কেন্দ্রীয় ত্রিকোণাকার ছাদ অনুভূমিক বাড়িটির মেরুদণ্ড হিসেবে নির্মাণ করা হয়। রান্নাঘর, খাবার ঘর এবং বসার জায়গার জন্য একটি উঁচু মণ্ডপ তৈরি করে। ভবনটির প্রায় সব কক্ষেই খোলামেলা বাতাস ও দিনের আলোয় ভরপুর থাকে।

খোলা নকশা এবং আংশিক বিভাজন পুরো বাড়ি জুড়ে সহজ চলাচলের সুযোগ করে দেয়। বাড়ির মালিক বলেন, “আপনি যদি ওয়াকার বা হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন, তবে এটি মোটেও কোনো সমস্যা নয়।” একটি লিফট নিচের তলার সাথে সংযুক্ত, যেখানে দম্পতির নাতি-নাতনি এবং অন্যান্য রাত্রিযাপনকারী অতিথিরা আরামে থাকার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পায়।

রান্নাঘরে, ৬ ফুট চওড়া ও ৮ ফুট উঁচু একটি মারভিন আলটিমেট ডাইরেক্ট গ্লেজ জানালা থেকে দূরে অ্যাশভিল শহর দেখা যায়, যা রাতে আলোয় ঝলমল করে। ব্রায়ান্ট বলেন, “আমরা আক্ষরিক অর্থেই ডাউনটাউনের সেই পরিকল্পিত দৃশ্যটিকে ছবির ফ্রেমে বাঁধিয়েছি।” রেঞ্জ ওয়ালের উপরে থাকা বহুভুজ আকৃতির জানালাগুলো আরও বেশি আলোকিত হতে সাহায্য করে এবং ভেতরে-বাইরে উভয় দিকেই স্থাপত্যের আকর্ষণ বাড়ায়।

প্রবেশপথ, বসার ঘর এবং প্রধান শোবার ঘরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর কোণার জানালাগুলো বাড়িটিকে প্রকৃতির সাথে নির্বিঘ্নে মিশিয়ে দেয়। ব্রায়ান্টের মতে, এর উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন দিক থেকে দিনের আলো প্রবেশ করানো এবং সেই প্যানোরামিক দৃশ্যকে আরও ফুটিয়ে তোলা। বাড়ির মালিকরা দিনের বেলায় খুব কমই আলোর ব্যবহার করে থাকেন।

প্রাকৃতিক সংযোগ

কাস্টমাইজযোগ্য ডিজাইন এবং উন্নত তাপীয় কর্মক্ষমতা সম্পন্ন মারভিন আলটিমেট জানালাগুলো সেই পরিচ্ছন্ন নান্দনিকতা প্রদান করে, যা এই সুবিন্যস্ত বাড়িটির জন্য প্রয়োজন ছিল। স্থপতি বলেন, “এগুলোর একটি আরও পরিচ্ছন্ন ও সমসাময়িক গড়ন রয়েছে।”

বাড়ির ১০০টিরও বেশি জানালার মধ্যে অনেকগুলোই খোলা ও বন্ধ করা যায়। বাড়িটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে সবসময় একটি মনোরম অনুকূল বাতাস বয়। সেকারণে এটি এক ধরণের প্রাকৃতিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণেরও কাজ করে।

রান্নাঘর এবং জাল দিয়ে ঘেরা বারান্দাসহ বাইরের বসার জায়গাগুলো বাড়ির ভেতরের ও বাইরের সীমানাকে আরও অস্পষ্ট করে তোলে। বাড়ির সামনে, ফায়ারপিটসহ একটি ব্লুস্টোনের উঠোন প্রতিবেশীদের ও তাদের কুকুরদের দম্পতির সাথে সূর্যাস্ত দেখতে জড়ো হওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

Related Posts

চেক শিল্পী ম্যাগডালেনার বিরল কীর্তি: জাদুঘরে পিরামিড

স্থাপত্যের ইতিহাসে পিরামিড হলো শক্তি, স্থায়িত্ব এবং সভ্যতার প্রতীক। হাজার বছরের পুরোনো এই স্থাপত্যরূপ সাধারণত মরুভূমি, সমাধিক্ষেত্র কিংবা…

ইউক্রেন পুন:গঠনে আশিবার্দ হতে পারে থ্রিডি প্রিন্টিং

এর নরম ধূসর রেখা এবং মসৃণ, বাঁকানো বাহ্যিক কাঠামোর কারণে প্রজেক্ট হাইভকে স্কুলের চেয়ে বরং একটি ওয়েলনেস রিট্রিট…

মোবিয়াস স্ট্রিপের অনুপ্রেরণায় নির্মিত ডাইম্যাক সদরদপ্তর

ডেনমার্কের ওডেন্স শহরের গ্লিশহোম হ্রদের সবুজাভ প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান BIG (Bjarke Ingels Group) নির্মাণ করেছে ড্যানিশ উপকরণ…

পরিবেশবান্ধব এআই ডেটা সেন্টার ‘রিও এআই সিটি’

আন্তর্জাতিক আর্কিটেকচার স্টুডিও হাইফেন ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্ব রাজ্য রিও ডি জেনেইরোতে বিশ্বের প্রথম ডাটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।…

উহানে জলের বুকে স্বস্তির জীবন

উহান আরবান কনস্ট্রাকশনের কাইউয়ান সেনবো রিসোর্ট,যা চীনের উহানের হৌগুয়ান হ্রদের উত্তর তীরে অবস্থিত। এখানে রয়েছে আইকনিক ‘জায়ান্ট ব্যানিয়ান…

স্থাপত্যের নতুন অধ্যায় পাথরের বুকে স্টেডিয়াম

কল্পনা করুন, আপনি ফুটবলের কোনো মহোত্তম ম্যাচ দেখতে বসেছেন। কিন্তু আপনার চারপাশের গ্যালারি কোনো সাধারণ কংক্রিটের দেয়াল নয়…

মেঘমল্লার: নগরজীবনে আলো, প্রকৃতি ও প্রশান্তির ছোঁয়া

প্রকল্প-তথ্য প্রকল্পের নাম: মেঘমল্লার (Meghmallar)নকশা: FrameWorkঅবস্থান: নবোদয় হাউজিং, মোহাম্মদপুর, ঢাকাআলোকচিত্র: Asif Salman / salARCHman studio দ্রুত নগরায়ণের ফলে…

আছিয়া মঞ্জিল: প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠা এক বাড়ির গল্প

প্রকল্প-তথ্য প্রকল্পের নাম: আছিয়া মঞ্জিলঅবস্থান: বড়বাজার, আম্বরখানা, সিলেটপ্রধান স্থপতি: স্থপতি রাজন দাসসহযোগী স্থপতি: স্থপতি অমিতাভ দেবনাথপ্রকল্প সম্পন্ন: ২০১৫সিভিল…

আধুনিক নির্মাণ উপকরণ ও অগ্নিরোধী কাঠ

কাঠ নির্মাণের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। আমাদের জীবনের নানা ক্ষেত্রেই কাঠের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। সহজলভ্য এবং দামে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *