উহান আরবান কনস্ট্রাকশনের কাইউয়ান সেনবো রিসোর্ট,যা চীনের উহানের হৌগুয়ান হ্রদের উত্তর তীরে অবস্থিত। এখানে রয়েছে আইকনিক ‘জায়ান্ট ব্যানিয়ান ট্রিহাউস’ হোটেল রুম। ডাহলিন আর্কিটেকচারের নির্মিত এই রিসোর্টটি স্থাপত্যকে প্রকৃতির সাথে একীভূত করেছে।
স্থপতিরা এখানে প্রকৃতির সাথে নিমগ্ন আয়েশি জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা তৈরি করেছেন। প্রকল্পটি হৌগুয়ান হ্রদের উত্তর তীরের বন ও হ্রদের প্রাকৃতিক দৃশ্যকে কাজে লাগিয়ে একটি গ্রাম্য বিন্যাস তৈরি করেছে, যেখানে কটেজগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে জলের ধার ঘেঁষে বিন্যস্ত হয়ে এক শান্ত ও আঁকাবাঁকা বসতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
রিসোর্টটির এমন সব চিত্র তুলে ধরা হলো।

উহানের হ্রদের শান্ত জলের উপর সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই অসাধারণ ট্রিহাউসটি দেখে মনে হয়, যেন কোনো ফ্যান্টাসি উপন্যাসের পাতা থেকে তুলে আনা গল্পের প্রতিচ্ছবি। ঘন সবুজ পাতায় মোড়ানো এই বহু-স্তরবিশিষ্ট কাঠের কাঠামোটি উদ্ভাবনী স্থাপত্যের সাথে প্রাকৃতিক মিতালীকেই বুঝায়। নিচে, হ্রদের তীরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মনোরম কিছু ওয়াটারফ্রন্ট কটেজের বাঁকানো চালার ঘরেও রয়েছে অবকাশ যাপনের যাবতীয় সুবিধা।

অস্তগামী সূর্যের সোনালী আভায় স্নাত ট্রিহাউসটি স্থাপত্য ও প্রকৃতির সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই হাউসটি মানুষের সৃজনশীলতা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের এক নিখুঁত সংমিশ্রণ তৈরি করেছে।
মাটি থেকে অনেক উঁচুতে ঝুলে থাকা এই বাঁকানো কাঠের কাঠামো গুলোকে দেখতে মনে হয় ডালপালার মধ্যে যত্ন করে তৈরি করা চমৎকার পাখির বাসার মতো। পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো আসলে ঘরের ভেতর তৈরি হয় এক আলো ছায়ার খেলা। জাগায় বিস্ময় মনে।

সুউচ্চ চিরহরিৎ গাছে ঘেরা এই ঘরগুলোকে জঙ্গলের আশ্রয় বলেই মনে হয়। গাছে ঘেরা এই মনোমুগ্ধকর অরণ্য-আশ্রয়টি এমন এক জগতের বিরল ঝলক দেখায়, যেখানে স্থাপত্য ও প্রকৃতির নিখুঁত সমন্বয় হয়েছে। উঁচু কাঠের কেবিনগুলো গাছের মধ্যে যত্নসহকারে স্থাপন করা হয়েছে। তার চারপাশে রয়েছে কাঠের ওয়াকওয়ে।
এই নকশাটি দর্শনার্থীদের বনের উপর দিয়ে চলাচলের সুযোগ করে দেয়। পর্যটকরা এই হাউসে বেড়াতে এলে জঙ্গলকে খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পারবে।
এই অবকাশ কেন্দ্রটি টেকসই স্থাপত্য এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রতি পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন। গ্রাম্য কেবিনগুলো বনের সাথে নিখুঁতভাবেই মিশে গেছে।

পাখির চোখে দেখলে এই জনপদটিকে আপাতত শ্বাসরুদ্ধকর একটি জনপদ মনে হতে পারে। তবে গভীরভাবে ভাবলে একে কোন জনপদ মনে হবে না। মনে হবে ক্যানভাসের উপর যেন জলরঙে আঁকা কোন ছবি।
এই প্রকল্পটি টেকসই জলতীরবর্তী জীবনযাপনের একটি সাহসী রূপকল্পের চিত্র। জলের কাছে থেকে জীবনকে উপভোগ করার দারুণ এক ঠিকানা উহানের এই হ্রদ।

হ্রদের এক কোণে রয়েছে একটি সেতু। তীর ঘেঁষে বাধা নৌকোর মতো কটেজগুলো দেখে শুধু ছবির মতোই নয়। এতে রয়েছে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত অন্দরসজ্জা। জেছনায় রাত্রি যাপনে এখানে স্বপ্নের দেখা। ঝিরিঝিরি বাতাসে শীতল হবে মন, প্রাণ।
একপাশে ঘন গাছে সারি আর একপাশে নীলজল, সব মিলে যেনো এক মায়াময় আবহ সৃষ্টি করেছে। এই হ্রদের পাড়ে পর্যটকদের বিস্ময়ের যেনো শেষ নেই।

দূরে শহুরে ক্লান্তির সীমারেখা। সামনে বিশাল জলরাশি। মাঝখানে এক টুকরো সবুজ। তাতে আবার স্বপ্নের মতো কিছু ছোট ছোট ঘর যাকে বলা হয় কটেজ। সবুজের ভেতরে এখানে লুকিয়ে আছে এক নিস্তব্ধ নীরবতা।
সুপরিকল্পিত এই পর্যটন কেন্দ্রের নকশা খুবই সাধারণ। তবে পর্যটকদের উপর এর প্রভাব অনেক গভীর। পরিবার বন্ধু-বান্ধব আর প্রিয়জনের নিয়ে একবার ঘুরে গেলে মনে থাকবে বহুদিন। উহানের লেকের ভেতরে এমন এক গন্তব্যে একদিন ঘুরে আসা যেতেই পারে।

ছবিটি চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানের। তবে কয়েকবার দেখেও ঘোর যেনো কাটবে না। যেনো বাংলাদেশের বর্ষার কোন গুচ্ছগ্রামে চিত্র। ঘাটে বাধা সারি সারি নৌকা। যেনো নৌকাই চলাচলের একমাত্র বাহন। তবে এই হ্রদের নৌকাগুলো শুধু নৌকাই নয় একেকটি বাড়ি।

শান্ত জলাশয় এবং সবুজ প্রকৃতির মাঝে অবস্থিত এই অসাধারণ হ্রদ-তীরবর্তী অবকাশ কেন্দ্রটি টেকসই স্থাপত্য বিলাসিতার এক নতুন রূপ।
এর আকর্ষণীয় রূপের বাইরেও, এই রিসোর্টটির পরিবেশ-সচেতনতা স্থাপত্যের এক ক্রমবর্ধমান ধারার প্রতিনিধিত্ব করে। এখানে আরাম, উদ্ভাবন এবং পরিবেশগত দায়িত্ববোধ একইসাথে সহাবস্থান করে। এখানে পর্যটকদের ঘুম ভাঙ্গে ঝকঝকে হ্রদের অবারিত দৃশ্য দেখে। আবার জলের উপর প্রতিফলিত মনোহর সূর্যাস্তের সাথেই সমাপ্তি হয় দিনের।

ট্রিহাউস নাকি টাওয়ার বুঝে উঠা মুশকিল। এক বিশাল জীবন্ত গাছের ডালপালাকে ঘিরে নির্মিত, উঁচু কাঠের কাঠামোগুলোকে পাতার মাঝে অনায়াসে ভাসতে দেখা যায়।
এটি শুধু রিসোর্টই নয়, এটি একটি জীবন্ত উদাহরণ যেখানে স্থপতিরা দেখিয়েছেন প্রকৃতির মাঝে কিভাবে স্থাপত্যের বিকাশ ঘটানো সম্ভব।




















