ব্যবসায়ী শেখ আখতার হোসেন ও মো. ইলিয়াস হোসেন দুজনে একসঙ্গে ব্যবসা করেন। দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াটা চমৎকার। মৎস্য ব্যবসার মাধ্যমেই শুরু একত্রে পথচলা। ২০১৩ সালে এসে জড়িয়ে পড়েন নির্মাণপণ্য ব্যবসায়। সফল এ ব্যবসায়ীদ্বয় আকিজ সিমেন্ট কোম্পানিটির খুলনা টেরিটরির অন্যতম ডিলার। যুগিহাটী, রূপসা, খুলনার ‘মেসার্স সন্ধানী ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড সিমেন্ট হাউজ’-এর স্বত্বাধিকারী তাঁরা। নির্মাণপণ্যের এ ব্যবসা ছাড়াও তাঁদের রয়েছে ইট, বালু, হার্ডওয়্যার, স্যানিটারি, ইলেকট্রনিকস পণ্য, এলপি গ্যাস ব্যবসা। বন্ধন-এর নিয়মিত আয়োজন ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’ পর্বে এবার জানাব সফল এ ব্যবসায়ীদ্বয়ের বর্ণাঢ্য জীবনকাহিনি। সঙ্গে ছিলেন আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির আঞ্চলিক বিপণন ব্যবস্থাপক মো. তহিদুল ইসলাম সরকার।
মৎস্য ব্যবসার সঙ্গে দুজনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও মূলত তা মৌসুমি ব্যবসা। বছরের অর্ধেকটা সময় বন্ধই থাকে এ ব্যবসা। বাকি সময়ে কিছু করার তাগিদ থেকেই বিকল্প ব্যবসা হিসেবে তাঁরা বেছে নেন নির্মাণপণ্য সিমেন্টের ব্যবসা। ব্যবসা শুরুর কিছু দিনের মধ্যেই শুরু করেন আকিজ সিমেন্ট এসিআরডির মাধ্যমে ব্যবসা। পাশাপাশি চলে ইলেকট্রনিকস পণ্য ও ইটের ব্যবসা। প্রত্যাশিত সাড়া পান সিমেন্ট ব্যবসায়। এমন সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০১৬ সালে হন স্থানীয় পরিবেশক। খুচরা ব্যবসায় সফলতা এলেও পরিবেশক ব্যবসায় প্রাথমিক পর্যায়ে হিমশিম খান কিছুটা। ব্যবসায় পান না আশানুরূপ সফলতা। শঙ্কিত হন, আদৌ পারবেন কি না ডিলারশিপ চালিয়ে নিতে! এমনকি পরিবেশকস্বত্ব ত্যাগের মতো সিদ্ধান্তও নেন তারা। কিন্তু আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির আঞ্চলিক বিপণন ব্যবস্থাপক তহিদুল ইসলাম যখন অন্য ব্যবসার সঙ্গে সিমেন্ট ব্যবসার মুনাফার পার্থক্যের অংকটা তুলে ধরেন, তখন তাঁরা বুঝতে পারেন পণ্যটির ব্যবসায়িক সম্ভাবনা।
নিজেদের হতাশা কাটিয়ে নব উদ্যমে পূর্ণ মনোনিবেশ করেন সিমেন্ট ব্যবসায়। শুরু করেন ব্যবসায়িক প্রচারণা ও বাজার পরিদর্শন। প্রতিদিন বিভিন্ন বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রকাশ করেন তাঁদের সঙ্গে ব্যবসা করার আগ্রহ। এভাবে কঠোর পরিশ্রমে বেশ কিছু রিটেইলার ও বাজার গড়ে তোলেন। তা ছাড়া এলাকায় নিজেদের ভাবমূর্তি স্থানীয়দের পণ্য কেনার ব্যাপারে তাঁদের বিশ্বাস ও আস্থা জোগায়। এভাবেই সবার ঐকান্তিক সহযোগিতা ও নিজেদের প্রচেষ্টায় এগোতে থাকে ব্যবসা।
৩০ বছর ধরে একসঙ্গে ব্যবসা করছেন ব্যবসায়ীদ্বয়, যা এক বিরল দৃষ্টান্ত। এটা সম্ভব হয়েছে কেননা একে অন্যের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে তাদের। দুজনেরই রয়েছে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা। উভয়েই চেষ্টা করেন ব্যবসা থেকে যতটা সম্ভব কম ব্যয় করার। ইলিয়াস হোসেনের ব্যবসায়িক দক্ষতা প্রবল। তিনি ব্যবসা পরিচালনা করেন সুকৌশলে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা, লেনদেন, অর্থ আদায়, ব্যাংকিং, হিসাবপত্র রাখাসহ অন্য বিষয়গুলো দেখভাল করেন আখতার হোসেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে উভয়ের মতই প্রাধান্য পায়। এভাবে নিজেদের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমনি¦ত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে তাঁদের ব্যবসা। এখন তাঁদের লক্ষ্য ব্যবসার পরিসর আরও বাড়িয়ে আকিজ সিমেন্টের স্থানীয় ডিসট্রিবিউটর হওয়া।
ব্যবসায়ী শেখ আখতার হোসেনের জন্ম ১৯৭৫ সালের ৫ এপ্রিল রূপসা, খুলনায়। পিতা মরহুম শেখ ওমর আলী ও মা মরহুমা জোহরা বেগম। তিনি খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৯১ সালে মাধ্যমিক, সরকারি আজম খান কমার্স কলেজ থেকে ১৯৯৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক এবং সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে বিএসএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বিএসএস পড়াকালীন পাড়ি জমান বিদেশে। কিন্তু প্রবাসজীবনের নানা জটিলতায় এক বছর পরেই দেশে ফিরেন। এ সময়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু খালিদের সঙ্গে শুরু করেন মৎস্য ব্যবসা। বিয়ে করেন ১৯৯৫ সালে। সহধর্মিণী শিরীন সুলতানা পলি। তাঁদের সুখের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে। বড় মেয়ে সুরাইয়া আক্তার নূর (তিন্নী) আহসানুল্লাহ কলেজে উচ্চমাধ্যমিকের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। ছোট ছেলে শেখ মাহিম হোসেন খুলনা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ছে। ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কাজেও জড়িত ব্যবসায়ী আখতার। তিনি খালিদ স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক, শোলপুর বায়তুল আমান জামে মসজিদের সহসভাপতি, যুগিহাটী ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং যুগিহাটী ভোরের বাজার কমিটির ক্যাশিয়ার।
ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস হোসেনের জন্ম ১লা এপ্রিল ১৯৭০ খুলনার যুগিহাটীতে। পিতা শেখ ইসমাইল ও মা সবুরুন্নেসা। ১৯৮৯ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এ ব্যবসায়ী। তাঁর সহধর্মিণী মিসেস খাদিজা বেগম। এ দম্পত্তির এক ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে সজীব আহমেদ ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ট্রিপল-ই)-এ চতুর্থ সেমিস্টারে এবং ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার, সরকারী আজম খান কমার্স কলেজে ম্যানেজমেন্টের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ৯৭তম সংখ্যা, মে ২০১৮।