স্থপতি চার্লস মার্ক কোরিয়া ভারতের তথা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমসাময়িক স্থাপত্য ইতিহাসের প্রবাদপুরুষ। স্বাধীনতা-উত্তরকালে তিনি ভারতের অন্যতম প্রতিভাবান স্থপতি হিসেবে দেশ-বিদেশে নন্দিত ও প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছিলেন একজন স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ, তাত্ত্বিক, আন্তর্জাতিক লেকচারার এবং পর্যটক। এই যুগান্তকারী স্থপতি ১৯৩০ সাল, ১ সেপ্টেম্বর তেলাঙ্গানা রাজ্যের সিকান্দারাবাদ শহরে মধ্যবিত্ত সনাতন পরিবারে জন্ম নেন। তাঁর ছোটবেলা কেটেছে মুম্বাইয়ের বেলাত স্টেইট-এ।
একজন স্থপতির প্রতিভার স্বাক্ষর যেমন তাঁর কাজ, ঠিক তেমনি স্থপতির পরিচয় মিলে তাঁর চিন্তা ও দর্শনে। কোরিয়ার জীবন ও স্থাপত্য দর্শন পর্যালোচনায় দেখা যায়, তাঁর নকশার চাবিকাঠি হলো অনন্য সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তা এবং স্বদেশের চাহিদা বোঝার অসাধারণ ক্ষমতা। কোরিয়া তাঁর স্থাপত্যকর্মে দেখিয়েছেন কী করে একটি আধুনিক পরিবেশের সঙ্গে আঞ্চলিক ঐতিহ্যের সংমিশ্রণ ঘটানো সম্ভব। তিনি তাঁর সমস্ত নগর পরিকল্পনা প্রকল্পগুলোতে বহুতলবিশিষ্ট হাউজিংয়ের সমাধান এড়িয়ে স্বল্পতলবিশিষ্ট আবাসন প্রণয়ন করেছেন। কোরিয়ার নকশাকৃত স্থাপনাগুলোতে জলবায়ু প্রতিক্রিয়াশীলতা দৃশ্যমান। জলবায়ু ও আবহাওয়া কীভাবে স্থাপত্যশিল্পকে গড়ে তোলে, সে সম্বন্ধে কোরিয়া বলেছেন, ‘এটা আশ্চর্য, কীভাবে জলবায়ু স্থাপত্য গঠনকে সৃষ্টি করে। এটা ইগলুর জন্য যেমন সত্য, তেমনি আবার প্রশান্ত সাগর দ্বীপপুঞ্জের জন্যও, সর্বত্রই সত্য। আপনাকে স্থানীয় নির্মাণসামগ্রী ও কলাকৌশলের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে এবং তখন শিল্পসম্মত মাধুর্যময় স্থাপত্য সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন।’ এ ছাড়া তাঁর নকশায় উন্মুক্ত স্থানের প্রাধান্য দেখা যায়। অনেক পর্যালোচক এটাকে বলেছেন, ‘ওপেন-টু-স্কাই’ স্থাপত্যশৈলী। কেউ কেউ তাঁর কাজে কিউবিজমের প্রভাব খুঁজে পান।
শহুরে দরিদ্র চাহিদার প্রতি তাঁর সংবেদনশীলতা এবং তাঁর স্থাপনায় ঐতিহ্যগত পদ্ধতি ও উপকরণের ব্যবহার সবিশেষ উল্লেখ্য। কোরিয়া বিশ্বাস করতেন, আধুনিক জীবনের যাবতীয় চাহিদা মেনেও পরিবেশ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার শর্তটুকু কখনোই অগ্রাহ্য করতে নেই। তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান অনেকে মনে করেন, তিনি শিল্প ঐতিহ্যের যে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ধারা বা পরম্পরায় হিন্দু ও বৌদ্ধধর্ম সংস্কৃতি এবং পরবর্তী সময়ে ইসলামি মোগল শাসন ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক-উদ্ভূত এবং সাম্প্রতিক সময়ের ইউরোপীয় পশ্চিমা আধুনিক স্থাপত্যধারা যেটি স্বাধীনতা-উত্তরকালে বিকশিত হয়েছে। এই দীর্ঘ ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিয়ে একটি সমন্বিত স্বরূপকে ক্রমাগত আবিষ্কারে আজীবন সচেষ্ট হয়ে সফল হয়েছেন। শহরের দরিদ্র জনগণ ও গৃহহীনদের জন্য বসতবাড়ি এবং তাদের চাহিদা বা প্রয়োজন মেটাতে নানা রকম উন্নয়ন প্রকল্পে দেশীয় নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, স্বল্পমূল্যে প্রয়োগ, স্বউদ্যোগ গ্রহণ করে নির্মাণ ও স্থাপনা ইত্যাদিতে তিনি বিশেষ অবদান রেখেছেন।
কোরিয়া ১৯৪৬-৪৮ সালে মুম্বাইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে অধ্যয়ন শেষে আন আরবারে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৪৯-৫৩ সালে স্থাপত্যে স্নাতক এবং বাক মিনস্টার ফুলার ও ওয়াল্টার স্যান্ডার্সের অধীনে ১৯৫৩-৫৫ সালে কেমব্রিজে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, এমআইটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
স্থাপত্যশিল্প ও স্থাপত্যপেশা জগতে চার্লস কোরিয়া এক বর্ণাঢ্য কীর্তিমান হিসেবে ভারত ও বহির্ভারতে অসামান্য ও অনন্য সৃষ্টিশীলতার পরিচয় রেখেছেন। ১৯৫৩ সালে স্থাপত্যে স্নাতক সম্পূর্ণ করার পর কোরিয়া প্রথমে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারর স্থপতি মিনোরু ইয়ামাসাকি, কার্যালয়ে কাজ করেন। এরপর ১৯৫৬-৫৮ সালে মুম্বাইয়ে জিএম ভুটা অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে অংশীদারিত্বে যোগ দেন। ১৯৫৮ সাল থেকে তিনি স্বাধীনভাবে স্থাপত্যপেশা চর্চা করে আসছিলেন। মুম্বাই সমুদ্রবন্দরের অদূরে ২০ লাখ নাগরিকের জন্য নভি মুম্বাই নামে নতুন শহর পরিকল্পনার প্রধান স্থপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৭০-এ। নগর পরিবেশ ও নাগরিক জনপদের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৮৪ সালে মুম্বাইয়ে আরবান ডিজাইন রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৫ সালে প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর আমলে ন্যাশনাল কমিশন অন আরবানাইজেশনের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন।
এসব ছাড়াও চার্লস কোরিয়া স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনা বিষয়ে মূল্যবান প্রবন্ধ লিখে স্থপতিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, সেমিনার ও আলোচনা সভায় যেমন প্রধান বক্তা হিসেবে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন, তেমনি ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবেও শিক্ষকতা করে নিজের চিন্তাভাবনা, মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। ১৯৬২ সালে এমআইটিতে আলবার্ট বেমিস অধ্যাপক, ১৯৬৩ ও ১৯৭৪ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং ক্রিটিক, ১৯৬৪-তে খড়গপুর আইআইটি ও রুড়কি বিশ্ববিদ্যালয়ে, ১৯৬৬ ও ১৯৬৯ সালে বরোদা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ১৯৬৭ সালে আহমেদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে, ১৯৭০ সালে মুম্বাই আইআইটিতে, ১৯৭১-এ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে, ১৯৭৩-এ ব্রিসবেনের কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং লেকচারার হিসেবে অংশ নেন। ১৯৭৪-এ ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ব্যানিস্টার ফ্লেচার অধ্যাপক, লন্ডনের আর্কিটেকচারাল অ্যাসোসিয়েশন স্কুল অব আর্কিটেকচার (এএ); কানেকটিকাট, নিউ হ্যাভেনের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, ফিলাডেলফিয়ার ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়া ও ১৯৭৬ সালে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা করেন। ১৯৭২ সাল থেকে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকটস, আইআইএর কাউন্সিল সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া ভারতের অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যেমন, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, বেঙ্গালুরু কর্ণাটক সরকার ইত্যাদিতে। ১৯৭৭ সাল থেকে আগা খান আর্কিটেকচার অ্যাওয়ার্ড স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৬৩ সালে গুজরাটের স্বল্পমূল্য আবাসিক প্রকল্প প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পান। ১৯৭৪ সালে টাইম ম্যাগাজিনের নতুন নেতৃত্বদানকারী সংখ্যায় একজন প্রভাবশালী স্থপতি হিসেবে স্থান পান।
তাঁর স্থাপত্যকর্মের মধ্যে আহমেদাবাদে সবরমতি আশ্রমের ‘মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল মিউজিয়াম’ অন্যতম প্রকল্প। সমগ্র ভারত জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী সমস্ত পরিস্থিতিতেই অহিংস মতবাদ ও সত্যের প্রতি অটল ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। এই মহাপুরুষ ১৯১৭-১৯৩০ সালে সবরমতি নদীর তীরে এই আশ্রমে অবস্থান করেন। ১৯৫৪ সালে মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল মিউজিয়াম ও শিক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্ব আরোপিত হয় চার্লস কোরিয়ার উপর। কোরিয়া এখানে তার স্থাপনায় মহাত্মা গান্ধীর জীবনাদর্শের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তিনি উপকরণ হিসেবে বেছে নিয়েছেন খুব সাধারণ ও সহজলভ্য উপকরণ, যা মহাত্মা গান্ধীর জীবনাদর্শের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ। স্থাপনাটির দরজায় কাঠ, মেঝের জন্য পাথর, দেয়ালে ইট এবং ছাদে পোট টাইলস (pot tiles) ব্যবহার করা হয়েছে। জানালায় ব্যবহার করা হয়েছে লুভার। ছাদে রয়েছে বৃষ্টির পানি চলাচলের সুব্যবস্থা। পুরো স্থাপনাটি ৫১টি মডিউলার ইউনিটে তৈরি, যা ইটের কলাম ও সাপোর্ট কংক্রিট চ্যানেলের দ্বারা নির্মিত। মেঝেটি গ্রাউন্ড থেকে কিছুটা উঁচুতে অবস্থিত, যা খানিক ভাসমান অনুভূতি দিতে সক্ষম। মাঝে রয়েছে সেন্ট্রাল ওয়াটার কোর্ট, যেটি সমস্ত পাথওয়ের (pathway) মিলনকেন্দ্র, যা ভারতের গ্রামাঞ্চলের স্থাপত্যের অববাহক।
চার্লস কোরিয়া ১৯৬১ সালে আহমেদাবাদে স্বল্প আয়ের নাগরিকদের জন্য ‘টিউব হাউস’ প্রকল্পটির নকশা করেন। এই প্রকল্পের চমৎকার দিক হলো এর প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা। ‘টিউব হাউস’ গড়ার সময়ে চার্লস কোরিয়া বলেছিলেন, ‘মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের ভাবনার ধাঁচে আমার কল্পনাশক্তি শুকিয়ে যায়।’ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ওপরে নির্ভরতায় তত বিশ্বাসী ছিলেন না চার্লস। আহমেদাবাদের ওই আবাসনই হোক বা মুম্বইয়ের ৩২ তলা বাড়ি, আলো-হাওয়া খেলানোর দিকটায় কখনো আপস করেননি তিনি। খানিকটা ছাদের নিচে, খানিকটা আকাশের ছায়ায় সৌধের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন চার্লস। এরই ধারাবাহিকতায় কোরিয়া পরবর্তী সময়ে ‘পারেক হাউস’ এবং ‘কেবেল নগর টাউনশিপ’-এর নকশা করেন, যা অন্যতম একটি স্থাপত্য সৃষ্টি।
মুম্বাই নগরী কেমন দৃশ্যমান ও অবয়বে বাস্তবায়িত হবে সেটি নিয়ে বিতর্কের মধ্যমণি ছিলেন কোরিয়া। মুম্বাইয়ে কোরিয়ার স্থাপনাসমূহের মধ্যে কাঞ্চনজঙ্ঘা আবাসিক ভবন অন্যতম। ৩২ তলা কাঞ্চনজঙ্ঘা আবাসিক ভবন সুউচ্চতায় মুম্বাইয়ের আকাশসীমায় যেটি নির্মিত যেন অনেক বসবাসগৃহ একটির ওপর আর একটি বসিয়ে জড়ো করা হয়েছে। ঐতিহ্যগত বাংলো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই আবাসিক ভবনের নকশা করেন। ঐতিহ্যগত বাংলো সহজ-সরল নীতিতে নির্মিত হয়ে থাকে। প্রধান শয়নকক্ষের চারপাশে থাকে বারান্দা, যা আলো ও বাতাসের উৎস হিসেবে কাজ করে। কাঞ্চনজঙ্ঘা আবাসিক ভবনে ঠিক এমনটাই প্রতিফলন দেখা যায়। মাঝখানে লিফট, সিঁড়িসহ প্রধান নির্মিতি পার্শ্বিক ভরকে সহ্যক্ষমতাসম্পন্ন করে তুলেছে, রিইনফোর্সড কংক্রিট কাঠামোর প্রায় ২০ ফুট প্রসারিত ঝুলবারান্দাসহ সরাসরি অব্যাহত আলো-বাতাস প্রবাহিত হয়ে চার ধরনের আবাসগৃহ সাজানো, রোদ-বৃষ্টি আগলে রাখার কৌশলও সেখানে বিদ্যমান।
চার্লস কোরিয়ার অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভোপালে মধ্যপ্রদেশ বিধান ভবন; জয়পুরে ১৯৮৬-৯২-এ নির্মিত জওহর কলাকেন্দ্র; বোস্টনে স্থাপিত এমআইটি ম্যাকগভার্ন ইনস্টিটিউটের ব্রেন অ্যান্ড কগনিটিভ সাইনসেস সেন্টার; বেলাপুর হাউসিং; এলআইসি সেন্টার, মরিশাস; বে আইল্যান্ড রিসোর্ট, পোর্ট বেয়ার, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ; সিদাদে দে গোয়া, দোনা পলা, গোয়া; বিশ্ব ঐশ্বর্য সেন্টার, বেঙ্গালুরু; ব্রিটিশ কাউন্সিল ও জীবন ভারতীয় ভবন, নয়াদিল্লি এবং লিসবনে শ্যাম্পালিমদ সেন্টার ফর দ্য আননোন স্থাপনাগুলোর নাম করা যেতে পারে। নিউ দিল্লির এলআইসি বাণিজ্যিক ভবন, ন্যাশনাল ক্রাফটস মিউজিয়াম, নিউইয়র্কের জাতিসংঘে ভারতের পার্মানেন্ট মিশন ভবন, দিল্লির ব্রিটিশ কাউন্সিল ভবন, সর্বত্র তিনি প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর স্থপতি জীবনের শেষ স্থাপত্যসৃষ্টি ছিল ইসলামি ঐতিহ্য অনুসারে সাম্প্রতিক ও আধুনিক রীতির আলোকে স্থাপিত টরন্টোর ইসমাইলি সেন্টার নির্মিতির অনন্য উদাহরণ, যা আন্তর্জাতিক স্থাপত্যকর্মে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।
স্থপতি চার্লস কোরিয়া সর্বোচ্চ স্থাপত্য-পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যেমন ১৯৮৪-এ রিবা রয়াল গোল্ড মেডেল, ২০০৬-এ পদ্মবিভূষণ, ১৯৯৪-এ জাপানের প্রিমিয়াম ইমপেরিয়াল, ২০০২-এ এ+ডি অ্যান্ড স্পেকট্রাম ফাউন্ডেশন আর্কিটেকচার অ্যাওয়ার্ড, ১৯৯৮-এ মধ্যপ্রদেশ বিধান ভবন স্থাপনার জন্য সপ্তম আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার এবং ১৯৯০ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব আর্কিটেকটস, ইউআইর তৃতীয় স্বর্ণপদক লাভ করেন।
২০১৫ সালের ১৬ জুন প্রয়াত হন বিশিষ্ট স্থপতি চার্লস কোরিয়া। দীর্ঘ পাঁচ দশকব্যাপী পেশাজীবনে সবার কাছে তাঁর সৃষ্টিশীলতার জন্য সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি প্রগাঢ় সম্মান আর আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সারা সারাবিশ্বের স্থপতি ও সব শ্রেণির মানুষ। স্থপতি ফিলিপ জনসন বলেছেন, সব স্থপতি মহাপ্রয়াণের পরেও তাঁদের সৃষ্টিকর্মের মধ্যে বেঁচে থাকেন। তেমনি চার্লস কোরিয়াও তাঁর স্থাপনার মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ৭৮তম সংখ্যা, অক্টোবর ২০১৬।