ব্যবসায়িক উদ্দেশে পরিচালিত বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং হস্তচালিত অথবা যান্ত্রিক উপায়ে পরিচালিত ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এই শ্রেণির গ্যাস সংযোগের আওতাভুক্ত। বিসিক শিল্পনগরে অবস্থিত যান্ত্রিক উপায়ে পরিচালিত ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহ, যান্ত্রিক উপায়ে পরিচালিত ইট, সিরামিক রিফ্যাক্টরিজ, স্যানিটারি বৈদ্যুতিক দ্রব্যাদি ও অন্য সামগ্রী উৎপাদনকারী সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ বৃহৎ আকারের শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহ এই শ্রেণির গ্যাস সংযোগের আওতাধীন।
বাণিজ্যিক গ্রাহক
গ্যাস সংযোগ গ্রহণের জন্য আবেদনকারী নিজ উদ্যোগে নির্ধারিত ছকের আবেদনপত্র নির্ধারিত ব্যাংক/কোম্পানি অফিস/ফটোকপি/ ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে সংগ্রহ করতে পারবেন। যথাযথভাবে আবেদনপত্র পূরণ করে নিম্নলিখিত কাগজপত্র এবং আবেদনপত্রের ফি হিসেবে ২০০ টাকার (সময়ভেদে পরিবর্তনযোগ্য) ক্রস চেক অথবা পে-অর্ডার জোন/আঞ্চলিক অফিস প্রদানের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। আবেদনপত্র জমা জমা দেওয়ার সময় গ্রাহক গ্যাস সংযোগসংক্রান্ত নিয়মাবলির কপি কোম্পানির কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারবে।
আবেদনপত্রের সঙ্গে যে যে দলিলপত্র জমা দিতে হবে
- আবেদনকারীকে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি
- ট্রেড লাইসেন্স
- জায়গার মালিকানার প্রমাণপত্র (দলিল/হোল্ডিং নং/পরচা/খাজনার রসিদ যেকোনো একটি)
- ভাড়াকৃত স্থান হলে ভাড়ার চুক্তিপত্র (যাতে গ্যাস সংযোগসম্পর্কিত এবং বিল প্রদান সম্পর্কে উল্লেখ থাকবে) এ ক্ষেত্রে ছয় মাসের নিরাপত্তা জামানত প্রদান করতে হবে
- প্রস্তাবিত অভ্যন্তরীণ পাইপ লাইনের চার কপি নকশা
- গ্যাস স্থাপনার কারিগরি ক্যাটালগ (বয়লার/ড্রায়ার/ওভেন ইত্যাদির ক্ষেত্রে)। স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত/সংযোজিত ও পুরোনো সরঞ্জামাদি ও কারিগরি ক্যাটালগ প্রদান করা সম্ভব না হলে ড্রয়িংসহ বিস্তারিত বিবরণ দাখিল করতে হবে। এই ক্ষেত্রে কমিশনিংয়ের পর ওই সরঞ্জমাদির লোড পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
আবেদনপ্রাপ্তির সাপেক্ষে যা যা করা হবে
- গ্রাহক গ্যাস সংযোগসংক্রান্ত যাবতীয় কাজের জন্য কোম্পানির সংশ্লিষ্ট জোন/অঞ্চলের বিক্রয় কার্যালয়ে যোগাযোগ করবে। অন্য কোনো অফিসে যোগাযোগ করার প্রয়োজন নেই।
- গ্রাহক কর্তৃক আবেদনপত্র দাখিলের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জোন/আঞ্চলিক বিক্রয় অফিসের প্রধানের মনোনীত কর্মকর্তা কর্তৃক জরিপ/সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।
- জরিপ/সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৪ দিনের মধ্যে গ্রাহককে গ্যাস সরবরাহের মঞ্জুরিপত্র স্বাক্ষর করে কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। গ্রাহক কর্তৃক প্রস্তুতকৃত চাহিদাপত্র সাত দিনের মধ্যে প্রদান করা হবে। কোম্পানি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত চাহিদাপত্রে সংযোগ ফি, নিরাপত্তা জামানত, আরএমএস পর্যন্ত সার্ভিস লাইনের ব্যয় রেগুলেটর আরএমএস ইত্যাদির হিসাব থাকবে।
- গ্যাস সংযোগের প্রয়োজনীয় কার্যাদি সম্পাদনের জন্য চতুর্থ বা তৃতীয় শ্রেণির তালিকাভুক্ত ঠিকাদার প্রয়োজন হবে। কোম্পানির অনুমোদিত ঠিকাদারের তালিকা সংশ্লিষ্ট জোন/আঞ্চলিক বিক্রয় অফিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
- চাহিদাপত্র অনুযায়ী অর্থ নির্ধারিত ব্যাংকে জমা প্রদান করে রসিদ অফিসে জমা দেওয়ার পর গ্রাহকের নিযুক্ত ঠিকাদার কর্তৃক দাখিলকৃত নকশা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে অনুমোদন এবং সেই অনুসারে ঠিকাদারের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ লাইন নির্মাণকার্য সমাপনী প্রতিবেদন জমাদানের পর সংশ্লিষ্ট জোন/আঞ্চলিক বিক্রয় অফিসের কর্মকর্তা কর্তৃক পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে অভ্যন্তরীণ লাইনের চাপ পরীক্ষা করা হবে। উল্লেখ্য, গ্রাহকের অভ্যন্তরীণ লাইন নির্মাণের প্রকৃত ব্যয় (মালামাল ব্যতীত) নির্ধারণপূর্বক সংশ্লিষ্ট জোন/আঞ্চলিক বিক্রয়কেন্দ্র থেকে গ্রাহককে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।
- গ্রাহক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রাস্তা কাটার অনুমতিপত্র ও সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র সংগ্রহ করে জমা দিতে হবে।
- চাহিদা মোতাবেক দলিলপত্র জমা প্রদানের পর গ্রাহকের সঙ্গে গ্যাস বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন করা হবে।
- কার্যসমাপনী প্রতিবেদনপ্রাপ্তির ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অবশিষ্ট সব প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট জোন/আঞ্চলিক অফিস কর্তৃক সম্পাদন করে গ্যাস সরবরাহ চালু করা হবে। সংযোগ চালুকালে গ্রাহককে গ্যাস সংযোগ কার্ড ও মিটার কার্ড প্রদান করা হবে। যেখানে কোম্পানির কার্যবার্তা এবং গ্রাহকের স্বাক্ষর থাকবে।
শিল্প গ্রাহক
শিল্প শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস সংযোগ প্রদানের নিমিত্তে প্রক্রিয়াকরণের ধাপগুলো যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবহৃত গ্যাসের অংশবিশেষ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করবে, সেসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় গ্যাস ব্যবহারের জন্য আলাদা পাইপ লাইন নির্মাণ ও মিটার স্থাপন করতে হবে।
গ্যাস সংযোগ গ্রহণের জন্য আবেদনকারী নিজ উদ্যোগে নির্ধারিত ছকের আবেদনপত্র (নির্ধারিত ব্যাংক, কোম্পানি অফিস/ফটোকপি/ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে) সংগ্রহ করবেন। আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্রের ফি হিসেবে ৩০০ টাকার (সময় সময় পরিবর্তনযোগ্য) ক্রস চেক অথবা পে-অর্ডার জোন/আঞ্চলিক অফিস প্রধানের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। আবেদনপত্র জমা প্রদানের সময় গ্রাহককে গ্যাস সংযোগসংক্রান্ত নিয়মাবলির কপি নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করতে হবে।
যা যা লাগবে
- আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি সত্যায়িত ছবি
- ট্রেড লাইসেন্স
- টিআইএন সনদ
- নিবন্ধনকৃত কোম্পানি হলে মেমোরেন্ডাস অব আর্টিকেলস অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন এবং সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন
- জমির মালিকানার দলিলপত্রের প্রমাণ (দলিল/হোল্ডিং নম্বর/পরচা/খাজনার রসিদ যেকোনো একটি) ভাড়াকৃত স্থানে স্থাপিত হলে ভাড়ার চুক্তিপত্র, যেখানে গ্যাস সংযোগসম্পর্কিত একটি বিল প্রদান বিষয় উল্লেখ থাকবে, এ ক্ষেত্রে ছয় মাসের নিরাপত্তা জামানত প্রদান করতে হবে।
- ফ্যাক্টরির লে-আউট প্ল্যান
- প্রস্তাবিত গ্যাস সংযোগ পাইপ লাইনের নকশার পাঁচ কপি
- স্থাপিতব্য গ্যাস সরঞ্জামাদির কারিগরি ক্যাটালগ প্রদান করা সম্ভব না হলে ড্রয়িংসহ বিস্তারিত বিবরণ দাখিল করতে হবে। এই ক্ষেত্রে কমিশনিংয়ের পর ওই সরঞ্জামাদির লোড পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
- সংশ্লিষ্ট জোন/কার্যালয়প্রধান অথবা তাঁর মনোনীত কর্মকর্তা কর্তৃক গ্রাহকের আবেদনপত্রপ্রাপ্তির পরবর্তী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রস্তাবিত কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন, জরিপ ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।
সম্ভাব্যতা যাচাইকালে জরিপ কর্মকর্তা যে যে বিষয় নিশ্চিত করবেন
- গ্রাহকের প্রস্তাবকৃত বার্নার/স্থাপনার পূর্ণক্ষমতার ভিত্তিতে লোড যথাযথভাবে নিরূপণ।
- প্রস্তাবিত আরএমএস কারখানার প্রধান ফটকের যেকোনো পাশে ১০ মিনিটের মধ্যে ও সীমানাপ্রাচীরের অভ্যন্তরে অনধিক দুই মিনিটের মধ্যে অবস্থান এবং আরএমএস পর্যাপ্ত যাতায়াতের রাস্তা সুগম্য হওয়া নিশ্চিতকরণ।
- স্ট্যান্ডবাই গ্যাস স্থাপনার লোড সংযোজিত করে কারখানার লোড নির্ধারণ করা।
- একই কারখানার বয়লার, বিভিন্ন ধরনের ফার্নেস, কিলনÑ এর কোনোটিতে ভিন্ন জ্বালানি ব্যবহারে আগ্রহী গ্রাহককে গ্যাস সংযোগ বিবেচনা না করা।
- একই মালিকানায়/ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একই হোল্ডিংয়ের মধ্যে একাধিক কারখানা পাশাপাশি স্থাপনের ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক আরএমএস নির্মাণ কিংবা একটি কেন্দ্রীয় আরএমএসের আওতাধীন সাবমিটার স্থাপনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
- একই কারখানার ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশে কোনো গ্রাহক একাধিক রান/সাবমিটারের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন গ্রাহক শ্রেণির গ্যাস সংযোগ যেমন- শিল্প, ক্যাপটিভ পাওয়ার, গৃহস্থালি ইত্যাদি প্রদানের ক্ষেত্রে একই গ্রাহকের সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণির জন্য আলাদা আলাদা চুক্তিপত্র সম্পাদন ছাড়াও ১৫০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নোটারি পাবলিক কর্তৃক সত্যায়িত একটি অঙ্গীকারনামা গ্রাহককে করতে হবে। যাতে উল্লেখ করা থাকবে যে গ্রাহকের যেকোনো শ্রেণির গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে চুক্তিপত্রের শর্তভঙ্গ/বিচ্যুতি/অনিয়ম পাওয়া গেলে তাঁর জন্য স্থাপিত সব শ্রেণির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে।
গ্রাহককে গ্যাস সংযোগ প্রদান
- জরিপ, সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদানের নিমিত্তে লোডসহ প্রাসঙ্গিক বিষয় জরিপের পরবর্তী ২০ দিনের মধ্যে কোম্পানির যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন প্রদান।
- অনুমোদনের তালিকাপ্রাপ্তির পরবর্তী দুই কার্যদিবসের মধ্যে গ্রাহককে মঞ্জুরিপত্র প্রদান এবং গ্রাহক কর্তৃক যেখানে স্বাক্ষরকরত এক কপি জমাদান প্রয়োজনীয় কার্যাদি সম্পাদনের পর গ্রাহককে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে নিরাপত্তা, জামানত ও কমিশনিং ফির চাহিদাপত্র প্রদান করা।
- নিরাপত্তা জামানত জমাদানের রসিদপ্রাপ্তির পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে নকশা অনুমোদনপূর্বক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশোধিত নকশাপ্রাপ্তি সাপেক্ষে) গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ প্রদানের নিমিত্তে অর্ডার বিতরণ, সার্ভিস লাইনের মালামালের চাহিদা ও প্রাক্কলন প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ/শাখা কর্তৃক গ্রাহককে চাহিদাপত্র প্রদান।
- মালামাল মূল্য পরিশোধ করার পর সংশ্লিষ্ট জোন/অঞ্চলিক বিক্রয় অফিস থেকে গ্রাহককে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ভান্ডার থেকে মালামাল প্রদান করা।
- গ্রাহক এবং নিয়োজিত ঠিকাদারের কাছ থেকে মালামাল উত্তোলনের কাগজপত্র গ্রহণ করে কোম্পানির প্রতিনিধির তত্ত্বাবধানে সার্ভিস লাইন, ভলবপিট, অভ্যন্তরীণ লাইন এ রকম ব্যবস্থাসংবলিত আরএমএস মূল্য নির্মাণ করতে হবে।
- প্রচলিত আইন/বিধিমোতাবেক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করা।
- গ্রাহকের সঙ্গে গ্যাস বিক্রয় চুক্তিপত্র সম্পাদন করা।
- গ্রাহক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রাস্তা কাটার অনুমতিপত্র সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে জমা প্রদান দেওয়া।
- প্রয়োজনীয় নির্মাণকার্য সম্পাদন, চুক্তিপত্র স্বাক্ষর ও রাস্তা কাটার অনুমতিপত্র জমাদানের পর ১৫ দিনের মধ্যে আরএমএস স্থাপনের দিনই গ্যাস সরবরাহ চালু করা হবে। পূর্বোল্লেখিত নিয়মাবলি অনুসরণ করে গ্যাস সংযোগ প্রক্রিয়াকালে গ্রাহকের/ঠিকাদারের তরফ হতে করণীয় বিষয়াদি সময়মতো প্রতিপালন করা হলে বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহককে যথাক্রমে সর্র্বোচ্চ আড়াই মাস ও তিন মাসের মধ্যে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা যেতে পারে।
মিটার রিডিং গ্রহণ, বিল প্রস্তুতকরণ, প্রেরণ ও পরিশোধ
মিটার রিডিং গ্রহণ
বাণিজ্যিক শিল্প মৌসুমি গ্রাহক এবং চা-বাগান শ্রেণির সব গ্রাহকের মিটার রিডিং প্রতি মাসে অন্তত একবার মাসের ২৫ তারিখ থেকে পরবর্তী মাসের ৫ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। লোড ইনটেসিভ গ্রাহক যেমন- কাচ, সিরামিক, রি-রোলিং সিলিকেট, চুন এবং এতদ্দ¡্যতীত অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যাদের ঘণ্টাপ্রতি লোড চার হাজার ঘনফুট বা তারও অধিক, তাদের ক্ষেত্রে প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তত একবার মিটার রিডিং চাপ প্রবাহ হার, স্টিলের অবস্থা প্রভৃতি তথ্য সংগ্রহ পরীক্ষা করতে হবে এবং গ্রাহকের স্বাক্ষর নিতে হবে।
বিল প্রস্তুতকরণ
বিল প্রণয়নের জন্য কোম্পানির মিটার রিডিং গ্রহণকারী শাখা কর্তৃক বিল প্রণয়নকারী শাখা বিভাগে মিটার রিডিং পরবর্তী মাসের ৮ তারিখের মধ্যে প্রেরণ করবে। বিল প্রণয়নকারী শাখা/বিভাগ কর্তৃক রিডিং সাইকেল অনুযায়ী, সংগৃহীত মিটার রিডিংয়ের ব্যবধানকে চাপ শুদ্ধি গুণনীয়ক দ্বারা গুণ করে আদর্শ আয়তন হিসেবে গ্যাস ব্যবহার নিরূপণকরত যদি গ্যাস ব্যবহার ওই সময়ের মাসিক ন্যূনতম লোডের তুলনায় বেশি হয় তবে প্রাপ্ত ব্যবহার অন্যথায় নিশ্চয়কৃত ন্যূনতম লোডকে গ্যাসের ট্যারিফ রেট দিয়ে গুণ করে গ্যাসবিল প্রণয়ন করা হবে। শিল্প গ্রাহকের জন্য উন্নততর কমপ্রেসিবিলিটি ফ্যাক্টর নির্ণয়ের সুযোগ থাকলে সেসব ক্ষেত্রে ওই ফ্যাক্টরসমূহ ব্যবহারকরত আদর্শ অবস্থায় গ্যাস ব্যবহার পরিমাপ করে বিল প্রণয়নের ব্যবস্থা করা হবে।
বিল প্রণয়ন
প্রতি মাসে বিল পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে গ্রাহকের কাছে প্রেরণ করা হবে। কোনো কারণে গ্রাহক সময়মতো বিল না পেলে কোম্পানির সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ডুপ্লিকেট বিল সংগ্রহ করতে পারবে।
বিল পরিশোধ
সব শ্রেণির মিটারযুক্ত গ্রাহকদের মাসিক বিল ইস্যু করার তারিখ থেকে পরবর্তী ২০ দিনের মধ্যে কোনো প্রকার সারচার্জ ছাড়াই পরিশোধ করা যাবে। বিল পরিশোধের সর্বশেষ তারিখ সরকারি ছুটির দিন থেকে পরবর্তী কার্যদিবসে বিল পরিশোধ করা যাবে।
মাসিক ন্যূনতম প্রদেয় বিল
কোনো গ্রাহককে গ্যাস সংযোগ প্রদানের পর গ্যাস বিক্রয় চুক্তিনামা এই নিয়মাবলি অনুযায়ী গ্রাহকের জন্য মাসিক বরাদ্দকৃত গ্যাস অব্যবহৃত থাকলে কোম্পানি কর্তৃক বিনিয়োগকৃত মূলধন যথাসময়ে ফেরতপ্রাপ্তির লক্ষ্যে মাসিক লোডের একটি নির্দিষ্ট অংশ ন্যূনতম নিশ্চয়কৃত লোড নির্ধারণকরত তার ভিত্তিতে বিল ন্যূনতম বিল আদায়ের নিয়ম প্রচলিত রয়েছে। নিশ্চয়কৃত লোডের চেয়ে গ্রাহকের গ্যাস ব্যবহার কম হলে সেই ক্ষেত্রে গ্রাহক ন্যূনতম হয়ে গ্যাসবিল পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে। বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের ন্যূনতম বিল প্রদানের হার নির্ধারণের পদ্ধতি:
বাণিজ্যিক
দৈনিক গ্যাস ব্যবহারের সময় ১৬ ঘণ্টার নিচে হলে ন্যূনতম নিশ্চয়কৃত লোড মাসিক অনুমোদিত লোডের ৫০ শতাংশ এবং ১৬ ঘণ্টা বা ঊর্ধ্বে হলে ৬০ শতাংশ হবে। গ্যাস বিক্রয়সংক্রান্ত চুক্তিনামার ফোর্স মেজিউর অনুচ্ছেদ বিবৃত কারণসমূহের বেলায় ন্যূনতম দেয় প্রযোজ্য হবে না। তা ছাড়া লে-অফ/লকআউটজনিত কারণে গ্যাস ব্যবহার বন্ধ রাখা হইলে সে শর্তসমূহ গ্রাহক কর্তৃক পূরণ করা হলে গ্যাস ব্যবহার বন্ধকালীন ন্যূনতম চার্জ প্রযোজ্য হবে না; তা হলো-
ন্যূনতম চার্জ প্রযোজ্য না হওয়ার শর্তসমূহ
- লে-অফ/লকআউট ঘোষণার বিষয়টি নির্ধারিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে কোম্পানির সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক/জোনপ্রধানের কাছে জানাতে হবে।
- লে-অফ/লকআউটকালীন গ্রাহক কোনোভাবেই গ্যাস ব্যবহার করতে পারবে না। যদি প্রমাণিত হয় যে লে-অফ/লকআউট ঘোষণার সময়কালে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে তবে গ্রাহক ন্যূনতম বিল দেওয়া থেকে অব্যাহতি পাবে না।
- লে-অফ/লকআউট ঘোষণার বিষয়টি গ্রাহককে গ্রাহক কর্তৃক কোম্পানির সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক/জোনপ্রধানের কাছে অবহিতকরণের দিন থেকে প্রযোজ্য হবে।
- লে-অফ/লকআউট ঘোষণার বিষয়াদি গ্রাহক কর্তৃক কোম্পানির সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক/জোনপ্রধানের কাছে আবেদনের মাধ্যমে অবহিতকরণের পর জোনপ্রধান অথবা সম্ভাব্যতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি গ্রাহক আঙিনা পরিদর্শনপূর্বক ইনলেট/আউটলেট ভাল্ব বন্ধ করে সিল করার ব্যবস্থা করবে এবং যৌথভাবে মিটারপাট লিপিবদ্ধ করে উভয়পক্ষ স্বাক্ষর করবে।
- লে-অফ/লকআউট প্রত্যাহার করার বিষয়টি গ্রাহক কর্তৃক কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে লিখিতভাবে অবহিতকরণের পর পুনরায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক গ্রাহক আঙিনা পরিদর্শনক্রমে আর এমএসএ অবৈধ হস্তক্ষেপ কিংবা গ্যাস ব্যবহার না করে বিষয়টি নিশ্চিত করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় গ্যাস সংযোগ চালু করার ব্যবস্থা করবে।
বিল প্রদান
শিল্প
শিল্প শ্রেণিভুক্ত গ্রাহকের গ্যাসলাইন কমিশনের পরবর্তী ১২ মাস প্রকৃত মিটার বিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল প্রত্যয়ন করা হবে।
বাণিজ্যিক সংযোগের জন্য উল্লেখকৃত বিষয়সমূহ প্রযোজ্য হবে।
পরিদর্শক
বিভিন্ন শ্রেণির আঙিনা কোম্পানির নিজস্ব কর্মকর্তা অথবা মনোনীত প্রতিনিধি/প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে পরিদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাণিজ্যিক
এক বছরে ন্যূনতম একবার তবে প্রতি ছয় মাসে একবার বাঞ্ছনীয়।
শিল্প
যেসব গ্রাহকের ঘণ্টাপ্রতি লোড চার হাজার ঘনফুট, তাদের ক্ষেত্রে প্রতি চার মাসে ন্যূনতম একবার, তবে তার বেশিও হতে পারে। প্রকাশ থাকে যে সব গ্রাহকের ক্ষেত্রে মাসিক মিটার রিডিং গ্রহণকালেও পরিদর্শনকাজ সম্পন্ন করা যাবে। অফিস চলাকালীন পরিচয়পত্রসহ কোম্পানির মনোনীত প্রতিনিধি পরিদর্শনে গেলে গ্রাহক তাকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানে বাধ্য থাকবে। গ্রাহক তা না করলে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পরিদর্শনের অনুরোধ জানিয়ে নোটিশ দেওয়া হবে। পরিদর্শনে বাধা দেওয়া হলে বিনা নোটিশে গ্রাহকের লাইন বিচ্ছিন্ন করা হবে।
সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ
অস্থায়ীভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ
ক) বকেয়া বিল ও জামানত প্রদানের ক্ষেত্রে বর্ণিত গ্রাহককে নোটিশ প্রদান করা হবে এবং নোটিশ প্রদানপূর্বক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
- বিল ইস্যুর তারিখ থেকে পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে গ্যাসবিল পরিশোধ ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ না করলে ১৫ দিনের রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশে প্রদানপূর্বক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
- কোম্পানির চাহিদাপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি জামানত প্রদানে গ্রাহক ব্যর্থ হলে ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশ প্রদানে লাইন বিচ্ছিন্ন করা হবে।
খ) যে কারণে গ্যাস বিপণন কোম্পানির গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ বিনা নোটিশে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে:
- মিটারে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ উদ্ঘাটিত হলে/পাওয়া গেলে (মিটার ইনডেক্স ভাঙা, মিটার সিল ভাঙা বা নকল মিটার রেজিস্টারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, রোটর ফ্যান ভাঙা, ডায়াফ্রেম ছিদ্র, মিটার অর্ডার উল্টোভাবে স্থাপন করা, মিটারের মেকানিজম হস্তক্ষেপ করা ইত্যাদি অথবা মিটারের সক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত লোড গ্যাস ব্যবহারকরত মিটার নষ্ট হলে।
- যেকোনো গ্যাস বিতরণ লাইন থেকে অবৈধভাবে সংযোগ স্থাপন মিটার বাইপাস কিংবা সার্ভিস লাইনের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ লাইনের সরাসরি সংযোগ স্থাপন। বিচ্ছিন্নকৃত লাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ করা হলে।
- অবৈধভাবে বিতরণ লাইন সার্ভিস লাইনের সঙ্গে রাইজার পরিবর্তন বা হস্তান্তর করা হলে।
- মিটার অবৈধ হস্তক্ষেপের কারণে মিটার রিডিং গ্রহণ/পরিদর্শনকালে গ্রাহকের মিটার রিডিং ইতিপূর্বে সংগৃহীত মিটার রিডিংয়ের চেয়ে কম (টার্নওভার ব্যতীত) পাওয়া গেলে।
- রেগুলেটর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তার কার্যকারিতা নষ্ট বা বহির্গমন চাপ বৃদ্ধি/পুনরায় সেট করা হলে।
- অননুমোদিতভাবে গ্যাস বার্নার সরঞ্জাম স্থাপন এবং হস্তান্তর করা হলে।
- চুক্তিবর্ণিত উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে গ্যাস ব্যবহার করা হলে বা কোম্পানির লিখিতপত্র ছাড়া অন্য কোনো পক্ষকে গ্যাস সরবরাহ করা হলে। আরএমএস কক্ষের চাবি সংগ্রহ না করে পরিদর্শনে অনভিপ্রেত বিঘ্ন সৃষ্টি এবং চুক্তিপত্রের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করা হলে।
- গ্রাহকের জায়গায় স্থাপিত গ্যাসমিটার ভাঙা। নষ্ট অবস্থায় পাওয়া গেলে এবং এ ব্যাপারে কোম্পানির কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা বা বক্তব্য প্রদানে গ্রাহক ব্যর্থ হলে।
স্থায়ীভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ
- গ্রাহক কর্তৃক অবৈধভাবে স্বতন্ত্র সার্ভিস লাইন নির্মাণপূর্বক অথবা বিচ্ছিন্নকৃত রাইজারের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ স্থাপনপূর্বক অথবা অন্য কোনো উপায়ে গ্যাস কারচুপি করা হলে কিংবা গ্রাহক কর্তৃক তিনবার আরএমএসে অবৈধ হস্তক্ষেপ করা হলে।
- উল্লেখিত যেকোনো কারণে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে পুনঃসংযোগ গ্রহণ করা না হলে।
প্রকাশকাল: বন্ধন ৫৭তম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০১৫