গৃহস্থালিতে গ্যাস সংযোগ

প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি শক্তির প্রধান উৎস। ষাটের দশকের শুরুতে এ দেশে প্রথম গ্যাসের ব্যবহার শুরু হয়। এখন পর্যন্ত দেশের দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ছাড়া অন্যান্য এলাকায় গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হয়েছে। অবশিষ্ট এলাকায় চলছে গ্যাস পাইপ লাইন সম্প্রসারণের কাজ। বর্তমানে চারটি বিতরণ কোম্পানি সারা দেশে প্রায় ১৪ লাখ গ্রাহকের কাছে বিরামহীনভাবে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস বিতরণ করছে। প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে বছরে দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং প্রায় ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন টন সার উৎপাদন ছাড়াও শিল্প-বাণিজ্যিক, আবাসিক, চা-বাগান, মৌসুমি ক্যাপটিভ পাওয়ার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ব্যবহৃত গ্যাাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।  গ্যাসের ব্যাপক ব্যবহার দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পালন করছে দারুণ ভূমিকা। এর ব্যাপক চাহিদার ফলে বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় এক লাখ নতুন গ্রাহক গ্যাস সংযোগের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করছে।

নতুন আবাসিক সংযোগ

বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত বাড়ি, ইমারত, বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ফ্ল্যাট বা কলোনিসমূহ এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পরিচালিত ছাত্রাবাস, ল্যাবরেটরিজ, ক্যানটিন, হাসপাতাল, মেস, শিশু সনদ, এতিমখানা, ডাকবাংলো, আশ্রম, মাজার, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি আবাসিক স্থাপনার শ্রেণীভুক্ত যারা নতুন গ্যাস সংযোগ পেতে পারে ।

সংযোগ প্রাপক

সংযোগ গ্রহণে বিতরণ লাইন বিদ্যমান থাকলে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হবে, যাদেরকে-

  • একই হোল্ডিং একক মালিকানাধীন বাড়ির ক্ষেত্রে একক বা পৃথক রাইজারের মাধ্যমে সংযোগ।
  • একই হোল্ডিংয়ে স্বতন্ত্র মালিকানাধীন ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে আলাদা সার্ভিস রাইজার বা হেডারের মাধ্যমে সংযোগ।
  • সিঙ্গেল ও ডাবল বার্নার ব্যতীত অন্যান্য সরঞ্জামসহ অর্ধ মাসিক প্রতিষ্ঠানের মেস, যৌথ কিচেনের জন্য মিটারের মাধ্যমে সংযোগ।
  • একই হোল্ডিংয়ে একক মালিকানাধীন আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে একটি মিটারের মাধ্যমে ব্যবহৃত মোট পরিমাণ থেকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অংশের জন্য বাণিজ্যিক হারে বিল করা হবে।
  • মিটারযুক্ত আবাসিক গ্রাহকের একই আঙিনায় বাণিজ্যিক সংযোগের আবেদন জানালে সে ক্ষেত্রে পৃথক মিটারের ব্যবস্থা করা হবে।

আবেদনপত্র সংগ্রহ পদ্ধতি

আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হলে নির্ধারিত ব্যাংক/কোম্পানির হিসাব শাখায় ১০০ টাকা জমা দিয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যাবে। কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কার্যালয়/গ্রাহকসেবা বুথ/ ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার/কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে আবেদনপত্রের ফি বাবদ ১০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে

আবেদনপত্র জমাদান পদ্ধতি

আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগে বেশ কয়েকটি নিয়ম আপনাকে মানতে হবে। সংগৃহীত আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে।

  • আবেদনপত্রের সঙ্গে গ্রাহকের দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন সত্যায়িত ছবি।
  • জমির মালিকানার দালিলিক প্রমাণ হিসেবে দলিল/হোল্ডিং নম্বর/পরচা/হালনাগাদ পরিশোধকৃত খাজনার রসিদ (যেকোনো একটি) ভাড়াটে হলে মালিকের সম্মতিপত্র এবং অন্যান্য বাসিন্দার (লিজ গ্রহীতা ইত্যাদি) ক্ষেত্রে নিয়মিত মাসিক গ্যাসবিল পরিশোধের অঙ্গীকারনামা।
  • প্রস্তাবিত অভ্যন্তরীণ পাইপ লাইনের দুই কপি নকশা।
  • আবেদনপত্র ক্রয়ের রসিদ।

ঠিকাদার মনোনয়নে আবেদনকারীর করণীয়

গ্যাস সংযোগ গ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তি কর্তৃক ঠিকাদার মনোনয়নে অনুসরণীয় বিষয়-

  • ঠিকাদারের তালিকা সংশ্লিষ্ট জোন/আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ে প্রদর্শন।
  • কোম্পানির তালিকাভুক্ত ১.১ শ্রেণীর ঠিকাদারের পরিচয়পত্র দেখে ঠিকাদার মনোনয়ন।
  • বিদ্যমান গ্যাস বিপণন নিয়মাবলি অনুসারে পারিশ্রমিক নির্ধারণ বিষয়ে ঠিকাদারে সঙ্গে লিখিত চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

গ্যাস সংযোগ প্রদানের ধারাবাহিক ধাপসমূহ

সংশ্লিষ্ট কোনো আঞ্চলিক অফিসে গ্রাহকসেবা বুথ/ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার, কার্যালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত সব কাগজপত্র চেকলিস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে আবেদনপত্র গ্রহণ করত একটি ক্রমিক নম্বরসংবলিত প্রাপ্ত স্বারকপত্র আবেদনকারীকে হস্তান্তর করবেন। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রদত্ত কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে তা আবেদনকারীকে তাৎক্ষণাৎ লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।

আবেদনপ্রাপ্তির পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কোম্পানির প্রতিনিধি কর্তৃক জরিপসম্পন্ন করা হবে সংযোগ কার্যক্রম অনুমোদন অথবা সংযোগ প্রদান সম্ভব না হলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে গ্রাহককে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কার্যালয় নির্ধারিত সংযোগ ফি (বর্তমানে তিন মিটার পাইপসহ দুই হাজার ৭৫০ টাকা এবং জামানত বাবদ অর্থ প্রদানসংক্রান্ত চাহিদাপত্র পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে গ্রাহককে প্রদান করতে হবে। বর্তমান নিয়ম যাতে নির্দিষ্ট হারে জামানত নির্ধারিত জমির মালিক নিজ-গ্যাস সংযোগ নিলে তিন মাসের মাসিক সমতুল্য গ্যাস বিল দিতে হবে। ভাড়াটের ক্ষেত্রে ছয় মাসের মাসিক সমতুল্য গ্যাস বিল। অন্যান্য ক্ষেত্রে এক বছরের মাসিক সমতুল্য গ্যাস বিল। গ্রাহক কর্তৃক চাহিদাপত্র অনুযায়ী ব্যাংকে অর্থ জমাদান ও ঠিকাদার নিয়োগপূর্বক নকশা প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে জমা দেওয়ার পর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কোম্পানি কর্তৃক নকশা অনুমোদন করা হবে। গ্রাহকের সরবরাহকৃত মালামাল দিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ লাইন নির্মাণ করতে হবে। গ্রাহক কর্তৃক ঠিকাদারের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নির্মাণ সম্পাদনের ওপর কোম্পানি কর্তৃক গ্যাসসংশ্লিষ্ট জোন/আঞ্চলিক কার্যালয়ে জমা দেওয়ার পর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কোম্পানি কর্তৃক নকশা অনুমোদন করা হবে। গ্রাহকের সরবরাহকৃত মালামাল দিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ লাইন নির্মাণ করতে হবে। গ্রাহক কর্তৃক ঠিকাদারের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ লাইন নির্মাণ সম্পাদনের ওপর কোম্পানি কর্তৃক গ্যাস সংযোগ প্রদানের অগ্রগতি নির্ভর করবে। নির্মিত পাইপ লাইনের চাপ পরীক্ষার লক্ষ্যে ঠিকাদার কর্তৃক টেস্ট শিডিউল জমা দিতে হবে।

গ্রাহক কর্তৃক আত্মসমাপনী প্রতিবেদন দাখিলের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কোম্পানি কর্তৃক চাপ পরীক্ষণ সম্পন্ন করা হবে। গ্রাহক সিটি করপোরেশন/পৌরসভা /ইউনিয়ন পরিষদ/সড়ক ও জনপদ এলজিইডির কাছ থেকে রাস্তা খননের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করে দাখিল করবেন। রাস্তা খননের অনুমতিপত্র পাওয়া দুই কার্যদিবসের মধ্যে গ্রাহকের সঙ্গে গ্যাস বিক্রয় চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হবে। চুক্তিপত্র সম্পাদনের পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সার্ভিস লাইন নির্মাণ করা হবে। সার্ভিস লাইন নির্মাণের তিন কার্যদিবসের মধ্যে গ্যাস সংযোগ স্থাপন ও গ্যাস লাইন নির্মাণ করা হবে। সার্ভিস লাইন নির্মাণের তিন কার্যদিবসের মধ্যে গ্যাস সংযোগ স্থাপন ও গ্যাস লাইন কমিশন করা হবে। সংযোগের প্রাক্কালে কমিশনিং কার্ড ও বিল বই কোম্পানি কর্তৃক গ্রাহককে হস্তান্তর করা হবে। কোম্পানি কর্তৃক গ্যাস সংযোগ প্রদানসংক্রান্ত তথ্যাদি কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হবে।

অভিযোগ দাখিল

অত্র সেবা নির্দেশিকায় বর্ণিত যেকোনো পর্যায়ে গ্রাহকসেবা যথাযথভাবে প্রাপ্তির গ্রাহক বঞ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান/ডিভিশন প্রধানের বরাবর অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারবে।

অভিযোগ গ্রহণকারী বিভাগ/ডিভিশনের ঠিকানা

বিভাগ/ডিভিশনকার্যালয়ের ঠিকানাটেলিফোন
মহাব্যবস্থাপক, বিপণন (উত্তর)১০৬ কাজী নজরুল ইসলাম বা/এ, ঢাকা।৮১১৯২১৩
মহাব্যবস্থাপক, বিপণন (দক্ষিণ)১০৬ কাজী নজরুল ইসলাম বা/এ, ঢাকা।৮১১১৭১৩
মহাব্যবস্থাপক, মেট্রো রাজস্ব১০৬ কাজী নজরুল ইসলাম বা/এ, ঢাকা।৯১৪৩২৯১
মহাব্যবস্থাপক, অডিট নারায়ণগঞ্জ৩৬ চাষাড়া বালুরমাঠ, নারায়ণগঞ্জ।৯৭৫০০১৮
মহাব্যবস্থাপক, অডিট (গাজীপুরবিলাশপুর, জয়দেবপুর, গাজীপুর।৯২৬২১১৮
মহাব্যবস্থাপক, অডিট (ময়মনসিংহ)দিঘারাকান্দা।০৯১৫৫৫২৫৮
মেট্রো বিক্রয় বিভাগ-১১১/৩ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল।৯৫৫৬০১৮, ৭১৬৯৩৯৭
মেট্রো রাজস্ব বিভাগ-২১১/৩ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল।৭১২৪৫১২
মেট্রো রাজস্ব বিভাগ-১ ৫০/এ টয়েনবি সার্কুলার রোড, টিকাটুলী।৭১২৪৫১২
মেট্রো বিক্রয় বিভাগ-২খ-১৯৯/২ মধ্য বাড্ডা।৯১১৮৩৬২
মেট্রো বিক্রয় বিভাগ-৩১/৫ ব্লক-এ, লালমাটিয়া।৯৮৮৪৭১
মেট্রো রাজস্ব বিভাগ-৩সেকশন-১০, ব্লক-সি, এভিনিউ-২, বাড়ি- ৩, মিরপুর, ঢাকা।৯০০৮৬৪২
অবিবি (নরসিংদী)চিনিশপুর, নরসিংদী।০৬২৮-৬২৫৪৩

অধিকাংশ গ্রাহক সেবাপ্রাপ্তির সুবিধার্থে উপরের ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারবে।

গ্যাস সংযোগ প্রদানোত্তর কার্যক্রম

বিল পরিশোধ

বিদ্যুৎ কোম্পানি (পল্লীবিদ্যুৎ, ডেসকো কিংবা অন্য কোন কোম্পানী) কর্তৃক সরবরাহকৃত বিল বইয়ের মাধ্যমে গ্রাহককে প্রতি মাসের বিল পরবর্তী মাসের ২১ তারিখের মধ্যে সারচার্জ ব্যতীত নির্দিষ্ট ব্যাংকে পরিশোধ করতে হবে। বিলের বই শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী বিলের জন্য বিল বই কোম্পানির নির্ধারিত কার্যালয়, নির্ধারিত বুথ, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারের নির্ধারিত ব্যাংক থেকে বিনা মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।

মিররযুক্ত গ্রাহকদেরকে প্রতিমাসের ১৫ তারিখের মধ্যে গ্রাহকের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো হবে। গ্রাহক সময়মতো বিল না পেলে কার্যালয় থেকে ডুপ্লিকেট বিল কপি গ্রাহক করতে পারবেন, তবে স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে গ্রাহক স্বউদ্যোগে বিল গ্রহণ করতে পারবেন। মিটারযুক্ত গ্রাহকদের মাসিক বিল ইস্যু করার তারিখ হবে (যা বিলে উল্লেখ থাকে) পরবর্তী ২১ দিনের মধ্যে কোনো প্রকার সারচার্জ ছাড়ায় বিল পরিশোধ করা যাবে।

বকেয়া বিলের ওপর সারচার্জ মিটারবিহীন গৃহস্থালির গ্রাহকদের তারিখে বিল পরিশোধ করা না হলে প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত প্রতিটি সরঞ্জামের জন্য প্রতি মাসে ১০ টাকা হারে সারচার্জ পরিশোধ করতে হবে। ছয় মাসের অধিক সময় বকেয়ার জন্য প্রতি মাসে প্রতিটি সরঞ্জামের জন্য ১৫ টাকা হারে সারচার্জ পরিশোধ করতে হবে। মিটারযুক্ত গ্রাহক কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে বিল পরিশোধ রাখা না হলে পরবর্তী পরিশোধের তারিখ পর্যন্ত বার্ষিক ১৪ শতাংশ হারে সারচার্জ পরিশোধ করতে হবে।

গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ ও পুনঃসংযোগ

তিন মাসের অধিক সময় বিল পরিশোধ করা না হলে অস্থায়ীভাবে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। পুনঃসংযোগ গ্রহণ করতে হলে গ্রাহককে বকেয়া বিলসহ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ ফি (বর্তমানে ৩০০/) ও পুনঃসংযোগ ফি বর্তমান ৩০০/- পরিশোধ করতে হবে। গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ৩০ দিনের মধ্যে পুনঃসংযোগ গ্রহণ করা না হলে সংযোগটি স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হবে।

গ্রাহক কর্তৃক যেকোনোভাবে অবৈধ সংযোগ স্থাপন করা হলে রাইডার অপসারণপূর্বক গ্যাস সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হবে। গ্রাহক কর্তৃক কমপক্ষে ছয় মাস ন্যূনতম হারে বিল পরিশোধ সাপেক্ষে গ্যাস সংযোগ অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখতে পারবে।

একই রান্নাঘরে গ্যাস সরঞ্জাম হ্রাস-বৃদ্ধি

কোম্পানিকে লিখিতভাবে অবহিত রেখে গ্রাহক ঠিকাদার নিয়োগ ব্যতিরেকে একই রান্নাঘরের মধ্যে সরঞ্জামের অবস্থান অপরিবর্তিত রেখে শুধু সরঞ্জামের ধরন পরিবর্তন করতে পারবে। সরঞ্জাম হ্রাস-বৃদ্ধির প্রয়োজন হলে গ্রাহক নির্ধারিত ফি (বর্তমানে চুলাপ্রতি ১০০ টাকাসহ) হালনাগাদ বিল পরিশোধসহ ওই কাজ সম্পাদন করতে পারবে। তবে সরঞ্জাম পরিবর্তন সম্পর্কিত তথ্য গ্রাহকের বিল বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বার্নারের অবস্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গ্রাহক কর্তৃক ১.১ শ্রেণীর ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে নতুন গ্যাস সংযোগ গ্রহণের পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক কার্য সমাধান করতে হবে।

নতুন রান্নাঘরের লাইন সম্প্রসারণ

গ্রাহক ১.১ শ্রেণীর ঠিকাদারের মাধ্যমে নকশা দাখিলসহ প্রয়োজনীয় ফি ও বকেয়া বিল পরিশোধ সাপেক্ষে বিদ্যমান হাউস লাইন সম্প্রসারণপূর্বক নতুন রান্নাঘরের গ্যাস সরঞ্জামের সংখ্যা বাড়াতে পারবে। কাজ সমাপনান্তে কোম্পানি কর্তৃক বিল বইয়ে অতিরিক্ত সরঞ্জাম সংযোজন সম্পর্কিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং গ্রাহক তদনুযায়ী পরবর্তী সময়ে বিল পরিশোধ করবে।

রাইজার হস্তান্তর

বকেয়া ও প্রযোজ্য বিল পরিশোধ সাপেক্ষে কোম্পানির অনুমোদনক্রমে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে রাইজার হস্তান্তর করা যাবে। প্রয়োজনে গ্রাহক রাস্তা খননের অনুমতিপত্র সংগ্রহপূর্বক দাখিল করবে।

মালিকানায় নাম পরিবর্তন

পূর্ব মালিক/মালিকগণের কোনো বকেয়া থাকলে তা পরিশোধপূর্বক নির্ধারিত ফি বর্তমান ৩০০ টাকা প্রদান করতে হবে। তারপর মালিকানা নাম পরিবর্তন করা যাবে। নতুন মালিকানার স্বপক্ষে সত্যায়িত করা দলিল/হোল্ডিং নম্বর/পরচা/হালনাগাদ পরিশোধকৃত খাজনার রসিদ (যেকোনো একটি) জমা দিতে হবে।

মালামাল চুরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া

রেগুলেটর আরএমএসের সরঞ্জামাদি কিংবা তার কোনো অংশ চুরি হলে বা ক্ষতি হলে গ্রাহককে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি জিডি করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ও হারানো উপকরণের মূল্য ও স্থাপিতব্য মালামালের মূল্য গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে।

অবৈধ কার্যক্রমের জন্য অতিরিক্ত বিল ও জরিমানা

কোন গ্রাহক অনুমোদিত সরঞ্জাম ব্যবহার করলে বিনা নোটিশে তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে এবং বিধিমোতাবেক অতিরিক্ত বিল ও জরিমানা আদায় করা হবে।

জরুরি সার্ভিস প্রদান

গ্যাস লিকেজ বা লিকেজ থেকে সৃষ্ট দুর্ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা বা জরুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার প্রয়োজন হলে কোম্পানির ঢাকা শহরের জন্য জরুরি গ্যাস নিয়ন্ত্রণ শাখায় যোগাযোগ করতে হবে। সার্বক্ষণিক চালু কেন্দ্রের ফোন নম্বর ৯৫৬৩৬৬৭-৭৮। আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগের আওতাধীন গ্রাহকেরা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগে যোগাযোগ করতে পারবে। 

আবিবি, নারায়ণগঞ্জ৯৭৫০০১৮
আবিবি, গাজীপুর৯২০৬২১১৮
আবিবি, নরসিংদী০৬২৮-৬২৫৪৩
আবিবি, বিআর ময়মনসিংহ০১১৫৫২৫৮

অভিযোগপ্রাপ্তির পর তা যথাযথভাবে রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। প্রাপ্ত অভিযোগ যথাসময়ে প্রতিবারে রাখার জন্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা প্রতি সপ্তাহে রেজিস্টার চেক করবে।

প্রত্যয়নপত্র

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি পঞ্জিকা বছরের বকেয়ার প্রত্যয়নপত্র ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিশোধিত সংশ্লিষ্ট জোন আঞ্চলিক কার্যালয় কর্তৃক প্রস্তুতপূর্বক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পরবর্তী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে গ্রাহকের কাছে পাঠানো হবে।

কোনো গ্রাহকের গ্যাস বিল বকেয়া থাকলে প্রত্যয়নপত্র না পেয়ে থাকলে গ্রাহক সংশ্লিষ্ট জোন/আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করে তা সংগ্রহ করতে পারবে। কোনো গ্রাহক বিল পরিশোধ করেছে অথচ প্রত্যয়নপত্রে তার বিপরীতে বকেয়া দেখানো হলে গ্রাহক পরিশোধিত বিলসহ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যয়নপত্র সংশোধন করা হবে।

গ্রাহকের জ্ঞাতব্য

গ্রাহকের করণীয় বিষয়ে কোনো পর্যায়ে বিলম্ব না হলে আবেদনপত্র গ্রহণের পর নির্ধারিত ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী গ্যাস সংযোগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ পর্যায়ে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হবে।

শামস আহমেদ

shamsahmed13@gmail.com

প্রকাশকাল: বন্ধন ৫৫ তম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৪

শামস আহমেদ
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top