‘খোকা ঘুমাল পাড়া জুড়াল, বর্গি এল দেশে।’ খোকা তো ঘুমাবেই, ঘুমানোর জন্য দরকার আলাদা কোনো জায়গা। আর এ জন্য চাই সুন্দর একটা দোলনা। ‘দোলনা’ শব্দটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই মনের পর্দায় ভেসে ওঠে মায়ের কণ্ঠে ‘দোল দোল দোলনি’ গানটি কিংবা কৈশোরের সুশীতল কোনো বটবৃক্ষের শাখায় দোলনাঘরের কথা। ‘দোলনা’ কথাটার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আমাদের ফেলা আসা শৈশবের দারুণ স্মৃতি, ভালো লাগা, ভালোবাসা। দোলনায় দুলে কেটে যায় আমাদের শৈশবের হিরণ¥য় সময়। শুধু শৈশবে কেন, জীবনের যেকোনো সময়েই দোলনা হতে পারে মানুষের সঙ্গী। বাড়ির উঠোনে কিংবা আঙিনার আমগাছের শাখে দোলনায় দুলে হোক আর বাড়ির এক চিলতে বারান্দার দোলনায় দুলে হোক কিংবা খোলা আকাশের নিচে ছাদের প্রাঙ্গণেই হোক প্রশান্তি ও আনন্দ ছুঁয়ে যাবে মনকে। পুরোনো সেই দোলনা নবরূপে আবার ফিরেছে আধুনিক অন্দরসাজে। শখের দোলনা দিয়ে সাজিয়ে তুলুন আপনার প্রিয় গৃহকোণ। এতে যেমন প্রকাশ পাবেন শৌখিনতা, তেমনি চমৎকার কাটবে আপনার অলস দুপুরের ক্লান্তিকর অবসর। সারা দিনের কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি নিমেষেই কেটে যাবে ঘরে ফিরে বারান্দায় দোল খেতে খেতে গরম চায়ে চুমুক দিয়ে। দোলনা হতে পারে গৃহসজ্জার অধুনা অনুষঙ্গও।
শৌখিন দোলনা দিয়ে কীভাবে সাজিয়ে তুলবেন আপনার গৃহকোণ ও এর চারপাশ এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্টের প্রভাষক লতিফা সুলতানা। অলস দুপুর, মনোরম বিকেল কিংবা সারা দিনের ক্লান্তিময় সময় কাটাতে পারেন দোলনায় দুলে বই পড়ে অথবা এক কাপ কফি হাতে দোলনায় এলিয়ে দিন ক্লান্ত শরীরটাকে। হালকা আলোয় যন্ত্রসংগীতের মূর্ছনা, সঙ্গে মৃদু দুলুনি-জারির মানে দুই-ই চাঙা। কিনব, কিনছি এই ভেবে আর সময় নষ্ট না করে আজই বেরিয়ে পড়ুন আপনার পছন্দের দোলনার খোঁজে। এই যেমন নিস্তব্ধ দুপুরে একলা ঘরে আপনি। দোলনায় চেপে বসুন, মুহূর্তেই যেন টাইম মেশিনে চড়ে পৌঁছে যাবেন সেই ফেলে আসা কৈশোরে। ঝলকে উঠবে স্মৃতির ঝলক।
দোলনার সে কাল-এ কাল
দুটি দড়ি আর কাঁঠাল কাঠের তক্তা বা পিঁড়ি, ব্যস গাছের মোটা ডালে ঝোলালেই তৈরি হয়ে যেত সে কালের দোলনা। সে ডালও আজ নেই, সঙ্গে সময়ও বাড়ন্ত। তাই ঘর সাজানোর বিভিন্ন দোকানই নিয়ে এসেছে আজকের গৃহস্থের উপযুক্ত দোলনা। যদি কেউ নিজের পছন্দের দোলনাটি তৈরি করে নিতে চান তাহলে পরামর্শ নিতে পারেন দক্ষ কোনো ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের; আপনার ঘরের আয়তন, চারপাশের পরিবেশের কথা মাথায় রেখে খুব সহজেই আপনাকে তৈরি করে দেবেন আপনার সাধের দোলনা।
বাড়ির চারপাশে একটু খোলামেলা জায়গা থাকলে সেখানে যদি ছোটখাটো বাগান করার সুযোগ থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। ছোটবেলার গাছের ডালে দোল খাওয়ার স্মৃতিটাই আবার ফিরিয়ে আনুন। বারান্দাটা একটু বড় হলেই এক কোণে লাগিয়ে নিতে পারেন একটি দোলনা। দিনশেষে এখানে কাটিয়ে দিতে পারেন নিজের সঙ্গে একান্ত কিছু মুহূর্ত।
দোলনা দেখলেই সবার মন আনচান করে একটু বসার জন্য। এই কাঠখোট্টা শহরে সেই বাগান, নদীর পাড়, গাছের ডাল ভাবাই যায় না! তবু কোনো পার্কে কখনোসখনো দোলনায় চোখ পড়লে এই বয়সেও মনটা দুলে ওঠে। বাড়িতেই যদি এমন একটি দোলনা টাঙিয়ে নেওয়া যেত; সে বিষয়ে কখনো ভেবেছেন কি? একটি দোলনা পুরো বাড়িটিকেই যেন প্রাণবন্ত করে তুলত। দোলনা শুধু ছোটদের জন্যই, এ কথা যেন ভুলেও ভাববেন না। এই যেমন গ্রীষ্মের স্তব্ধ দুপুরে একলা ঘরে আপনি, দোলনায় চেপে বসুন। মুহূর্তেই আপনার মন পৌঁছে যাবে সেই ফেলে আসা ছোট্টবেলার দিনগুলোতে। অথবা প্রিয়জনের প্রিয় কোনো মুহূর্তের কথা মনে পড়ে ঠোঁটের কোণে ফুটবে বাঁকা হাসি। আনন্দময় দিনগুলো যেন চোখের সামনে ভেসে উঠবে অনায়াসেই। ভালো লাগা বেড়ে যাবে বহুগুণ। সময় আর রুচির ওপর নির্ভর করে আপনার বাড়িতে ঝোলানো দোলনাটি কেমন হবে তার জন্য পরামর্শ নিন পাশে থাকা ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের কাছে।
শহরে, গ্রামে, জঙ্গলে সর্বত্রই বিচরণ দোলনার। বাড়ির উঠানে, মাঠে, ছাদে, পাহাড়ের চূড়ায়Ñ কোথায় নেই। আপনার সাধের অন্দরে কোথায়, কীভাবে দোলনা রাখবেন, জেনে নিন এ আয়োজনে।
লন
আমাদের এখানে সাধারণত দেখা যায়, গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে তার মধ্যে পিঁড়ি, ছালা অথবা কাঠের তক্তা লাগিয়ে দোলনা বানান অনেকেই। এটি সাধারণত গ্রামেই বেশি চোখে পড়ে। গ্রামের সেই প্রাণবন্ত, উচ্ছল দোলনার আমেজ আনতে কাজে লাগাতে পারেন আপনার বাড়ির সামনের লনটিকে। বাড়ির লনটি যদি বড় হয় তাহলে বড় কোনো গাছের সঙ্গে দোলনা তৈরি করে নিন দড়ি দিয়ে। আর যদি গাছের ব্যবস্থা না থাকে তবে বাড়ির সামনে খোলা লন বা উঠোন থাকলে সেই সবুজ উঠোনে একটা বড় দোলনা ঝুলিয়ে দিতে পারেন। কুয়াশা-পড়া সকাল আর গাছগাছালির মধ্যে দোলনায় দুলুনির সঙ্গে গরম কফি কিংবা চায়ের মগে চুমুক দেওয়া, সকালের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য আর কী লাগে? কিংবা শেষ বিকেলের সূর্য অস্ত যাওয়া নরম আলোয় দোল খেতে খেতে কিছুটা সময় কাটানোর জন্যও বেশ ভালো ব্যবস্থা এটি। কিন্তু শহরের বাড়িতে স্থানস্বল্পতায় এমন শখ পূরণ আদৌ কি সম্ভব! তবে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে বাড়ির ছোট লনটিকেও দিতে পারেন অসাধারণ রূপ। যেহেতু লনটি বাড়ির বাইরে তাই সেখানকার জন্য পানি নিরোধক উপাদানে তৈরি দোলনা লাগানোই ভালো। সে ক্ষেত্রে মেটাল বা আয়রনের তৈরি দোলনাগুলো অনায়াসে বাইরে রাখতে পারেন। এগুলো সাধারণত শক্ত স্ট্যান্ডের সঙ্গে ঝোলানো থাকে। এ ধরনের দোলনার উপরিভাগে থাকে পানি নিরোধক উপাদানের আস্তর। ফলে রোদ-বৃষ্টির চিন্তা থেকে থাকবেন সম্পূর্ণ মুক্ত। এসব দোলনায় সাধারণত দুজন থেকে তিনজনের বসার ব্যবস্থা থাকে। কেউ যদি একটু ক্রিয়েটিভ চিন্তা করতে চান, সেক্ষেত্রে পুরোনো টায়ার দিয়েও তৈরি করতে পারেন মজাদার দোলনা। বাচ্চাদের মন উজ্জ্বল রঙে রাঙিয়ে দিতে টায়ারের গায়ে বিভিন্ন রং করে রঙিন করে তুলুন দোলনাটিকে।
বাগান ও ছাদ
যাঁরা একটু প্রকৃতিপ্রেমী ও শৌখিন, তাঁরা ছাদে বাগান করতে ভালোবাসেন। ছাদে সবুজের ছড়াছড়ি মনে এনে দেয় প্রশান্তি। আজকাল অনেকেই ছাদের বাগানে বিভিন্ন ধরনের গাছ ড্রামে, টবে লাগিয়ে বাড়ির ভেতর বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। আর সেই বাগানে যদি থাকে একটি দোলনা, তবে তো কথাই নেই। বিকেলবেলা দোলনায় দোল খেতে খেতে বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে কার না ভালো লাগে! বর্ষাকালে দোলনায় বসে বৃষ্টির ছোঁয়ায় মনটা ভরে উঠবে আনন্দে। ছাদে দোলনা রাখার ক্ষেত্রে মেটেরিয়ালের দিকে একটু নজর রাখতে হবে। সাধারণত এসব স্থানের জন্য ব্যবহার করা ভালো বাঁশ, স্টিল ও আয়রনের দোলনা। যেহেতু জায়গাটাই অন্দরমহলের বাইরে, সেহেতু সেখানে ঝড়-বৃষ্টি, ধুলাবালু প্রবেশের আশঙ্কাই বেশি। এ ধরনের মেটেরিয়ালের দোলনা সহজেই পরিষ্কার করা যায়। গাছের ডাল কেটেও আপনি তৈরি করতে পারেন নিজের পছন্দসই দোলনা। সে ক্ষেত্রে সঙ্গে রাখুন দড়ি দিয়ে তৈরি করা দোলনা। দোলনার চারপাশে ঝুলিয়ে দিন নানা ধরনের ডেকোরেটিভ আইটেম। মাটির ঘণ্টা, হারিকেনের পাশাপাশি শিকেতেও ঝুলিয়ে দিতে পারেন এসব নান্দনিক জিনিস। ছাদে কাঠের বাইরে অন্য দোলনা ব্যবহার না করাই ভালো। পানি লাগলেই এ দোলনা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডসহ দোলনা ব্যবহার করা উচিত। যাতে আপনি দরকার হলেই সরিয়ে নিতে পারেন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়।
বারান্দা
আজকাল জায়গার অভাবে ফ্ল্যাটের আয়তন কমে আসছে। সে ক্ষেত্রে যাঁদের বারান্দা একটু বড়, তাঁরা অনায়াসে একটি দোলনা রাখতে পারেন এক কর্নারে। যদি চান কিছুদিন পরপর ঘর নিজের মনের মতো করে সাজিয়ে নিতে আসবাবপত্রের স্থান বদল করে, সেই ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডসহ দোলনা হলেই ভালো। আর যদি জায়গা না থাকে তাহলে বারান্দার ছাদ থেকে ঝুলিয়ে দিন মাঝারি সাইজের একটি দোলনা। বারান্দার জন্য বেতের অথবা বড় আয়রনের দোলনা উত্তম। আজকাল অনেক দড়ির দোলনা পাওয়া যায়, চাইলে সেই ধরনের দোলনাও বারন্দায় ঝুলিয়ে দিতে পারেন। অবসর সময়ে দোলনায় ঝুলে কিংবা শরীর এলিয়ে দিয়ে ডুবে যান বইয়ের মধ্যে। আর আপনার পছন্দমতো রং করিয়ে আশপাশ ইনডোর প্লান্ট দিয়ে সাজিয়ে রাখুন বারান্দাটি। নান্দনিকতার ছোঁয়া দিতে সংযোগ করতে পারেন বিভিন্ন ডিজাইনের পটারি। বারান্দায় যদি দড়ির দোলনা আপনার পছন্দের তালিকায় থাকে, তাহলে পুরো বারান্দায় দোলনার সঙ্গে মিল রেখে ঝুলিয়ে দিন শিকা। শিকার ভেতর রাখতে পারেন নানা ধরনের ইনডোর প্লান্টস। রাতে একটু রহস্য তৈরি করতে মাটির চাড়িতে রেখে দিন ফ্লোটিং মোমবাতি, সঙ্গে কিছু তাজা ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দিন পানিতে।
বসার ঘর কিংবা শোবার ঘর
বসার ঘর কিংবা শোবার ঘরে দোলনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু যদি উপস্থাপন করা হয় খানিকটা ব্যতিক্রমভাবে, তাহলে সেটা নজর কাড়বে যেমন, তেমনি স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টাও ঠিক থাকবে। বসার ঘর অথবা শোবার ঘরের দোলনা নির্বাচন করুন সে রুমের ফার্নিচারের সঙ্গে মিল রেখে। আপনার ফার্নিচার যদি কাঠের হয়, সে ক্ষেত্রে কাঠের দোলনা ব্যবহার করুন। অবশ্যই ঘরের রং এবং ফার্নিচারের রংকে মাথায় রেখে দোলনা নির্বাচন করুন। দোলনা সাধারণত এক কর্নারে রাখা ভালো। এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে লোকজনের যাতায়াত একটু কম, শোবার ঘরের জানালার পাশে রাখতে পারেন আপনার অবসরের এই সঙ্গীটিকে। এ ক্ষেত্রে বেতের বা দড়ির দোলনা হবে বেশি মানানসই।
বাচ্চাদের রুম
বাচ্চাদের রুমে দোলনা সাধারণত না দেওয়াই ভালো। আর যদি দিতে চান তাহলে লো-হাইটের দিতে হবে, যাতে খুব উঁচু থেকে পড়ে গিয়ে ব্যথা না পায়। বাচ্চাদের রুমে দোলনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কালারফুল দোলনা নির্বাচন করুন। যদি সম্ভব হয় তাহলে নানা ধরনের কার্টুনের থিম দিয়ে তৈরি করুন দোলনাটি। দোলনায় বসে যাতে ব্যথা না লাগে সে জন্য ফোম দিয়ে গদি তৈরি করে তার দুই পায়ে রেখে দিন কিছু ম্যাচিং কুশন। একসময় দোলনা বললে কোনো একটা জায়গায় ঝুলিয়ে রাখা ছোট খাটকেই বোঝাত। তবে সময়ের পরিবর্তনে দোলনার আকারের এসেছে বৈচিত্র্য। দোলনা পেয়েছে ভিন্ন এক মাত্রা। হয়তো আপনি শিশুকে নিয়ে বাড়ির বাইরে যাচ্ছেন, তখন চাইলেই এই দোলনাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারছেন কিংবা একটা ঘরে কাজ করছেন, আর অন্য ঘরে শুয়ে আছে ছোট্ট সোনামণি, চাইলে দোলনাটা অন্য ঘরে আপনার কাজের কাছাকাছি জায়গাতেও রাখতে পারবেন। এসব দোলনা সাধারণত ফোল্ডিং সিস্টেমের হয়।
দোলনার রকমফের
বাজারে আজকাল বিভিন্ন আকৃতির ও উপাদানের দোলনা পাওয়া যায়। আপনার ঘরের চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তবেই দোলনা নির্বাচন করুন।
রট আয়রন
এ ধরনের দোলনার স্ট্যান্ড ও আসন সবই রট আয়রনের তৈরি। এতে কারুকাজ করা হয় সরু রট দিয়ে। ডিজাইনে ফুল, লতা-পাতা, জ্যামিতিক নকশার প্রাধান্য থাকে। কিছু দোলনার নকশায় রট আয়রনের সঙ্গে কাঠের ব্যবহার করা হয়। আর আরামের জন্য আসনের জায়গায় থাকে ফোম। এই দোলনাগুলো সাধারণত চারকোনা হয়। বড়, মাঝারি আর ছোট এই তিন সাইজের পাওয়া যায়।
কাঠ
দাম কিছুটা বেশি হলেও অন্য যেকোনো দোলনা থেকে জনপ্রিয় কাঠের দোলনা। দেখতেও বেশ সুন্দর। কাঠের দোলনা সাধারণত হয় চারকোনা। তবে অনেকেই আবার পছন্দমতো ডিজাইনে অর্ডার দিয়ে তৈরি করে নেন। কাঠের ওপর খোদাই করা সূক্ষ্ম কারুকাজ করা হয় এসব দোলনায়। নকশায় ফুল ও লতার মোটিফ প্রাধান্য পায়। এ ছাড়া রয়েছে ছিমছাম ডিজাইনের দোলনাও। কাঠের দোলনা বিভিন্ন সাইজের পাওয়া যায়। কেউ চাইলে ডিজাইনার দিয়ে নিজের ঘরের আকৃতি ও পছন্দ অনুযায়ী দোলনা বানিয়ে নিতে পারেন।
বাঁশ ও বেত
বাড়িতে বাঙালি কনসেপ্টের সঙ্গে বাঁশ ও বেতের দোলনা বেশ মানানসই। এসব দোলনার সুবিধা হলো নানা আকৃতির ও হরেক রকমের পাওয়া যায়। চারকোনা, গোল আকৃতির, ছোট, বড়, মাঝারি সব ধরনের বেতের দোলনাই পাবেন বাজারে। মোটা থেকে সরু বিভিন্ন ধরনের বেত দিয়ে ডিজাইন করা হয়। বেশির ভাগ দোলনার স্ট্যান্ড থাকে। তবে স্ট্যান্ড ছাড়া ঝুলন দোলনাও পাওয়া যায়। এ ধরনের দোলনা একজনের বসার উপযোগী।
পাটের দড়ি
পাটের দড়ির দোলনাও চারকোনা, গোল আকৃতির হয়। স্ট্যান্ডসহ এবং স্ট্যান্ড ছাড়া দুই ধরনেরই হয় পাটের দোলনা, পাটের দড়ি দিয়ে বুনে তৈরি করা হয় এ ধরনের দোলনা, স্ট্যান্ড তৈরিতে ব্যবহার করা হয় বেত বা স্টিল। স্টিলের স্ট্যান্ড ও পাটের দড়ি দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়। চাক দোলনা, চেয়ার দোলনা ইত্যাদি নানা নামের হয় এ দোলনাগুলো।
ছোটদের দোলনা
নবজাত থেকে দেড় বছরের শিশুর জন্য বিভিন্ন ধরনের দোলনা বাজারে পাওয়া যায়। বাজারে প্লাস্টিক, কাঠ, স্টিল, বেত, বাঁশ ইত্যাদি উপকরণে তৈরি বিভিন্ন আকার আর নকশার দোলনা রয়েছে শিশুদের জন্য। কোনো দোলনায় আবার স্ট্যান্ডও রয়েছে। ফলে স্ট্যান্ডের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখা যায় এসব দোলনা। আবার প্রয়োজন হলে খুলেও রাখা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে রেলিং দেওয়া দোলনা নির্বাচন করা উত্তম। এতে শিশু পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। কোনো কোনো দোলনায় আবার মশারি টানানোর ব্যবস্থাও থাকে। ফলে মশার উপদ্রব থেকে মুক্তির পাশাপাশি মায়েরা থাকেন দুশ্চিন্তামুক্ত।
কোথায় পাবেন
ঢাকার পান্থপথে পাবেন নানা রকম বেতের দোলনা। পাটের দড়ির দোলনা কিনতে চাইলে যেতে হবে বিভিন্ন কারুপণ্যের দোকানে। রট আয়রনের দোলনা পাবেন ঢাকার যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকা, কাওরান বাজার, গুলশান, মিরপুরের আসবাবের দোকানে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফার্নিচার শোরুমে পাবেন নকশার দোলনা। এ ছাড়া ছোট-বড় সব ফার্নিচারের দোকানেই বিভিন্ন ডিজাইনের দোলনা পাওয়া যায়। সব ধরনের দোলনাই অর্ডার করে পছন্দমতো ডিজাইনে বানিয়ে নিতে পারবেন।
দরদাম
পাটের তৈরি বিভিন্ন ধরনের দোলনার দাম পড়বে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা। রট আয়রনের দোলনা নকশার ওপর নির্ভর করে পাবেন ৪ থেকে ১২ হাজার টাকায়। বাঁশ ও বেতের দোলনা ডিজাইনভেদে পাওয়া যাবে ৬ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। শিশুদের দোলনা পাবেন ৩ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। ১২ হাজার থেকে শুরু করে কাঠের দোলনা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
খুঁটিনাটি পরামর্শ
- শিশুদের দোলনা কেনার সময় লক্ষ রাখবেন যেন আরামদায়ক হয়।
- বাগান বা ছাদের দোলনাটিকে সাজিয়ে তুলতে পারেন কৃত্রিম লতা, ফুল দিয়ে।
- উঠোন, লন বা ছাদ যে জায়গাতেই দোলনা রাখুন না কেন, ছাউনির ব্যবস্থা রাখুন। এতে আপনি বৃষ্টিও উপভোগ করতে পারবেন নির্ঝঞ্ঝাটে।
- দোলনার আকৃতি ঘরের অন্যান্য আসবাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচন করুন।
- বাচ্চাদের দোলনাটি সাজিয়ে দিতে পারেন বিভিন্ন রকমের পুতুল কিংবা সফট টয়েস দিয়ে।
- কেউ চাইলে গাছের গুঁড়ি কিংবা মোটা কাঠ দিয়ে দোলনা বানিয়ে ঝুলিয়ে দিন শক্ত শিকল দিয়ে। নান্দনিকতার ছাপটি যেন আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠবে এতে।
- পুরোনো টায়ার দিয়েও তৈরি করে নিতে পারেন শখের দোলনা।
- চেয়ার, বেড বিভিন্ন ধরনের দোলনাও নির্বাচন করতে পারেন ঘরের ভেতর ও বাইরে।
- সোফার কভার কিংবা কুশন কভারের সঙ্গে মিল রেখে দোলনার গদি বা তোশকের কাপড় বেছে নিন বাড়তি সৌন্দর্য দিতে।
- ঘরের অনান্য আসবাবের সঙ্গে মিল রেখে দোলনায় নানা রঙের লেকার, ডুকু অথবা পেইন্ট করে নিতে পারেন।
- ঘরে নাগর দোলার আমেজ আনতে সেই ডিজাইনের দোলক তৈরি করে তাতে উজ্জ্বল রং লাগিয়ে দিন। ঘরেই পেয়ে যাবেন পার্কের আমেজ।
- ঘরের কোণ, করিডর বা যেকোনো বাড়তি অংশকেও কাজে লাগাতে পারেন দোলনা ব্যবহারে।
- টেলিভিশন দেখা যায় এ রকম স্থানে সঠিক চোখ-দূরত্বে বসাতে পারেন দোলনা। দোল খেতে খেতে পছন্দের টিভি অনুষ্ঠান উপভোগ করতে খারাপ লাগার কথা নয়।
- দোলনা যেটাই নির্বাচন করুন না কেন, সব সময় খেয়াল রাখুন সেটি যেন মজবুত এবং সঠিকভাবে স্থাপিত হয়। এবার দোল খেতে খেতে কাটুক আপনার অবসরের অফুরন্ত সময়।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ৭৯তম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৬।