নদীর মাঝে ফুটে ওঠা কংক্রিটের টিউলিপ পার্ক

প্রায় আড়াই একর জায়গাজুড়ে রয়েছে ঘোরানো হাঁটার পথ, সাজানো বাগান, আর ৭০০ আসনের একটি এম্ফিথিয়েটার। ২৬০ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল শহরের কোলাহল থেকে মানুষকে একটু শান্তির জায়গা দেওয়া। প্রতিটি কংক্রিট পাত্র আলাদা করে তৈরি করে ক্রেন দিয়ে নদীতে বসানো হয়েছে, আর গভীর পাইলিংয়ের মাধ্যমে কাঠামোটি স্থাপন করা হয়েছে। এরপর মাটি, সেচব্যবস্থা আর নানা প্রজাতির গাছ লাগিয়ে এটিকে জীবন্ত দ্বীপে রূপ দেওয়া হয়েছে।

লিটল আইল্যান্ড,নিউ ইয়র্ক সিটির হাডসন নদীর ওপর অবস্থিত মূলত এর অনন্য টিউলিপ সদৃশ স্থাপত্যের জন্য “টিউলিপ পার্ক” নামেও পরিচিত। সবুজ তথা প্রকৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে স্থাপত্য নির্মাণে স্টুডিও হিদারউইকের সুনাম বিশ্বজোড়া।

ঢালাই করা ১৩২টি মাশরুম আকৃতির প্ল্যান্টার ক্রেনের সাহায্যে কনক্রিটের ফ্রেমের উপর জ্যামিতিক ছন্দে মেলানো হয়েছে। এমনকি, ডিজাইনে ঢেউখেলানো একটা ভাব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যেন দেখে মনে হয় পানির মধ্য থেকে জেগে উঠেছে একঝাক টিউলিপ ফুল। প্রাকৃতিক ভারসাম্যতা এবং দৃষ্টিনন্দন করতে এগুলোকে সমান উচ্চতায় না বসিয়ে, বসানো হয়েছে বিভিন্ন উচ্চতায়। মূলত শহরের শিল্পকলা, সাহিত্য ও কমিউনিটি সংক্রান্ত ইভেন্টগুলোর জন্যই এই পাবলিক পার্কটি বানানো হয়েছে। যা এখন বিশ্বের সবচেয়ে ইউনিক আর ভাইরাল আরবান পার্কগুলোর একটি!

নির্মাণ ইতিহাস
বিলিয়নেয়ার ব্যারি ডিলার এবং তার স্ত্রী ডায়ান ফন ফার্স্টেনবার্গের অর্থায়নে এবং হিদারউইক স্টুডিওর ডিজাইনে এই অত্যাধুনিক পার্কটি তৈরি করা হয়েছে। এটি মূলত পুরানো পিয়ার ৫৪-এর ধ্বংসাবশেষের ওপর গড়ে তোলা হয়েছে। ২০২১ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। সে বছরের ২১ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। 
পার্কটি ১৩২টি বিশালাকার কংক্রিটের তৈরি টিউলিপ সদৃশ পটে (pots) ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই স্তম্ভগুলো পানির নিচ থেকে উঠে আসা ২৮০টি কংক্রিটের পাইলিংয়ের ওপর স্থাপিত। ব্রিটিশ স্থপতি থমাস হিদারউইক (Thomas Heatherwick) এবং তার প্রতিষ্ঠান হিদারউইক স্টুডিও এই নকশাটি তৈরি করেন। এর ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইনে কাজ করেছে এমএনএলএ (MNLA)।

tulip park

২০১৪ সালে প্রথম এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়, যা তখন ‘পিয়ার ৫৫’ (Pier 55) নামে পরিচিত ছিল। কেননা এটি হাডসন রিভার পার্কের পুরনো পিয়ার ৫৪-এর ধ্বংসাবশেষের জায়গায় তৈরি করা হয়েছে। আইনি জটিলতা এবং মামলার কারণে ২০১৭ সালে একবার এই প্রজেক্ট বাতিল করা হয়েছিল। 

পার্কটিতে প্রায় ৩৫০টিরও বেশি প্রজাতির গাছ এবং ফুল রয়েছে। 

প্রতিটি কংক্রিট পাত্র আলাদা করে তৈরি করে ক্রেন দিয়ে নদীতে বসানো হয়েছে, আর গভীর পাইলিংয়ের মাধ্যমে কাঠামোটি স্থাপন করা হয়েছে। এরপর মাটি, সেচব্যবস্থা আর নানা প্রজাতির গাছ লাগিয়ে এটিকে জীবন্ত দ্বীপে রূপ দেওয়া হয়েছে।

ঋতু আর নদীর পরিবর্তনের সাথে সাথে এই পার্কের রূপও বদলায় এ কারণেই একে বলা হয় ইন্টার‌্যাক্টিভ স্থাপত্য। এখানে কংক্রিটও যেন ফুল হয়ে ফোটে, আর শহর নেয় নতুন শ্বাস।

কাওসার আবেদীন সেতু
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top