সিলেটের পাথরকথন

পাথরের রাজ্য সিলেট। এখানকার ভূপ্রকৃতি যেমন সুন্দর, তেমনি রয়েছে অফুরান প্রাকৃতিক সম্পদ। পাহাড়ি নদী, নদীসংলগ্ন মাটির সঙ্গে মিশে থাকে নানা আকৃতির পাথর। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, গোয়াইনঘাটের জাফলং ও বিছনাকান্দি পাথরসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে খ্যাত। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী জাদুকাটা ও মাহারাম নদীতেও মেলে প্রচুর পরিমাণে পাথর। এই এলাকাগুলোতে বাংলাদেশ এবং ভারতের পাহাড় আর নদীর অপূর্ব সম্মিলন হওয়ায় প্রাকৃতিক নিয়মে উজানের পানির সঙ্গে চলে আসে পাথর। ভাটি এলাকা হওয়ায় বছরের পর বছর পাথর উত্তোলন করা হলেও পাহাড়ি ঢলে মেঘালয়ের পাহাড় থেকে উজানের পানির সঙ্গে পাথর এসে ভরে যায় কোয়ারি। এসব পাথর উত্তোলন, সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, বিপণন, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে হাজার হাজার মানুষ। মূল্যবান এসব পাথর দেশের নির্মাণকাজে রাখছে অসামান্য অবদান। সিলেটের পাথরের আদ্যোপান্ত তুলে ধরতেই এ আয়োজন।

ইতিহাসে সিলেট পাথর

ঐতিহাসিকদের ধারণা, সিলেট বা শ্রীহট্ট বহু আগে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। আরেকটি জনশ্রুতি হলো, পাথরকে বলা হয় শীলা। পাথরের প্রাচুর্যের সুবাদে এই এলাকাকে সিলেট বলা হয়। সিলেট শব্দের অনুসর্গ ‘সিল’ মানে ‘শীল’ আর উপসর্গ ‘হেট’ মানে হাট অর্থাৎ বাজার। প্রাচীনকাল থেকে এই জেলায় পাথর (শীল) ও হাটের প্রাধান্য ছিল বলে ‘শীল’ ও ‘হাট’ শব্দদ্বয় মিলে ‘সিলেট’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। ইতিহাসবিদদের মতে, সিলেট অঞ্চল পাথরের কারণে অর্থাৎ এর এত বেশি আধিক্যের কারণে নামকরণ পর্যন্ত সিলেট হয়েছে। সুতরাৎ সিলেট প্রাচীন আমল থেকেই পাথরের রাজ্য হিসেবে খ্যাত। আর এই এলাকার মানুষের এক বৃহৎ অংশের জীবিকা গড়ে উঠেছে এই পাথরকে ঘিরে।

স্থানভেদে পাথর আহরণ পদ্ধতি

ভোলাগঞ্জ

সিলেটের ভোলাগঞ্জ দেশের সর্ববৃহৎ পাথর কোয়ারির অবস্থান। ভারতের খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড় থেকে নেমে আসা ধলাই নদীর সঙ্গে প্রতিবছর বর্ষাকালে নেমে আসে প্রচুর পাথর। এই এলাকাটি দেখতে অনেকটা ব-দ্বীপের মতো। সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে এখানে পাথর আহরণ করা হয়। এই পদ্ধতিতে শ্রমিকেরা প্রথমে মাটির ওপরের বালু সরিয়ে পাথর আহরণ করে থাকে। বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে যায় এই পাথর উত্তোলনের সময়, যখন ৮ থেকে ১০ ফুট গর্ত তৈরি করা হয় ঠিক তখন পানি চলে আসে, শ্যালোমেশিন দিয়ে অপসারণ করা হয় এই পানি। আবার পুনরায় মাটি খুঁড়ে আহরণ করা হয় এই পাথর। এ ছাড়া শিবের নৌকার মাধ্যমে আহরিত হয়। এ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের উপায় হচ্ছে-একটি খালি নৌকায় শ্যালোমেশিনের ইঞ্জিন লাগানো হয়। ইঞ্জিনের পাখা পানির নিচে ঘুরতে থাকে। পাখা অনবরত ঘুরতে ঘুরতে মাটি নরম হয়ে পাথর বেরোতে থাকে। তখন ঝাঁকির সাহায্যে পাথর নৌকায় তোলা হয়। এ পদ্ধতিতে হাজারো শ্রমিক পাথর উত্তোলন করে থাকে। 

ধলাই নদীর তলদেশে থাকা পাথরের বিপুল মজুত দিয়ে ৫০ বছর চালানো যাবে এই হিসাব ধরে ১৯৬৪-৬৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে প্রকল্প। ব্রিটিশ রোপওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের আওতায় ভোলাগঞ্জ থেকে ছাতক পর্যন্ত সোয়া ১১ মাইল দীর্ঘ রোপওয়ের জন্য নির্মাণ করা হয় ১২০টি টাওয়ার এক্সক্যাভেশন প্ল্যান্ট। এক্সক্যাভেশন প্ল্যান্টের সাহায্যে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাথর উত্তোলন করা হলেও বর্তমানে এ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। আগে উত্তোলিত পাথর ভাঙা, ধোয়া ও টুকরোর আকার অনুসারে বালু, স্টোন চিপস ও ট্রাক ব্যালাস্ট ইত্যাদি শ্রেণিতে ভাগ করা হতো। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে ঠিকাদারেরা স্থানীয়ভাবে বোল্ডার পাথর ক্রয়ের পর তা ভেঙে বিভিন্ন সাইজে বিভক্ত করে।

জাফলং

প্রকৃতিকন্যা হিসেবে খ্যাত জাফলং। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে পিয়াইন নদীর তীরে এর অবস্থান। এখানে গেলেই দেখতে পাওয়া যায় স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ, যা জাফলংকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। সীমান্তের ওপারে ভারতের পাহাড়, টিলা, ডাউকি ব্রিজ এবং পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ ও হিমেল পানি সব মিলিয়ে পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় স্থান এই জাফলং। সাধারণত নদী থেকে নৌকার মাধ্যমে শ্রমিকেরা আহরণ করে থাকে এই পাথর। হাজার হাজার শ্রমিক শত শত বারকি নৌকা নিয়ে হাত দিয়ে পাথর তুলে স্তূপ করে রাখে। আবার কেউ কেউ শক্তিশালী বোমামেশিনের মাধ্যমে ২০ থেকে ২৫ ফুট গর্ত করে আহরণ করছে পাথর। তবে বর্তমানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অনেকটা বন্ধ রয়েছে এখানের বোমামেশিনের ব্যবহার।

বিছনাকান্দি

ভোলাগঞ্জ এবং জাফলংয়ের মতো বিছনাকান্দিও পাথরের রাজ্য হিসেবে খ্যাত। বাংলাদেশ এবং ভারতের সীমান্তবর্তী সুন্দর একটি গ্রামের নাম বিছনাকান্দি। নদী এবং পাহাড়ের নজরকাড়া সৌন্দর্যের মধ্যে অবস্থিত প্রকৃতির এই অপরূপ লীলাভূমির উভয় প্রান্ত থেকে খাসিয়া পাহাড় এসে যুক্ত হয়েছে। এখানে স্বচ্ছ আর হিমশীতল পানির নিচে মনে হবে শত শত পাথরের মেলা বসেছে। এখানেও ছোট ছোট নৌকার মাধ্যমে নদী থেকে পাথর উত্তোলন করা হয়। 

পাথর ব্যবস্থাপনা

উত্তোলিত বিভিন্ন সাইজের পাথর আলাদা আলাদা করে স্তূপ করে রাখা হয়। ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের পাথরগুলো চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করা হয়। তবে বড় আকারের পাথর ভাঙার জন্য ব্যবহার করা হয় পাথর ভাঙার মেশিন (স্টোন ক্র্যাশার)। এই যন্ত্রের সাহায্যে পাথর ভেঙে নির্ধারিত সাইজ করে বাংলাদেশের সর্বত্র সরবরাহ করা হয়। 

সিলেট প্রতিদিন

পাথরশ্রমিকদের জীবনের গল্প

শত শত নৌকা সিলেটের বিভিন্ন নদীতে ভেসে বেড়ায়। এসব নৌকায় থাকা হাজার হাজার শ্রমিক পাথর সংগ্রহ করে। প্রতি ঘাটে প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শ্রমিকেরা জীবিকার তাগিদে এ অঞ্চলে এসে হাজির হয়। সাধারণত শ্রমিকেরা ডুব দিয়ে পাথর সংগ্রহ করে নৌকা বোঝাই করে। এরপর তা পাড়ে এনে মহাজনদের নির্ধারিত স্থানে জড়ো করে। সেখান থেকে অন্য শ্রমিকেরা মাথায় করে ক্র্যাশার মেশিনের কাছে নিয়ে আসে। ঝুঁড়িবোঝাই পাথর অত্যন্ত ভারী। এগুলো ওপরে তুলতে গিয়ে কোনো রকমে পা ফসকালেই বিপদ। খুব সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত কাজ করে তারা দিনপ্রতি হাজিরা পায় ৫০০-৬০০ টাকা।

এসব পাথরশ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে শ্রমিক থেকে মহাজন বা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বনে গেছেন। তবে সাধারণ পাথরশ্রমিকদের অবস্থা খুবই করুণ। বর্তমানে পাথরের অপ্রতুলতার কারণে ভারত থেকে (আসাম, মেঘালয়) পাথর আমদানি করছে আমদানিকারকেরা। যার ফলে আগের মতো কাজ করার সুযোগ হয় না অনেক পাথরশ্রমিকের। অনাহারে কাটছে তাদের জীবন। সপ্তাহে ৩ দিন কাজ পেলে ৪ দিন অলস সময় পার করছে অনেকেই। অনেক পাথর শ্রমিকের দেখা মিলল, যারা কাজের জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে এলেও কোনো কাজ পায় না। মহাজনের সঙ্গে যাদের ভালো সম্পর্ক, কেবল তারাই কাজের সুযোগ পায় প্রতিদিন। 

পরিবেশ বিপর্যয়

সিলেটের পাথর একদিকে যেমন দেশের নির্মাণকাজ ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব রাখছে, অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে নিয়মনীতি না মেনে অতিরিক্ত পরিমাণে পাথর উত্তোলন করায় পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া যন্ত্রের সহায়তায় উন্মুক্তভাবে পাথর ভাঙার কারণে পাথরের গুঁড়া আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে বায়ুদূষণসহ মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসকে ব্যাহত করছে। সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে নদী থেকে যার যার ইচ্ছেমতো পাথর উত্তোলন নদীর জীব আর উদ্ভিদবৈচিত্র্যকে করে তুলেছে হুমকির সম্মুখীন। এ ছাড়া অনুমোদনহীনভাবে ৩০-৭০ ফুট গর্ত করে পাথর উত্তোলন নদী এবং নদী অববাহিকার ভূমিকে করছে হুমকির সম্মুখীন। তা ছাড়া উজান থেকে নেমে আসা পাথর আর বালুতে সয়লাব হয়ে যাওয়ায় পিয়াইন নদীর নাব্যতা কমে গেছে। ফলে হঠাৎই উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিকটবর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা।

এ মুহূর্তে সিলেটের পাথরের পর্যাপ্ততা কমে যাওয়ার কারণ পাথর উত্তোলনের জন্য নিষিদ্ধ শ্যালোমেশিন ও বোমামেশিনের ব্যবহার, যা পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। পরিবেশবিনাশী ক্ষতিকর এই মেশিন ব্যবহার করে মাটির নিচের পাথর উত্তোলনের ফলে পাথরের রাজ্য আমরা আজ হারাতে বসেছি। বোমামেশিন দিয়ে নদী থেকে পাথর উত্তোলনের কারণে ২০১২ সালে স্থানীয় পিয়াইন নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বিপুল সম্পদের অপচয়সহ যা বহুমুখী পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম উদাহরণ। একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভোলাগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, জাফলং, বিছনাকান্দি, শাহ আরেফিন টিলাসহ সিলেটের বিভিন্ন স্থান। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্তে¡ও থামানো যাচ্ছে না এর ব্যবহার। এ জন্য প্রায়ই প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর বোমামেশিন ধ্বংস করতে অভিযান চালায়। সরকারি নানা তৎপরতায় এই মেশিনের ব্যবহার অনেকটাই কমে এসেছে। তবে বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চলে লুকিয়ে চলছে এই মেশিনের ব্যবহার।

পাথর উত্তোলনের আরেকটি ভয়াবহ দিক হচ্ছে অপরিকল্পিত ও মাত্রাতিরিক্ত পাথর উত্তোলনের ফলে মৃত্যুর উপত্যকায় পরিণত হয়েছে পাথর কোয়ারিগুলো। নির্বিচারে প্রকৃতি উজাড় করে দেওয়ার কারণে প্রকৃতি এখন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো হয়ে পড়ছে বিরানভূমি। গর্তে ভরে গেছে চারদিক। বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় মানুষের পূর্বপুরুষের ভিটেতে গর্ত করে পাথর তুলছে পাথরখেকোরা। অতিরিক্ত টাকার লোভ দেখিয়ে অনভিজ্ঞ শ্রমিকদের মাটির গভীরে নামিয়ে পাথর তোলা হচ্ছে। শ্রমিকদের লোভ দেখানো হয়, কোয়ারির যত গভীরে যাবে, মজুরিও তত বেশি পাবে। টাকার লোভে কোয়ারির গর্তে নেমে পাহাড় খোঁড়েন শ্রমিকেরা। পাহাড় কেটে পাথর নিয়ে ওপরে আসার সময় পাড় ধসে প্রাণ হারায় তারা। প্রশাসনের নজর এড়াতে রাতের আঁধারে এ কাজটি করা হয়। দীর্ঘদিন কোয়ারি থেকে পাথর তোলার কারণে কোয়ারি কিংবা টিলার ওপরে পাথরের স্তূপ নেই। এখানে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল আকারের গর্ত। একেকটি গর্ত ২০০-৩০০ ফুট গভীর। 

পর্যটনে বাধা

অস্বাভাবিক হারে পাথর উত্তোলনের কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি দেশীয় পর্যটনে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। পাথর কোয়ারি এলাকায় একসময় সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন চলত। পানিতে নেমে হাত দিয়ে পাথর উত্তোলনের কর্মযজ্ঞে তখন হাজার হাজার পাথরশ্রমিক আর বারকি নৌকার আনাগোনা ছিল। প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি হতো কম। পাথর তোলার এমন দৃশ্য পর্যটকদের কাছেও বেশ উপভোগ্য ছিল। কিন্তু কম সময়ে অনেক বেশি পাথর তোলার জন্য একশ্রেণির অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা যখন বোমামেশিনের ব্যবহার শুরু করে। বড় বড় পাইপ দিয়ে মাটির প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট গভীর থেকে পাওয়ার পাম্পযন্ত্রের মাধ্যমে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। বোমামেশিনের বিকট শব্দে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। এ ছাড়া পাথর পরিবহনে ব্যবহার করা হয় ট্রাক। প্রতিদিন হাজার হাজার পাথরবোঝাই ট্রাক রাস্তা দিয়ে চলাচল করার কারণে রাস্তার এখন বেহাল দশা। এসব সড়কে চলাচলে ভোগান্তির শেষ থাকে না। যার ফলে পর্যটকেরা ভ্রমণে আর আগের মতো আগ্রহী নন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই মুহূর্তে যদি কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে একসময় পর্যটনশূন্য হয়ে পড়বে জাফলং। 

ওয়েব বেঙ্গল

সিলেট পাথরের ধরন ও দাম

স্থানীয়দের ভাষায় বোল্ডার স্টোন ও সিঙ্গেল স্টোন নামে পরিচিত মূলত সিলেট থেকে এই দুই ধরনের পাথর সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। পাথর ব্যবসায়ীরা তাঁদের সুবিধার জন্য যে স্থানে পাথর পাওয়া যায় সেই স্থানে (স্পটে) পাথর বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা মূলত স্পটে থাকা পাথর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাথর ক্রয় করে থাকেন। এ ছাড়া সিলেট শহর তথা ঢাকা থেকেও অনেক ক্রেতা পাথর ক্রয় করে থাকে। স্থানভেদে পাথরের দামের তারতম্য হয়ে থাকে। সিলেটের বিভিন্ন স্পট সেলিং পয়েন্টে আপনি পাথর কিনতে এলে মূলত বোল্ডার পাথরের দাম পড়বে প্রতি সেফটি ৭০ থেকে ৮০ টাকার মতো, আর সিঙ্গেল পাথরের দাম পড়বে প্রতি সেফটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পাথর আপনার কাছে পৌঁছানোর জন্য আপনাকে সহযোগিতা করবে বিভিন্ন কোম্পানির ট্রাক, দরদাম করে আপনি পছন্দমতো ট্রাক বেছে নিতে পারবেন। স্পট ব্যতীত আপনি সিলেট শহরের বিভিন্ন জায়গায় পাথরের স্টোর থেকে পাথর ক্রয় করতে পারবেন। তবে দাম একটু বেশিই পড়বে। বোল্ডার প্রতি সেফটি ৮০ থেকে ৯০ টাকার মতো। আর সিঙ্গেল পাথরের দাম পড়বে ৬০ থেকে ৭৫ টাকার মধ্যে। ঢাকা থেকেও আপনি পাথর সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে দাম অবশ্যই আপনাকে বেশি দিতে হবে। কারণ, এই পাথর সিলেট থেকে সরবরাহ করার জন্য পরিবহন খরচ ধরেই আপনার কাছে বিক্রি করবেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকাতে প্রতি সেফটি বোল্ডার পাথরের দাম পড়বে ১০০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে। আর সিঙ্গেল পাথরের দাম পড়বে ৯৫ থেকে ১১০ টাকার মধ্য। 

পাথর ক্রয়ের স্থান

সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে আপনি পাথর কিনতে পারবেন। জাফলং, বিছানাকান্দি, ভোলাগঞ্জ ও শ্রীপুর পাথর কোয়ারিসহ আরও অনেক পাথরের স্পটে গিয়ে আপনি পাথর ক্রয় করতে পারবেন। এ ছাড়া সিলেট শহরের আম্বরখানা, দরগাগেট, জিন্দাবাজার, শিবগঞ্জ, টিলাগর, সুবিদবাজার, শাহি ঈদগা, কাজিটোলাসহ অন্যান্য জায়গায় এলে আপনি খুব সহজে পাথর কিনতে পারবেন।

প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১০৯তম সংখ্যা, মে ২০১৯

তাওহীদ রাসেল
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top