কণ্ঠশিল্পী সামিনা চৌধুরী। সপরিবারে থাকেন ঢাকার ধানমন্ডিতে নিজের ফ্ল্যাটে। ঘরে ঢুকতে প্রথমেই চোখ আটকে যায় সেগুন কাঠের দরজার উপর স্টিলের পাত দিয়ে করা কারুকার্যে। ভাবনাটা সরল কিন্তু দর্শনদারিটা অসাধারণ। দরজার ডান দিকে তাকালেই চোখ পড়বে একটি বড় আয়নায়। এ আয়নাটির চারদিকে আলপনা এঁকেছেন সামিনার ছোট বোন অন্তরা। বাসার ভেতরেও রয়েছে ছোট বড় এবং নানান ডিজাইনের রকমারি আয়না। চলুন ঘুরে আসি শিল্পী সামিনা চৌধুরীর অন্দরমহলে।
দেয়াল
বাসায় প্রতিটি রুমেই আলাদা রঙ ও ঢঙের দেয়াল। দেয়ালগুলো টাইলসের। বসার ঘরে শুভ্রতা ও বড় দেখাতে ব্যবহার করা হয়েছে সফেদ সাদা টাইলস। তবে বসার ঘর থেকে বাড়ির যতটা অংশে চোখ যায় ততটা শ্বেত শুভ্র সাদা। খাবার ঘরটা বসার ঘর সংলগ্ন। রান্নাঘরের দেয়াল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে একপাশে ব্যবহার করা হয়েছে হালকা সবুজ ও গাঢ় নীল রঙ। অন্য পাশে গাঢ় লাল রঙ।
বসার ঘর
বসার ঘরে চার ডিজাইনের চার সেট সোফা। সবগুলোই হয় বাঁশ নয়তো বেতের তৈরি। একটি বক্স আকৃতির, দুটি দেখতে চেয়ারের মতো, অন্যটি প্লেট আকৃতির। সোফার সামনে চারপাশে বাঁশ দিয়ে বাঁধানো ছোট্ট একটি লো-হাইট টেবিল। সোফার উপর গাছমা দিয়ে মোড়ানো ছোট তিনটি বালিশ। পাশে রাজকীয় কারুকার্য খচিত ফ্ল্যাট বেড যার ওপরে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র শোভা পাচ্ছে। বসার ঘরের মাঝামাঝি লো-হাইট বেতের বক্সের উপর টেলিভিশন সেটটি বেশ মানানসই। কারণ বসার জন্য সামনে সিঙ্গেলভাবে লো-হাইট সোফা বসানো হয়েছে। সেন্ট্রাল টেবিল মেটালের উপর কাচ দিয়ে তৈরি। এটির উপর নকশাদার কিছু শো-পিস রুমের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। এই রুমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছোট বক্সের উপর মাটির তৈজসপত্র, টিস্যু বক্স, ফুলদানি, ছবির ফ্রেম রয়েছে। টেলিভিশনের উপরের দিকে দেয়ালের সঙ্গে লাগানো কেবিনেটে সারি সারি করে সাজানো রয়েছে বিখ্যাত এ শিল্পীর অর্জিত অ্যাওয়ার্ডগুলো। রুমের এক কোণে টবসহ একটি গাছ আর এক পাশে খড়ের তৈরি ছাতা। হাতলটি মোটা বাঁশের এবং ওই বাঁশের সঙ্গে শিকের ভেতর মাটির হাঁড়ি, হারিকেন, মাছের খালুই ও টিপ বসানো পাখা রয়েছে। দেয়ালের ফাঁকা অংশে বড় তৈলচিত্র স্থান পেয়েছে। এ কক্ষের জানালাগুলো সাদা আর লাল রঙের মিশেলে করা পর্দা দিয়ে ঢাকা। তবে পর্দার উপরে বাঁশের চটা দিয়ে বানানো মাদুর ঝোলানো হয়েছে। সঙ্গে আছে কাদামাটির তৈরি ঝাড়বাতি এবং ফ্লোরে রয়েছে বিভিন্ন রঙের পাপোশ।
রান্নাঘর
ঘরের রঙটা লাল-সাদা। দুটি লাল-সাদা কিচেন কেবিনেট, যার মধ্যে সাজানো রয়েছে রান্নার প্রয়োজনীয় উপকরণ। একটি কেবিনেটের নিচে কয়েকটি আংটায় হাতলযুক্ত মগ ঝোলানো। তার নিচে কালো প্লান্টের উপর একটি হিটার, দুটি মাইক্রো ওভেন, ব্লেন্ডার মেশিন, ঝুড়ি, বাসনকোসন ইত্যাদি। অন্য কেবিনেটের নিচে আংটার সঙ্গে চামচ ঝোলানো, নিচে রয়েছে গ্যাসের চুলা। এক প্রান্তে একটি পারিবারিক ছবিসহ ফ্রেম। বাসনকোসনের মধ্যে কাঠ ও মাটির তৈরি উপকরণও রয়েছে।
খাবার ঘর
খাবার ঘরে রয়েছে কাঠের চারটি চেয়ার ও একটি চারকোনা টেবিল। তবে প্রয়োজন মতো এই টেবিল বড় করা যায়। টেবিলের উপরে মাটির তৈরি শো-পিস। চেয়ারগুলো কাঠের হলেও তার উপর সাদা-কালো কভারে মোড়ানো ফোম বিছানো। টেবিলের এক পাশে কাঠের তাক, যার উপর পানির ফিল্টার। আর প্রতিটি তাকে রয়েছে বিভিন্ন আচার ও মসলাজাতীয় দ্রব্য। আর দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় শিকেয় ঝোলানো মাটির নানান উপকরণ। এমনকি প্রতিটি রুমে ঢোকার স্থলেও মাটির নকশাদার শো-পিস ঝোলানো রয়েছে। রান্নাঘর থেকে খাবার ঘরে ঢোকার দরজায় একটি টেলিফোন সেট ঝোলানো, আর ফ্লোরে রাখা একটি লতা-পাতার আদলে নকশা করা ল্যাম্পপোস্ট।
রেওয়াজ ঘর
খাবার ঘরের পাশে চিলেকোঠার মতো চাপা জায়গাটাই রেওয়াজ ঘর। এখানে আছে বাদ্যযন্ত্র, ক্যাসেট প্লেয়ার, রেকর্ডার। এক কোণে চটি দিয়ে বানানো দানি, যার মধ্যে ঝাড়–র মতো জিনিস সাজানো। জানালায় পর্দা হিসেবে বাঁশের চটি দিয়ে বানানো পর্দা ব্যবহার করা হয়েছে। তার উপর তাঁতের কাপড় ঝুলানো, যাতে আটকে দেওয়া হয়েছে কৃষকের মাথাল। দেয়ালে ঝুলানো রয়েছে ল্যাম্পপোস্ট, বড় চিত্রকর্ম ইত্যাদি। ফ্লোরে লাল কাপড় বিছানো, তার উপর বালিশ দেওয়া আছে। ফাঁকা জায়গায় ফ্ল্যাট ফোমের উপর শিল্পী রেওয়াজ করেন। ওই ফোমের উপরেই বাদ্যযন্ত্রগুলো সাজানো। এ কক্ষের অপর পাশে রয়েছে একটি ওয়ার্ডরোব। এখানে রাখা হয় প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। আর এর দেয়ালের উপর তিনটি কাঠের দৃষ্টিনন্দন ফটোফ্রেম।
বেড রুম
ঘরটা যেহেতু ছোট তাই কোনো আসবাবপত্র রাখা হয়নি। ঢুকতেই ডান দিকে একটি বেড, তার ডানের দেয়াল জুড়ে প্লাস্টিকের বোর্ড দিয়ে তৈরি কেবিনেট। এর মধ্যে রাখা আছে শাড়ি-চুড়ি থেকে শুরু করে কাঁথা-বালিশ এবং ছেলেমেয়েদের কাপড়।
জোবায়ের রুবেল
প্রকাশকাল: বন্ধন ২৪ তম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১২