সুমাইয়া শিমুর অন্দরমহলে

সুঅভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু তার চমৎকার অভিনয়ের জন্য দারুণ জনপ্রিয়। বনানীর এয়ারপোর্ট রোড সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটে থাকেন এ অভিনেত্রী। অভিনয়ে খুব বেশি ব্যস্ত থাকার পরও নিজের ঘরকে সাজিয়েছেন নান্দনিক সৌন্দর্যে।

সদর দরজা দিয়ে ঢুকতে প্রথমেই চোখ আটকে যায় ফয়ারে রাখা কনসোল টেবিল সাথে কারুকার্যময় আয়নাটিতে। আয়নাটি শুধু সৌন্দর্যবর্ধনই করেনি বরং জায়গাটির পরিসরকে বড় করে তুলেছে। টেবিলে রাখা টেবিল ল্যাম্পের আলো আর ফলস সিলিংয়ের আলোর লুকোচুরি খেলা পরিবেশকে করে তুলেছে আসাধারণ, মায়াময়। 

বসার ঘর

বসার ঘরে  ব্যবহার করা হয়েছে নানা ধরনের কারুকার্যময় এন্টিক লুকের সোফা। ফয়ার থেকে রুমটিকে আলাদা করতে তৈরি করা হয়েছে ফলস দেয়াল। এ ঘরের আকর্ষণীয় দিক হলো উডেন পার্টিশান, সাথে ডেকোরেটিভ সাদা গ্লাসের উপর অসাধারণ এ্যাচিং এর কাজ। ঘরটাতে একটু রাফ লুক আনতে একটি দেয়ালে ব্যবহার করা হয়েছে রেডি ¯েøটস্টোন। বসার ঘরের সাজ সম্পর্কে সুমাইয়া শিমু একটু ডার্ক লেকার রংকেই প্রাধান্য দিয়েছেন আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে। যেহেতু ঘর পর্যন্ত আলোর ব্যবস্থা ছিল না তাই পুরো ঘর জুড়েই সাজানো হয়েছে ফলস সিলিং সাথে স্পট ক্রিস্টালের ঝাড় বাতি দিয়ে। বিভিন্ন জায়গায় স্পট লাইটের আলো তৈরি করেছে নানা ধরনের রহস্যময় পরিবেশ। জানালা সাজানো হয়েছে দুই লেয়ারের ম্যাচিং পর্দা দিয়ে। ঘরের এক কর্নারে শোকেসে শোভা পাচ্ছে নানা ধরনের শোপিস। ঘরের বিভিন্ন কর্নারে, টেবিলের ওপর রাখা হয়েছে বিভিন্ন দেশে থেকে সংগ্রহ করে আনা ডেকোরেটিভ আইটেম। এছাড়াও দেয়ালের শোভাবর্ধন করছে অসাধারণ এক পেইটিং।  

খাবার ঘর

খাবার ঘরে সবুজের ছোঁয়া আনতে দোয়ালের একটি অংশে ব্যবহার করা হয়েছে শ্যাওলা রং এর লাইমস্টোন। রড আয়নের স্ট্যান্ডের সাথে ঘরটিতে ইনডোর প্লান্টস শুধু প্রকৃতির ছোঁয়াই দেয়নি পাশাপাশি ঘরটিতে দিয়েছে প্রশান্তি। দেয়ালটিতে আলোর খেলা তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে ভিন্ন ধরনের লাইট। রাজস্থান থেকে আনা ওয়াল আর্ট বহন করছে আভিজাত্যের ছোয়া। আসবাবপত্রের সাথে মিল রেখে ডাইনিং রুমে চেয়ার এবং টেবিলে প্রাধান্য পেয়েছে কারুকার্যখচিত কাঠের কাজ। খাবার টেবিলের অপর দিকের ফলস দেয়ালের পাঞ্চে শোভা পাচ্ছে মজার সব শোপিস । 

ফ্যামিলি লিভিং

ডাইনিং রুম থেকে ফ্যামিলি লিভিংকে আলাদা করার জন্য ঘরের বিমের সাথে তৈরি করা হয়েছে ফলস সিলিং। সিলিং থেকে বের হওয়া ডিফিউজ আলোর ব্যবহার ঘরকে আরো উজ্জ্বল করতে সহায়তা করেছে। যেহেতু ফ্যামিলি লিভিং তাই এটাকে আড্ডা বা অবসর কাটানোর ঘর বললেও খুব একটা ভুল হবে না। ঘরের একটি দেয়ালে কর্নমিক্স ও টেরাকোটার মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ শুধু দৃষ্টিনন্দনই না দেশীয়ও আমেজও বহন করছে কিছুটা। দেয়ালজুড়ে এলসিডি নিচে লো হাইট ক্যাবিনেট এবং মিউজিক সিস্টেম। এই ঘরের সোভার কভারের  রং এর সাথে সামঞ্জস্য রেখেই নির্বাচন করে হয়েছে ঘরের পর্দা। এক কর্নারে গ্রান্ডÍ মাস্টার ক্লক (ঘড়ি) মনে করিয়ে দেয় লন্ডনের ঐতিহ্যকে। 

শোবার ঘর

শোবার ঘরের খাটটিতে রয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকের ডিজাইন। খাটের ডিজাইন এর সাথে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে ফুলহাইট কেবিনেট। ঘরের স্নিগ্ধতা বাজায় রাখতে জানালায় অফহোয়াইট রংয়ের পর্দা ব্যবহৃত হয়েছে। একটু ভিন্ন আমেজ আনতে ড্রেসিং টেবিলের দেয়ালটিতে ব্যবহার করা হয়েছে হালকা হলুদ রং। ফলস সিলিং তৈরি করে সেখানে থেকে দেয়ালে ফেলা হয়েছে আলোর নানা ধরনের প্রতিফলন। ঘরের এক কর্নারে খালি জায়গাতে শেলফ করে তাতে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুলদানি। ইনডোর প্লান্টস যোগ করেছে বাড়তি সৌন্দর্য।

অতিথি ঘর

অতিথি আপ্যায়নের কথা মাথায় রেখে ঘরটিকে সাজানো হয়েছে নান্দনিক ও ছিমাছামভাবে। একপাশে বেড আর অপর পাশে ডিভান ঘরটিকে রাঙিয়েছে ক্যানভাসের রঙে। বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করতে ফ্লোরে আড্ডার জন্য ফেলে রাখা হয়েছে নানা ধরনের কুশন। দেয়ালের রয়েছে কয়েকটি পেইটিং এর কম্পোজিশন। সিলিং থেকে ঝুলানো ল্যাম্পের আলো এবং কাঠ রংয়ের ফলস সিলিং সব মিলিয়ে পুরো ঘরটিই হয়ে উঠেছে ওয়েলকামিং। অবসরের এক ঘেয়েমি কাটাতে অতিথিদের জন্য একটি রিডিং টেবিলের ব্যবস্থা ঘরটিতে এনে দিয়েছে  আন্তরিকতার ছোঁয়া।

রান্নাঘর

অফহোয়াইট রংয়ের টাইলসের সাথে ফুলহাইট ডার্ক রংয়ের ক্যাবিনেট শুধু সৌন্দর্যই বহন করে না বরং পাশাপাশি মিটিয়েছে প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করার ব্যবস্থা। কাচের পাল্লা দিয়ে দেখা যাচ্ছে সুসজ্জিত করে সাজানো  বিভিন্ন ধরনের কাপ, মগ এবং ক্রোকারিজ জিনিসপত্র। একটি দেয়ালে মুভেবল ক্যাবিনেট করে রাখা হয়েছে ওভেন, ব্লান্ডার মেশিন, স্যান্ডউইচ  মেশিন ইত্যাদি। যেহেতু ফুল হাইট কেবিনেট তাই বন্ধ পাল্লা যাতে একঘেয়ামি সৃষ্টি না করে সেজন্য কিছু কিছু অংশে ব্যবহার করা হয়েছে গ্লাস পাল্লা। উপরের কেবিনেটের নিচের অংশে ব্যবহার করা হয়েছে স্পট লাইট। এটা শুধু সৌন্দর্যের কথা মনে রেখে করা হয়নি মূলত রাতে রান্নার সময় যাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকে সেই কথাকেও চিন্তা করে করা হয়েছে অভিনব ক্যাবিনেট। সহজে যাতে ময়লা না আটকায় তাই কেবিনেটে লেকার পলিশকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে সাথে অত্যাধুনিক কিচেন হুড। 

বারান্দা

গাছপ্রেমি সুমাইয়া শিমু। তার আন্দরমহলে প্রকৃতির ছোঁয়ার বিশেষ অংশ হলো বারান্দা। বিভিন্ন ধরনের টবে, ফ্লোরে রাখা, ঝুলানো, স্ট্যান্ডে দাড় করনো বা গ্রিল দিয়ে বায়ানো হয়েছে নানা ধরনে ইনডোর প্লান্ট। ঝুলানো গাছগুলোর টব হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে শামুক, ঝিনুক এবং বিভিন্ন প্রাণীর শিং কে।

রংবেবং

পুরো বাসার রংয়ের ক্ষেত্রে অফহোয়াইটকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। অফহোয়াইটের সাথে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ এর কম্বিনেশন করতে ঘরের বিভিন্ন দেয়ালে বিভিন্ন রং, স্টোন, কর্নমিক্স এবং টেরাকোটাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। যেহেতু ঘরের রং হালকা তাই পুরো অন্দরমহলের আসবাবপত্র কারুকার্যখচিত এবং লেকার পলিশ করা হয়েছে। ঘরের আসবাবপত্রের সাথেই মিল রেখে নির্বাচন করা হয়েছে ঘরের পর্দা। 

ফারজানা গাজী

প্রকাশকাল: বন্ধন ২৫ তম সংখ্যা, মে ২০১২

+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top